বাংলাদেশের আবহাওয়া কেমন যেন দম মেরে গিয়েছে। মনে করায় শোলে সিনেমার একটি বিখ্যাত উক্তি – ইতনা সান্নাটা কিঁউ হ্যায়। ঢাকার আবহাওয়া এখন তেমনই। ঝড়ের পূর্বাভাস। সবাই ভাবছে কবে ঝড় উঠবে। দলে দলে সবাই পালটি খেতে শুরু করেছে। এদের চিন্তা আওয়ামী লীগকে নিয়ে। কারণ, গত দেড় বছর ধরে তদারকি সরকার এবং তাদের মিত্ররা এই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর লাগাতার নির্যাতন চালিয়ে গিয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের নানা অজুহাতে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজু করে জেলে ঢুকিয়েছে। দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছ। হাসিনা যাতে ভোট দাঁড়াতে না পারে, তার জন্য তাঁর ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। এত করেও কিন্তু আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যায়নি। দিল্লি থেকে দলকে লাগাতার অক্সিজেন জুগিয়ে চলেছেন শেখ হাসিনা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জাতিসঙ্ঘের এক ফাঁকে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস প্রধানমন্ত্রীর মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মোদিকে তিনি বলেন, ভারত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসিনা যাতে কোনও বক্তব্য রাখতে না পারেন, তার জন্য যেন পদক্ষেপ করা হয়। মোদি ইউনূসকে সাফ জানিয়ে দেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ভারতে সবার জন্য সমান অধিকার রয়েছে। অধিকার রয়েছে মত প্রকাশের। তাই, তাঁর সরকারের পক্ষে হাসিনার বিরুদ্ধে এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ঘুরে গিয়েছে। হাওয়া এখন হাসিনা এবং তাঁর দলের পক্ষে। আওয়ামী লীগ তো এবার বদলা নেবে। ইউনূস না হয় সেফ প্যাসেজ পেয়ে সেফলি কোথাও চলে যাবেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে এতোদিন যারা ছিলেন, তারা কী করবেন। তাই, তারা এখন পাল্টি খেতে শুরু করেছেন। ইউনূস এখন বাঁচার চেষ্টা করছেন। মান-সম্মান অনেক আগেই গিয়েছে। এবার কোনওরকমে প্রাণ বাঁচাতে হবে। তাই, জনতার কথা ভুলে গিয়েছেন। ক্ষমতার কথা ভুলে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের মায়া ত্যাগ করেছেন। ইউনূসের এখন একটা মূল মন্ত্র – চাচা আপনা পরান বাঁচা। সেই সুযোগ ভারত দিচ্ছে।
মজার বিষয় হল ইউনূসের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তারা এখন গলায় তেমন আর জোর নেই। অথচ কিছুদিন আগে তাদের গলার জোরে বাংলাদেশের মাটি কাঁপত। তাদের কয়েকটি ভিডিও সামনে এসেছে। তারা এখন বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপট নিয়ে সওয়াল করছেন। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার কথা, নেপালের কথা, ভূটানের কথা। তারা এখন সমাজমাধ্যমে অন্য রকম বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন।সমাজমাধ্যমে কিছু ছবি ঘোরাফেরা করছে। সব ছবি এআই দিয়ে তৈরি। কিন্তু সেই সব ছবি বলে দিচ্ছে তদারকি সরকারে যারা রয়েছেন,তাদের সবার মুখ শুকিয়ে গিয়েছে। হাসি উধাও। তারা নিশ্চিত, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসছে। আর তাদের দশা হবে ভিখারির থেকেও খারাপ। যাদের বাড়ি ঘর দখল করা হয়েছিল, যাদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তারা এখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তাই, তারা এখন প্রমাদ গুনতে শুরু করেছে।
হাসিনায় হয়তো দিন কয়েকদিনের মধ্যে বিবৃতি দিয়ে জানাবেন যে কয়েকদিনের মধ্যে তিনি দেশে ফিরবেন। তখন দেশবাসী যদিও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিকে এগোলে পুলিশ আর সেনা সামাল দিতে পারবে না সেটা তদারকি সরকারের মন্ত্রী, সহযোগীরা রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন।












Discussion about this post