পদ্মপারে এ বছর এক প্রকার নির্বিঘ্নেই শেষ হল দুর্গা বন্দনা। বাংলাদেশের দুর্গোৎসব নিয়ে এবার একটু বেশি উদ্বেগ ছিল। কারণ, সে দেশের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। এই পুজো নিয়ে কিছুদিন আগে তদারকি সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বিস্ফোরক বয়ান দিয়েছিলেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেছেন, পুজোর সময় মণ্ডপ চত্ত্বরে হওয়া মেলায় মদ, গাঁজা বিক্রি হয়। এই আবহে পুজোর সময় মেলার অনুমতি দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বাংলাদেশে। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি।
যদিও এই মন্তব্যের পরেও সেখানে দুর্গাপুজো নিয়ে বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও অসুরের গোঁফ উপড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুজোর আগে ১৩টি জেলাতে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও সেগুলি বড় আকার ধারণ করেনি। পুজোর মূল সময়, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে দশমী – মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। সরকারের তরফে যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুজো কমিটিগুলিও অতিমাত্রায় সতর্ক ছিল। তদারকি সরকারের তরফে তাদের যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তারা সবটাই কার্যকর করেছে।
যদিও তদারকি সরকারের উপদেষ্টা ইউনূসের একটি মন্তব্য বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের রীতিমতো আঘাত দিয়েছে। সেটা হল নিউ ইয়র্কে তিনি একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিকে বলেছেন, ‘তার সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে অত্যাচার ও নিপীড়ন হয়েছে সেগুলি ডাহা মিথ্যে কথা। এগুলি ভারতীয় মিডিয়ার অপপ্রচার। বাস্তবে এইসব কোনও ঘটনাই ঘটেনি। ’
ইউনূসের এই দাবির প্রেক্ষিতে একটা কথাই বলতে হয়, মিথ্যে কথা বলা বা মিথ্যে দাবির একটি সীমা আছে। ইউনূস সব বিষয়ে সীমা পরিসীমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। এবার দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে সাম্প্রদায়িকতার তাস খেললেন মহম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী জানিয়ে দেন, সন্ধে সাতটার আগে প্রতিমা নিরঞ্জন শেষ করে ফেলতে হবে। এখানেই শেষ নয়, জানিয়ে দেওযা হয়, পুজোর আশেপাশে কোনও মেলা বসতে দেওয়া হবে না। পুজো যেখানে যেখানে হবে, সেই তালিকা সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে।
আসলে এই ফতোয়া জারির কারণ ইউনূস বুঝে গিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের নিয়ে তিনি যা বলেছেন, সেটা আসলে ধাপ্পাবাজি। সেটা বাংলাদেশের মানুষ বুঝে গিয়েছে। একেই আওয়ামী লীগ গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। তাতে ইউনূসের নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছে। এবার সংখ্যালঘুরা একজোট হলে তার আর বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তাই, সংখ্যালঘুদের যেভাবে হোক দমিয়ে রাখতেই হবে। তার জন্য তদারকি সরকার প্রধান একাধিক পদক্ষেপ করেছেন। সেই তালিকায় যুক্ত হল দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে তালিবানি ফতোয়া।
ভারত কিন্তু ইউনূসের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের তদারকি সরকার সে দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে চূড়ান্ত ব্যর্থ। আর সেদিক থেকে চোখ সরাতে ভারতের দিকে নানা অজুহাত তুলে গাল দিচ্ছেন। তদারকি সরকারের এই দাবিকে ভারত মান্যতা দেয় না। দিল্লির জোরাল দাবি, বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এটা একটি সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং কর্তব্য।
চট্টগ্রামের ঘটনাতে ভারতে হাত থাকার অভিযোগ দিল্লির নস্যাৎ করে দিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post