বাংলাদেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। জানা যাচ্ছে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের নামে বেশ কিছু নির্দেশনা ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি সেনাপ্রধান আদৌ কোন নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন! সূত্র বলছে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের বক্তব্যেই নাকি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু নির্দেশনা উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যতবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মহলে ততবারই দেখা গিয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন সে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার জামান। এবারও দাবি বিতর্কিত দাবি উঠে এসেছে। জানানো হচ্ছে সেনাপ্রধান একটি নির্দেশনা জারি করেছে তার বক্তব্যের মাধ্যমে। কিন্তু সেই নির্দেশনার কতটা সত্যতা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। কারণ গণমাধ্যমেও সেনাপ্রধানের এই ধরনের কোন নির্দেশনা উঠে আসেনি।
সূত্র বলছে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সর্বশেষ চলতি মাসের ২৪ তারিখ একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লা কাসিফ আল মাউদি র সঙ্গের সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। তাদের মধ্যে একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পন্ন হয় জানা গিয়েছে। আর তার আগে ২৩ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন। কারণ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান স্বয়ং এই এসোসিয়েশন এর সভাপতি এর দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে এই ধরনের কোন নির্দেশনা সংক্রান্ত বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি সেনা প্রধানকে। এই ধরনের কোন খবরও প্রকাশ্যে আসেনি।
তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে যে নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের একাংশ বলছেন সে নির্দেশনায় বলা হয়েছে,
বিনা অপরাধে আর কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা যাবে না।
যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যে মামলা মনে হয় তাহলে ওই মামলা নেওয়া হবে না। পুলিশ সহ সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কারো আজ্ঞাবহ হবে না। সবার রাজনৈতিক মিটিং মিছিল করতে সমান অধিকার। মব সহ্য করা হবে না। কারো বাড়ি ভাঙচুর হামলা লুটপাট মেনে নেওয়া হবে না।ফ্রী ফেয়ার ইলেকশন আয়োজন করতে যা যা করণীয় যতদূর যাওয়ার সেনাবাহিনী সেই কাজ করবে এবং দেশের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের পরিবেশ সুন্দর, শান্তি ও আইন শৃঙ্খলার পরিবেশ সুন্দর করে তুলতে যা যা করণীয় তা করবে।
অর্থাৎ যে নির্দেশনা গুলি প্রকাশ্যে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলির সঙ্গে একমত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও। সেদেশের একটা বিরাট অংশ দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, এবং চেয়ে আছে সেনাবাহিনীর দিকে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে সেনা প্রধানকে এই ধরনের কোন নির্দেশনা সরাসরি তার বক্তব্যের মাধ্যমে দিতে পারেন? এর উত্তরটি একেবারেই না। বিশ্লেষকরা বলছেন একটি মহল সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে এই ধরনের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার পক্ষের একাংশ বা সরকার বিরোধী কোন পক্ষ এই ধরনের গুজব ছড়াতে পারে বলে অভিমত রাজনীতির বিশ্লেষকদের। কারণ বিভিন্ন সময় দেখা গেছে সরকার ও তার উপদেষ্টা মন্ডলী বা এই সরকারের হিতাকাঙ্খী ছাত্র নেতারা বিভিন্ন সময় সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়েছেন। সেনাপ্রধান কে তার পথ থেকে সরানোর হুঁশিয়ারি ও দেওয়া হচ্ছে সরকার পক্ষের ব্যক্তিত্বদের তরফ ে আবার অন্য একটি দল অর্থাৎ সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে দেখা গিয়েছে বিদেশ থেকেও অনেক উস্কানিমূলক বার্তা এসেছে সেনাপ্রধান কে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য। এখান থেকেই এই দুই পক্ষের তরফ থেকে এই ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করা একেবারেই অসম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে বিশেষজ্ঞ দের তরফে।












Discussion about this post