বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ইউনূস সরকার আওয়ামি লীগকে নিষিদ্ধ করার পর এবার ‘নো বোট নো ভোট’ স্লোগান তুলে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে শেখ হাসিনা। হাসিনার দল আওয়ামী লীগের দাবি, নৌকা প্রতীক বিহীন এই নির্বাচন একটি প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। ফ্যাসিস্ট শক্তির পাহারায় আয়োজিত এই ভোটকেন্দ্রে তাদের কোনো সমর্থক যাবে না বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।হাসিনা সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমেনি। ভারত থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন লক্ষ লক্ষ সমর্থককে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে গণতন্ত্র রক্ষা সম্ভব নয়। আওয়ামি লিগ সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। এই বয়কট আহ্বানে বাংলাদেশের নির্বাচনী সমীকরণ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।আগামী মাসেই নির্বাচন। সেই নির্বাচনে লড়বে না বাংলাদেশের প্রাক্তন শাসক দল আওয়ামি লীগ । ইউনূস সরকারের জমানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে শেখ হাসিনার দল। এমতাবস্থায় এক আবেদনপত্র প্রকাশ করে ভোট বয়কটের দাবি তুলল আওয়ামি লিগ। সেই আবেদনপত্রের শিরোনামেই লেখা হয়েছে ‘নো বোট নো ভোট’।প্রসঙ্গত, আওয়ামি লিগের প্রতীক নৌকা তথা বোট।আবেদনপত্রে লেখা হয়েছে- ‘ফ্যাসিস্ট ইউনূস জঙ্গি পাহারায় ভোট করাতে চায়। সেই ভোট দিতে যাবেন না। যে ব্যালটে নৌকা প্রতীক থাকবে না, যে নির্বাচনে আওয়ামি লিগের বিশাল সমর্থক অংশগ্রহণ করবে না, সেখানে আমাদের সমর্থক কোনও ভোটারেরা কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।’ একেবারে শেষে লেখা হয়েছে, ‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও বীর বাঙালি হটাও ইউনূস বাঁচাও দেশ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশ নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণ মানবে না।’ তাদের পরিষ্কার দাবি, ইউনূসকে পদত্যাগ করতে হবে। এবং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে হাওয়া গরম পদ্মা পাড়ের দেশ বাংলাদেশে । হাসিনা সরকার পতনের পর সেখানে আপাতত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে যার শীর্ষে রয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। দেশের অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষমতায় আসার পরই সুযোগ বুঝে একদা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামি লীগের সমস্ত রাজনৈতিক কার্যকলাপ কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। ফলে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল লড়তে পারবে না। কিন্তু লড়াইয়ের ময়দান সহজে ছাড়তে নারাজ আওয়ামি লীগ। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও বাংলাদেশ জুড়ে বিক্ষিপ্ত বিভিন্ন কর্মসূচি করছে আওয়ামি লীগ।
গত অক্টোবরেই নয়াদিল্লি থেকে এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা দাবি করেন, ‘লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামি লীগের সমর্থন করে। বর্তমান অবস্থায় তাঁরা ভোট বয়কট করবেন। কোনও গণতন্ত্রে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।’
এখন দেখার বিষয় যদি সত্যিই জননেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থক আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচনে ভোট বয়কট করে তাহলে বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।












Discussion about this post