বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের ভারত সফর প্রায় নিশ্চিত। এখনও পর্যন্ত যা খবর, তিনি ভারতের স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। দিল্লিতে ১৪ অক্টোবর শুরু হতে চলেছে জাতিসঙ্ঘে শান্তিরক্ষা মিশনে সৈন্যপ্রেরণকারী দেশগুলির একটি সম্মেলন। সেই সম্মেলনে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার বাতিল হয়ে যায়। বাংলাদেশ তাঁর পরিবর্তে সেনাবাহিনীর পদস্থ কোনও কর্তাকে পাঠানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ করার মতো বিষয় হল বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের এই সফরের কথা ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচার করলেও পদ্মাপারের গণমাধ্যম এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে যে, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত এরকম কোনও তথ্য নেই। সেনাপ্রধান ওয়াকারের ভারত সফর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আসার সময়টিও বেশ নজর কাড়ার মতো।
হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত সাউথব্লক। সাউথব্লক এটাও চাইছে বাংলাদেশে নির্বাচন হোক অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু। সাউথব্লক বঙ্গবন্ধু কন্যাকেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চাইছে। অপর দিকে, ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই দূরত্ব আর কোনওভাবেই মেটার সম্ভাবনা নেই। একসময় যে সম্পর্ক ছিল মাখো মাখো, এখন তা সাপে নেউলে হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেনাবাহিনী চাইছে বাংলাদেশে দ্রুত অচলাবস্থা কেটে যাক। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম হোক।
সেনাপ্রধান ওয়াকারের ভারত সফর অন্যদিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ইউনূস জমানায় ঢাকা দিল্লির সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সম্পর্কের ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ সেনাপ্রধান দিল্লি আসছেন। পাশাপাশি হাসিনাকে নিয়ে দুই সেনাকর্তার মধ্যে কথা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন মনে প্রাণে চাইছে ইউনূস জমানার অবসান। তাঁর গদি পাল্টে যেতে চলেছে। ইউনূসকে কীভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ফেলা যায়, তার একটা নিলনকশা দিল্লিতে বসে তৈরি হবে। সেখানে দুই বাহিনীর দুই শীর্ষকর্তা ছাড়াও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা অজিত ডোভালের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, তদারকি সরকার প্রধান যখন নিশ্চিত হয়ে যান, তার গদিতে থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে, সেই সময় তিনি সেফ প্যাসেজ খুঁজতে শুরু করেন। ভারতেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা অজিত ডোভালের সঙ্গে কথা বলতে চান। সেই জন্য তিনি ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ভারতীয় দূতাবাস যোগাযোগ করে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে। বিদেশ মন্ত্রক পত্রপাঠ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।
যদিও তারপরেও হাল ছাড়তে চাইছিলেন না ইউনূস। কার্যত ভারতের কাছে হাত জোড় করে সেফ প্যাসেজ ভিক্ষা চায়। সাউথব্লক পরিবর্তে শর্ত আরোপ করে। সেই শর্তে বাধ্য হয়ে রাজি হন ইউনূস। সেনাপ্রধান ওয়াকারের ভারত সফরকালে এই নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশে হাসিনার প্রত্যাবর্তন। কীভাবে তাঁকে সে দেশে ফেরানো হবে, সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে ভারতের স্থলসেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর আলোচনা হবে।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ইউনূসের ওপরে আন্তর্জাতিকমহলের চাপ রয়েছে। আমেরিকা ইউনূসকে বলেছে, নির্বাচন যে করেই হোক স্বচ্ছ এবং অবাধ করতে হবে। সব দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সে ব্যাপারেও নিশ্চয়তা দিতে হবে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের দিকে আমেরিকা যেমন তাকিয়ে রয়েছে, তাকিয়ে রয়েছে সাউথ ব্লক। এই ঠাণ্ডাগরম পরিস্থিতির মাঝে সেনাপ্রধান ওয়াকার ভারতে আসছেন।












Discussion about this post