সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি “নিউজ বর্তমান”। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে এক বাংলাদেশ সেনার ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার এক কর্তাকে। তিনি বলছেন, “আপনাদের সঙ্গে কোনও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে? হ্যাঁ অথবা না তো বলবেন। আপনাদের কাউকে হার্ট বা ইনজিওর করা হয়েছে? কোনও কিছুই না। আমরা… আপনাদের কাছে… একটা ডিসকাসানের জন্য ওনাদেরকে এখানে আনা হয়েছে। ঠিক আছে…। ”
কথা বলার মাঝেই সেখানে উপস্থিত বাকিদের সঙ্গে তিনি বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। ওই সেনাকর্তাকে বলতে শোনা যায়, “ এক্সকিউজ মি, এক্সকিউজ মি। এখানে একটা… আপনাদের একটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হচ্ছে। আপনারা যে বলেছেন যে তুলে নিয়ে আসছি বা এমনভাবে যদি আপনারা বলেন আপনারা তুলে নিয়ে আসছি.. বা আপনারা যে কারণে এটাকে রিফ্রেম করতেছেন, ব্যাপারটা তেমন কিছু না। যদি এমন হত… আপনাদের যদি কোনও ধরনের… আচ্ছা ভাইয়া শোনেন … এখানে যাঁরা পিছনে আছেন, তাদেরকে আমরা, আমরা চাইলে তাঁদেরকে আমরা এখানেই ছেড়ে দিতে পারতাম। এখানে নাথিং পার্সোনাল… নাথিং কিছু … বাংলাদেশ আর্মির সঙ্গে কোনও ধরনের… কারও কোনও ধরনের রিফট নাই।… এখানে কোনও কারণে একটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হচ্ছে…”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিতেও ওই সেনাকর্তার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয় যান বাংলাদেশের অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ টাইমসের সাংবাদিকেরা। শনিবার রাত পৌনে ১০টা নাগাদ ওই সংবাদমাধ্যমের দফতরে ঢুকে ২১জন কর্মীকে বাংলাদেশ সেনা তুলে নিয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যে সেনাকর্মকর্তাকে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে, তাঁর কাছে ওই নিউজ পোর্টালের কর্মীরা জানতে চান কেন তাদের সহকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও সন্তোষজনক জবাব ওই সেনাকর্তা দিতে পারেনি। এই গ্রেফতারির ঘটনায় দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
গ্রেফতারে খবর দেন বাংলাদেশ টাইমসের এডিটর ইন চিফ সাব্বির আহমেদ। তিনি ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, সেনা সদস্যরা বিকেলের শিফটে থাকা কর্মীদের তুলে নিয়ে গিয়েছে। সংস্থার এক কর্মী জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে রাজধানী ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে চলা বিক্ষোভ আন্দোলনে এক আন্দোলনকারী সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন। আর সেই খবর প্রচার বাংলাদেশ টাইমস। মনে করে হচ্ছে, সেই খবরের জেরে এই অভিযান। প্রশ্ন অন্যত্র। সেনাবাহিনী সংবাদকর্মীদের গ্রেফতার করবে কেন? ইনকিলাব মঞ্চের এক নেতা বাহিনী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছে। আর সংবাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে বাংলাদেশ টাইমস সেই খবর প্রচার করেছে। এখানে এই সংবাদসংস্থার অপরাধ কোথায়? খিলক্ষেত থানার পরিদর্শকও আশিকুর রহমানকে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি কিছু জানাতে পারেননি। এই গ্রেফতারের বিষয়ে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের মেজর ফাহাদ বলেন, “ আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ টাইমসের কয়েকজন সংবাদকর্মীকে ক্যাম্পে নিয়ে এসেছি। জিজ্ঞাসাবাদের পর কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হবে। ” কী কারণে এই গ্রেফতারি, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেজর বলেন, এই বিষয়ে পরে জানানো হবে।
ঘটনাটি যে লজ্জাজনক, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে এটা বেশ ভয়ংকর ঘটনা। বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের যে স্বাধীনতা নেই, বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না বা তাদের কাজ করতে দেওয়া হয় না, এই ভিডিও থেকে সেটা দিনের আলোর মতো স্বচ্ছ হয়ে যাচ্ছে। বিবিসি বাংলাকে এডিটর ইন চিফ সাব্বির আহমেদ জানিয়েছেন, “এক পর্যায়ে বাহিনীর তরফে আমাকে বলা হল উত্তর ক্যাম্পে আসুন। আমি বলেছি, এভাবে সাংবাদিকদের ক্যাম্পে ডাকা যায় না। আমি এও বলেছি যে আইএসপিআরকে বলুন, তারাই আমাদের সাথে যোগাযোগ করবে। আপনারা এভাবে ডাকতে পারেন না। আমি ভেবেছিলাম সেনাসদস্য কেই তো এভাবে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবে না। ” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উত্তরা আর্মি ক্যাম্পে। গতকাল (৭ ফেব্রুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভের একটা পরিস্থিতিতে একজনের একটা বক্তব্য সেখানে সেনাসদস্য নিয়ে এমন কোনও বিষয় নিয়ে কথা বলছিল। এটা পাবলিক বাইট। এটা রিলস আকারে যায়। কোনও সংবাদে ক্ষুণ্ণ হলে আমাদের সাথে ওইভাবে যোগাযোগের প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু এভাবে সন্ধ্যায় একটা গণমাধ্যম অফিস ঘেরাও করে তার সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া খারাপ দৃষ্টান্ত। ”












Discussion about this post