বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ধারাবাহিকতা আছে। যেই যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবন, অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে যখন ক্ষমতায় থাকে তখন সে তার সিদ্ধান্ত মতো সব করতে পারে। অবশেষে একধরণের জোর পূর্বক শাপলা দেওয়া হচ্ছে এনসিপিকে। দীর্ঘ আলোচনা হলেও এনসিপির প্রতীক কি হবে তা ঠিক করা যায়নি। ৫০ টি প্রতীকের লিস্ট দিয়ে ৭ দিন সময় দেওয়া হলেও তারা কিছু জানায়নি। তারা তাদের শাপলা প্রতীকেই অনড়। তারা তাদের নির্বাচন শাপলা প্রতীকেই চায়। অতঃপর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এনসিপিকে শাপলা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতীকের যে গেজেট তাতে শাপলা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছ। এখন প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক জায়গায় শাপলা ব্যবহার হওয়ার পরেও কেন এনসিপিকে শাপলা দেওয়া হচ্ছে ? সিদ্ধান্তটি ঠিক না ভুল তা সিদ্ধান্ত নেবেন জনগণ।
সূত্রের খবর, ইসির প্রকাশিত গেজেটে শাপলা প্রতীকে না থাকলেও এনসিপির আবেদন করা কাঙ্খিত শাপলা প্রতীক নতুন করে যুক্ত করবে ইসি। পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে ইসিকে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইসির থেকে চিঠি পাওয়ার পর এনসিপি শাপলা বরাদ্দের জন্য আবারও আবেদন জানায়। তারা জানিয়ে দিয়েছে অন্য প্রতীকে তারা রাজি নয়। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রসিম জানান, শাপলা সম্পর্কে ইসির সাথে তাদের কথা ধারাবায়িক। শাপলা শুধু একটি প্রতীক নয় এটি জনগণের সাথে যোগাযোগের একটি মাধ্যম পাশাপাশি এটি রাজনৈতিক ও সংস্কৃতির প্রতীক।
অন্যদিকে, বিএনপি ও জামায়াত ই ইসলাম সহ বিভিন্ন দল এনসিপিকে শাপলা দেয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না কিছুদিন আগে বলেছিলেন, তার দল শাপলা চেয়েছিলো কিন্তু পায়নি। তাই শাপলা প্রতীকটি এনসিপিকে দেওয়া হলে তার দল মামলা না করলেও আপত্তি জানাবে। এই দলগুলি কি একবার ভাবছেনা ? যে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক শাপলা। এছাড়াও শাপলা রয়েছে বিভিন্ন সামরিক বাহিনী যেমন বিমানবাহিনীর লোগোতে, সেনাবাহিনীর লোগোতে, নৌ বাহিনীর লোগো সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রয়েছে শাপলা। তাই কোনো নির্দিষ্ট দলকে শাপলা দেওয়া হলে সেইটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হতে পারে। যার ফলে একটি খারাপ পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে।
অবশ্য এবিষয়ে বিএনপির সাপোর্ট করার যুক্তিগত কারণ রয়েছে। কারণ বিএনপির প্রতীক ধানের সিস এবং বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে শাপলার একপাশে ধানের সিস আছে। বিএনপির এই প্রতীক নিয়ে আগেও বহু কাটা চেরা হয়েছিল। তাই তারা ভাবছে এনসিপিকে শাপলা দিলে তাদের ধানের সিস্ নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন উঠবেনা।
এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিন দলের ৬ জনকে জাতিসংঘে আমেরিকাতে সফর সঙ্গী করার কারণ হয়তো এনসিপিকে শাপলা দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি ও জামাতকে সম্মতি দেওয়ার জন্য রাজি করিয়েছিলো অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুস। যদি বিএনপি ও জামাত সম্মতি জানায় তাহলে সরকারের পক্ষে বিষয়টি সমন্ধে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। পাশাপাশি হয়তো বিএনপি গণ ভোটে রাজি হবে। তাই আমেরিকা সফরে রাজনৈতিক দলকে সফর সঙ্গী করা হয়েছিল।












Discussion about this post