বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস নাকি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁর কাজ কিন্তু বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশকে কট্টর ইসলামিক দেশে পরিবর্তিত করার যে পরিকল্পানা নেওয়া হয়েছে, সেই লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশে স্কুল-কলেজের প্রার্থনা সভার শপথ বাক্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হল। বাদ গেল মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমান এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকে নানান পরিবর্তন করে ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাতে মূলত বাদ গিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বর্ণণা। বাদ গিয়েছিল মুজিবের গল্প। এবার কোপ পড়ল সে দেশের স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের জন্য নির্দিষ্ট শপথবাক্যে। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নয়া নির্দেশিকায় যে শপথবাক্য পাঠ করতে বলা হয়েছে তাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। নতুন শপথে বাদ পড়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিসংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা। বাদ পড়েছে ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনায়’ দেশ গড়ার প্রত্যয়। অর্থাৎ, একদিকে যেমন মহান মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে বাংলাদেশকে ইসলামিক দেশে রূপান্তরের প্রচেষ্টাও এবার প্রকাশ্যে চলে এল। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস সুকৌশলে মুছতে এবার সে দেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি স্থাপনার নামও বদল করে ফেলল কর্তৃপক্ষ। গত ২২ মে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৯তম সিন্ডিকেট সভায় বেশ কয়েকটি ভবনের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলেই খবর। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ যে ক্রমেই মৌলবাদীদের খপ্পরে পড়ে যাচ্ছে তা এখন দিনের আলোর মতোই পরিস্কার।
বৃহস্পতিবার দিনভর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের খবর নিয়ে উত্তাল ছিল দেশ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বহু গণমাধ্যম ইউনূসের পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ নিয়ে সরগরম ছিল। এরই ফাঁকে হারিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশিকাটি। আওয়ামী লীগের আমলে জারি করা নির্দেশিকা বাতিলের আছিলায় ২০২১ সালের আগে পড়ুয়ারা যে শপথবাক্য পাঠ করতেন, তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হল স্কুলের শপথবাক্যে। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পড়ুয়াদের দৈনন্দিন শপথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ। অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটিও। পুরোনো শপথবাক্যে পাঠ করতে হতো, “পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মেনে আমি সমৃদ্ধ, ঐক্যবদ্ধ এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গঠনে সহায়তা করব”।
কিন্তু বর্তমানে যে শপথবাক্য পাঠ করতে হবে পড়ুয়াদের, সেটা হল, ‘আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব। দেশের প্রতি অনুগত থাকিব। দেশের একতা ও সংহতি বজায় রাখিবার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিব। অন্যায় ও দুর্নীতি করিব না এবং অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিব না। হে মহান আল্লাহ/মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করিতে পারি এবং বাংলাদেশকে একটি আদর্শ, বৈষম্যহীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়িয়া তুলিতে পারি। আ-মি-ন।’ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে শপথ পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এভাবেই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশে তাঁরই সমস্ত স্মৃতি মুছে দিতে তৎপর হয়েছে ইউনুস সরকার। কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নামই পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল ইসলামি আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। ঢাকা-সহ বিভিন্ন জায়গার হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু, হাসিনা ও অন্যান্য সদস্যদের নাম বদলে ফেলা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে সরেছিল মুজিবের ছবিও। এবার পড়ুয়াদের মন থেকে মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিলুপ্ত করতে নিত্যদিনের শপথবাক্য থেকেও এই সমস্ত বিষয় বাদ দেওয়া হল।












Discussion about this post