বাংলাদেশে ঘটনার ঘনঘটা। একের পর এক ঘটনা। কেন থামাতে পারছে না ওয়াকার বাহিনী? উঠছে প্রশ্ন। তবে কি ইউনূসের রাজত্বে আতঙ্কিত সেনাবাহিনী? এবার কি সেনাপ্রধান সেনা অভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যাবেন?
কয়েকদিন যাবত বাংলাদেশি ঘটে গিয়েছে পরপর কয়েকটি ঘটনা। যেমন কুমিল্লাতে মা সহ দুই সন্তানকে পিটিয়ে হত্যা করা হল। লালমনিরহাটে পারগ্রাম থানায় শত শত মানুষের হামলা হল। থানার ভিতরের জিনিসপত্র ভাংচুর করা হল। হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হল। স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরাই নাকি তাদের ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে বলে খবর। আদালতে সাবেক এমপি দূর্জয়কে লক্ষ্য করে ডিম ছড়া হল। ফেসবুক জুলাই গণ অভ্যুত্থান নিয়ে ফেসবুক আপত্তি মন্তব্য করেছিলেন। আর সেই কারণে মাদ্রাসা ছাত্রের চুল কেটে পুলিশে দেওয়া হয়।
এদিকে সেনাবাহিনী ফের একবার মব কালচার নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল। জানিয়ে দেওয়া হল, মব ভায়োলেন্স হলে সেনাবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, মব ভায়োলেন্স এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। এছাড়াও সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হেনস্তা করার ঘটনায় যে ৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের একজনকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী। তারপরই অবশ্য দেখা যায়, আদালতে জামিন পেয়ে যায়। অনেকে বলছেন, এতে উৎসাহ পেয়েছে মব বাহিনী।
অনেকে বলছেন, সেনাবাহিনী শুধু মুখেই বলছে, কঠোর অবস্থান নেবে মব কালচারের বিরুদ্ধে। কিন্তু বাংলাদেশের যা বর্তমান পরিস্থিতি, তাতে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে কি তার কোনও বাস্তবতা রয়েছে? সরকার যখন কোনও পদক্ষেপ করছে না, তখন সাধারণ জনগণ সেনাবাহিনীর উপর আস্থা রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী যেভাবে নিশ্চুপ, অন্তত তাদের একশন কথা বলছে না, তখন হতাশা সৃষ্টি হয়েছে জনগণের মধ্যে। অথচ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ৫ ই আগস্ট বলেছিলেন, দেশের জান মালের দায়িত্ব তিনি নেবেন। কিন্তু কোথায় তিনি? এভাবে সাধারণ মানুষ থেকে পদধিকারীদের ওপর মব চালানো হচ্ছে, তাতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে গোটা দেশে।
অনেকে আবার বলছেন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। পুলিশের ওপরও যেভাবে মব চালানো হচ্ছে, তাতে তাদের অসহায় অবস্থা সামনে চলে এসেছে। এর আগে ধানমন্ডির 32 নম্বর বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। তখনও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, আটটাতে পারেনি সেনাবাহিনী। এখন তাদের অবস্থান আরো স্পষ্ট করা উচিত বলে বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজন হলে তারা ব্যারাকে ফিরে যাক। কিন্তু এইভাবে মাঠে থেকেই তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কোনও মানে হয় না বলে জানাচ্ছেন ওয়াকিবহল মহল।












Discussion about this post