উত্তাল পদ্মাপাড়, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে, তবে সংযত রয়েছেন দেশের সেনাপ্রধান। দেশের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে এক চরম হুমকি! বাংলাদেশ জুড়ে সমস্ত বাহিনীকে প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে আর এখন সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতেই এখন ক্রমাগত চলছে কৌশল। আর এই কৌশলের রিহার্সাল সম্পন্ন হল প্রেস ক্লাবে।
মূলত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যে কৌশলের রিহার্সাল প্রেসক্লাবে সংগঠিত হলো তা প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের প্রবেশ পথ জাহাঙ্গীর গেটের সম্মুখে সংগঠিত করার পরিকল্পনা ছিল বরখাস্ত সেনা সদস্যদের। কিন্তু পরবর্তীতে এর রিহার্সালটি প্রেস ক্লাবেই সংঘটিত হয়। এবার দেখা গিয়েছে এর আগেই বরখাস্ত হওয়ার সেনা সদস্যরা জানিয়েছে তাদেরকে জোরপূর্বক বরখাস্ত করা হয়েছে তারা তাদের চাকরি ফেরত পেতে চায়। আর এই বিষয়ে সেনাবাহিনীর তরফে বারংবার বলা হচ্ছে ধৈর্য ধরার জন্য। সেনাবাহিনীর তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করেও জানানো হয়েছে 800রও বেশি আবেদন জমা পড়েছে আর এর মধ্যে কাদের বেছে নেওয়া হবে সেই বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন। কিন্তু এরপরও চাকরি জুতো সেনা সদস্যদের তরফে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা হচ্ছে এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক কৌশল শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, চাকরিতে পুনরায় বহাল সহ মোট ৪ দফা দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ চালিয়েছেন বিভিন্ন সময় সশস্ত্র বাহিনী থেকে বরখাস্ত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যরা। সূত্র বলছে রবিবার দিনভর জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় অবস্থান ও বিক্ষোভ করেন তারা। বিকেল থেকে প্রেস ক্লাবের ভেতরে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যরা। এবং আলোচনায় তাদের দাবি দাওয়া বিবেচনার আশ্বাস পাওয়ার পর কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।
অন্যদিকে এই পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে একটি বিবৃতি দেয় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর। এতে বলা হয়, পরপর দু’বার সফল বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল ফেরত আসার সময় কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল বরখাস্ত সেনা সদস্যের উস্কানিতে সেনাবাহিনীর গাড়ির সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এই দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত আচরণ এই সুশৃঙ্খল বাহিনীর ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে।
চাকরিচ্যুতরা সেনা সদস্যরা প্রেস ক্লাবে বসেই তাদের সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে বলেন বিগ্রেডিয়ার সেনাকর্তাদের । এরপর তড়িঘড়ি আলোচনা ও বৈঠকে বসেন সেনাকর্তারা। এই বৈঠক শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুর রহমান সংবাদ মাধ্যমে জানান, ‘আমরা তাদের কথা শুনেছি। এগুলো নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বলে দেওয়া হচ্ছে প্রত্যেককে আলাদা আবেদন করতে। আলাপ-আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা জানাব।’
প্রসঙ্গত,চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যরা ৪ দফা দাবি সম্মিলিত বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে। তাদের প্রথম দাবি চাকরিচ্যুতির সময় থেকে বর্তমান সময়ে পর্যন্ত সম্পূর্ণ বেতন,ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহাল। দ্বিতীয় দাবী, কোনো কারণে যদি কোন সদস্যের চাকরি পুনর্বহাল করা সম্ভব না হয়, তবে সেই ব্যক্তিকে সরকারি সমস্ত সুযোগ-সুবিধাসহ সম্পূর্ণ পেনশনের আওতাভুক্ত করতে হবে। তৃতীয়,যে আইন কাঠামো ও একতরফা বিচার ব্যবস্থার প্রয়োগে শত শত সেনাবাহিনীর সদস্যকে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, সেই বিচার ব্যবস্থা ও সংবিধানের আর্টিকেল সংস্কার করা, আর সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ দাবি গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত সৈনিক নাইমুল ইসলামের অবিলম্বে মুক্তি। অর্থাৎ বাংলাদেশের যে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে সেখানে এই অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যদের এবৃক্ষ প্রদর্শনের কৌশল বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিত বহন করছে অভিমত বিশেষজ্ঞ মহলের।












Discussion about this post