বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার শেখ হাসিনার আমলে গুম, খুন ও আয়নাঘর কাণ্ডে মানবাধিকার আইনে আগামী ২২ শে অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযুক্ত বাংলাদেশী সেনাকর্তাদের ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এখন কি করবেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান ? সেই নিয়েই প্রশ্ন ঘুরছে চারিদিকে। বিভিন্ন সূত্রে খবর, জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান সেনাদের গ্রেফতারি রক্ষা করা নিয়ে কখনই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেননি এবং করবেন না। অপরদিকে সেনা আধিকারিকরা বুঝে গেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ্জামান তাদের কোনোভাবেই বাঁচাবেন না। এই কারণে সেনাবাহিনীকে না জানিয়ে মেজর জেনারেল কবির আইনজীবীর সাথে কথা বলার জন্য বেরোন এবং বর্ডার অতিক্রম করে ভারতে চলে আসেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়াল বিচার কি হবে ? শাস্তি কি হবে ? এই নিয়ে চিন্তায় পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপরই তার পরিবারের থেকে সমাজ মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট করে বলা হচ্ছে তিনি নির্দোষ। প্রাক্তন RAF র মুখপাত্র সারোয়ার বিন কাশিমের আত্মীয়রাও সমাজ মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট করে বলছেন তিনি নির্দেশ তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
হাতে বাকি আর ৫ দিন। সেনাপ্রধান ওয়াকার চাইলেও কিছু করতে পারবেন না। কারণ বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে অভিযুক্ত সেনা কর্তাদের বিচার করার জন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে চাপ দিয়েছে বিচারের জন্য। তাদের যে মানবাধিকার সংগঠন হিউমান রাইটস ওয়াচ তারা এই বিচার কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন অবশ্যই এদের বিচার হওয়া উচিত যারা প্রত্যক্ষ গুম, খুনের সাথে জড়িত। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার ভল্কারতু ও এই বিচার কার্যক্রমকে সমর্থন করেছে।
বুধবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষক হাই কমিশনার দপ্তর থেকে বলেন, গুমের ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশটিতে প্রথমবারের মতো গুমের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি ভুক্তভুগি ও তাদের পরিবারের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গুম ও খুন সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২ টি মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছে। এসব ঘটনা যথাক্রমে, টাস্ক ফোর্স ফর ইন্টারভেশন সেল এবং জয়েন্ট ইন্টারভেশন সেল এ সংগঠিত হবে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছিল তারা বিগত সরকারের আমলে সংগঠিত গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এত সংখ্যক সেনা কর্তাদের হেফাজতে নিয়েছে। সুষ্ঠ ও স্বচ্ছ ফৌজদারি বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর ওই কর্ম কর্তাদের একটি উপযুক্ত সামরিক আদালতে হাজির করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে জাতিসংঘ বলেছে, সেনাদের সেনা হেফাজতে নেওয়াটাই যথেষ্ট না। তাদের বিচার সামরিক আদালতে হওয়াও যথেষ্ট না। হেফাজতে থাকা ১৫ জনকে একটি বেসামরিক আদালতে হাজির করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ জাতিসংঘ স্পষ্ট বলেছে, এই সেনা হেফাজত, সেনা আইন আমরা মানিনা। তাদেরকে দ্রুত আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে হাজির করতে হবে। এটি জেনারেল ওয়াকারের ওপর সরাসরি চাপ তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার ভল্কারতু বলেন, আমি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায় বিচারের সর্বোচ্চমান। আন্তর্জাতিক আইনে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। এসব সংবেদনশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ মামলায় ভুক্তভুগি ও সাক্ষীদের সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মামলাতে সর্বোচ্চ সাজা হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় কিন্তু যাতে মৃত্যুদণ্ড না হয়।












Discussion about this post