‘কিপ অ্যান আই অন দ্য নর্থ। নর্থ গন টু কোয়াইট, টু ফাস্ট।’
একথা কে বলছেন? বলছে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। নর্থ মানে উত্তরপাড়া। হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, সজীব ভুঁইয়ারা তো উত্তরপাড়া বলেন। এরা আগেও বলেছেন, উত্তরপাড়া চলছে ভারতের প্রেসিক্রপসনে। আসলে উত্তরপাড়া হল সেনা নিবাস। সেনা ক্যান্টনমেন্ট। সেই উত্তরপাড়া আচমকা চুপ মেরে যাওয়ায় হাসনাত আবদুল্লা, আসিফ মাহমুদ, সজীব ভুঁইয়ারা বেশ চাপে পড়ে গিয়েছেন। তাহলে কি কিছু একটা ঘটতে চলেছে। কারণ, সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান আর এদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না। অথচ কিছুদিন আগেও এদের সঙ্গে সেনা প্রধানের সম্পর্ক ছিল বাপ –বেটার। এটা শুধু কথার কথা নয়, বাহিনীর তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে সেকথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটাও বলা হয়েছিল যে হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদদের সন্তানদের মতো দেখেন। তাই, তাদের সঙ্গে মাঝে-মধ্যে কথা হয়। কিন্তু হঠাৎ কী হল, তার জন্য উত্তরপাড়া একেবারে চুপ মেরে গেল? একটা বিষয় স্পষ্ট যে সেনাপ্রধান আর হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদদের বাপ থাকতে রাজি নন। তাই তিনি একটা দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে। শুধু তিনি কেন, এতোদিন পর্যন্ত এই সবদের মাথায় যাদের হাত ছিল, তারা এখন হাত আস্তানায় গুটিয়ে নিয়েছে। গত কিছুদিন ধরে সেটা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। আর তাই, তারা বিচলিত বোধ করছেন। এটা বুঝে গিয়েছেন, রাস্তায় নেমে গলার শিরা মোটা করে স্লোগান দিলে সেনার ব্যাটন খেত হবে। কাঁচা ডিম গায়ে এসে পড়বে। হাসনাত আবদুল্লাহরা বুঝে গিয়েছেন, রাস্তায় নামলে তাদের পরিণতি হবে নরুল হক নুরুলের মতো।
এদিকে, হাসনাত বুধ সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তিনি লেখেন ‘‘আজ রাতে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে।’’ এদিকে, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা ঘোষণা করে জানিয়েছেন, ঠিক যেদিন শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখবেন, সেদিন তাঁর বাড়ি ভাঙচুর হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ সেনা বিবৃতি জারি করে জানিয়েছ হাসনাত আবদুল্লাহর সেনা ছাউনিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত বুধবার সেনা ছাউনিতে যাবে বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ কচুক্ষেতে মীরপুরে গিয়েছিলেন। সেনা ছাউনিতে ঢুকতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। সেখান থেকে হাসনাত আবদুল্লাহ বাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্তাকে ফোন করেন। কিন্তু তারা কেউ ফোন ধরেননি। যদিও অন্য একটি সূত্র বলছে, হাসনাত আবদুল্লাহ সেনাবাহিনীর কোনও শীর্ষকর্তার সঙ্গে দেখা করতে যাননি। তিনি চেয়েছিলেন ক্যান্টমেন্টের একটি রাস্তা ব্যবহার করতে। যেহেতু রাস্তাটি শুধুমাত্র বাহিনীর, তাই রাস্তায় যানজট তেমন হয় না। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য হাসনাতের সফল হয়নি।
আসলে হাসনাত আবদুল্লাদের সঙ্গে বাহিনীর সম্পর্ক আর মাখো মাখো নয়। কেন হাসনাত আবদুল্লা ক্যান্টনমেন্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, সেটা এবার জানিয়ে দেওয়া যাক। আসলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা গুম হয়ে গিয়েছেন। গুম হয়ে যাওযা সেই ব্যক্তির জন্য কান্নাকাটি করছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অথচ বাংলাদেশ মিডিয়া আওয়ামী লীগের একটা ছোট মিছিল রাস্তায় দেখা গেলে সেটা নিয়েও খবর করছেন। অর্থাৎ যে সংবাদমাধ্যম একসময় তাদের পাশে ছিল, সেই সংবাদমাধ্যমও আর তাদের পাশে নেই। হাসনাত আবদুল্লারা এ কূল ওকূল হারিয়ে বসেছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post