খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহারি জনপদ রেজামণিপাড়া ও কারিগরপাড়ায় মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল বিশুদ্ধ পানীয়জল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান সেই সমস্যার সমাধান করলেন। পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে বসিয়েছেন সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল। দুই গ্রামের বাসিন্দা পাচ্ছেন বিশুদ্ধ পানীয় জল।
গত ২৯ মার্চ রেজামণিপাড়া আর্মি ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে সেনাপ্রধান এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। শোনেন তাদের অভাব অভিযোগের কথা। সেই আলাপচারিতায় এলাকার বাসিন্দারা তাদের বিশুদ্ধ পানীয় জলের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বাসিন্দাদের সেনাপ্রধান আশ্বাস দিয়ে বলেন, তিনি এই সমস্যার সমাধান করে দেবেন অতি দ্রুত। বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য বসানো হবে সৌরবিদ্যুৎপ্যানেল।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নার কম্যান্ডার ব্রিগেডিয়ায় জেনারেল হাসান মাহমুদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুড়া, খাগড়াছবি জোন কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো খাদেমুল ইসলাম, জেলাশাসক এবি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, পুলিশ সুপার মোহ আরেফিন জুয়েলসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বিশিষ্টজন। দীর্ঘদিন ধরে কারিগড়পাড়া ও রেজামণিপাড়ার ১২০টি পরিবার কুয়ো ও ঝিল থেকে পানের জন্য জল সংগ্রহ করতেন। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হল।
১ জুলাই থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শেষ হয় গত ১ সেপ্টেম্বর। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেল গ্রামবাসীরা খুব খুশি। জানান, প্রকল্প শুধু খাতায়-কলমে না থেকে বাস্তবায়িত হওয়ায় তারা খুশি ধন্যবাদ দিচ্ছেন সেনাবাহিনীকে। বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধার কারণে দুই এলাকার জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন ঘটবে।
কারিগরপাড়ার ৭০ বছরের বাসিন্দা সুবীন্দ্র লাল কারবারি একজন কৃষক। দীর্ঘদিন ধরেই তারা বিশুদ্ধ পানীয় জলের সমস্যার জন্য ভুগছিলেন। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান হওয়ায় তারা বাহিনীকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন। সুবীন্দ্র কারবারী বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ে কুয়ো ও টিউবওয়েল থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু সেই জল খাওয়া যায় না। জলে প্রচুর আয়রন। সেনাপ্রধান এখানকার ক্যাম্প পরিদর্শনে এলে আমরা আমাদের সমস্যার কথা জানাই। আর্জি জানাই স্থায়ী সমাধানের। সেনাপ্রধান আমাদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সৌর প্যানেল বসিয়ে পানীয় জলের সমস্যা দূর করেছেন। আমরা মনে করি সেনাপ্রধানের এই উদ্যোগ ওপরওয়ালার আশীর্বাদ।’
সেনাপ্রধান কর্মজীবনের শুরুতেই রেজামণিপাড়া আর্মি ক্যাম্পে ক্যাম্প কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে জেনারেল হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ে নিরাপত্তার পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়োনে লাগাতার কাজ করে চলেছে। সেনাপ্রধানের নির্দেশে দুই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পানীয়জলের সমস্যা মেটানো হয়েছে। একে অপরের পরিপূরক হয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
সেনাপ্রধানের এই উদ্যোগের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে দেরি হয়নি। সুশীল সমাজের একাংশের মতে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাহিনীর ভূমিকায় অসন্তুষ্ট। তাদের কাছে বাহিনী ক্ষমতালোভী ছাড়া আর কিছুই নয়। যে কোনও উপায়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসে দেশশাসন করাই বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য। বাহিনীকে তেমন মানবিক উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। রেজামণিপাড়া ও কারিগরপাড়ায় পানীয় জলের স্থায়ী সমাধান করে বাহিনী চেষ্টা করল ওই দুই এলাকা এবং দেশবাসীর একাংশের যদি মন জয় করা যায়। আগামীদিনে বাহিনী এই ধরনের কোনও উদ্যোগ নেয় কি না সেটাই দেখার। না নিলে ধরে নিতে হবে রেজামণিপাড়া ও কারিগরপাড়ার কাজ আসলে একটা গিমিক ছাড়া আর কিছুই নয়।












Discussion about this post