মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে আতংক। বিশ্ব জুড়ে তৈরি হয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ফায়ার আসছে সত্তরের দশকের ভয়াবহ তেল সংকটের স্মৃতি। এই আবহে চরম বিপদে পাকিস্তান। জিনিসের দাম লাগামছাড়া। একদিকে মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট অন্যদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত, চুক্তির কারণে সৌদিকে সাহায্য – এই চাপ কি সামলাতে পারবে পাকিস্তান? অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটের জেরে চিন্তা বাড়ছে বাংলাদেশেরও। এই বিপদের সময়ে বাংলাদেশকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। তবে অনেকেই জানতে চাইছেন ভারত নিজে কতটা প্রস্তুত? এই যুদ্ধ থামবে কবে? একাধিক প্রশ্ন, উত্তর অজানা। ইরান বলছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে। বর্তমানে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা রয়েছে। তেল আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। আমেরিকার এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনেত তথ্যনুযায়ী, এই সরু জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়াম জাত পণ্য পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বের প্রায় মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের এক চতুর্থাংশের বেশী। এই তেলগুলি যায় চিন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে হরমুজ প্রণালী যদি বন্ধ থাকে তাহলে সবচেয়ে বেশী ধাক্কা খাবে উপরিউক্ত দেশগুলি। হরমুজকে ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তেজনা। পরিস্থিতি হচ্ছে ভয়ানক। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ননসেন্স আখ্যা দিয়ে তেহরানের হুশিয়ারী, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি তেলের খনিতে হামলা চালায় তাহলে ১ লিটার তেলও বের করতে দেওয়া হবে না। হুঙ্কার, হুশিয়ারির আঁচ পড়েছে পাকিস্তানেও। পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, দেশে এখন মাত্র ১০ থেকে ১৪ দিনের পেট্রোলের মজুত আছে। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে আগামিদিনে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন সংগঠনের কর্তারা। পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওগ্রা সতর্ক করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনও জায়গায় পেট্রোল মজুত করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সাংবাদিক সম্মেলনে, আগামী সপ্তাহ থেকে পাকিস্তানের সমস্ত স্কুল টানা ২ সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষার কার্যক্রমকে অনলাইনে ট্রান্সফার করা হয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তানের ব্যাঙ্কসমেত সব অফিস সপ্তাহে ৪ দিন কাজ করবে। তাছাড়াও আগামী দুমাস সরকারি দপ্তগুলোর জন্য জ্বালানি বরাদ্দে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করা হবে। রমজানের মাসে পাকিস্তানের অবস্থা যে বেহাল সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাকিস্তানের পাশাপাশি, বাংলাদেশও পড়েছে সমস্যায়। ভারত বিরোধী স্লোগান তোলা বাংলাদেশকে এই অসময়ে হাহাকারের সময়ে ভারতই পাশে বাংলাদেশের। হ্যা, ঠিকই শুনেছেন। জ্বালানী সরবরাহে সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশেও। বিপুল পরিমা মানুষ পেট্রোল-ডিজেল কিনে নিচ্ছেন। বাংলাদেশের ইদের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি ভান্ডারকে পর্যবেক্ষণ করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে তারেকের সরকার। তারেকের সরকার জনগণের উদ্দেশ্যে বলেছে, দিনের বেলায় পর্যাপ্ত আলো থাকলে, লাইট না জ্বালাতে। অফিসগুলিতেও বিদু্তের ব্যবহারে হ্রাশ টানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসি কম চালাতে বলা হয়েছে। তেল সঙ্কটের সময়ে বাংলাদেসে বাইকে ২ লিটার এবং ব্যাক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার তেল দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ভারতকে আবেদন জানায় । সেই আবেদনে ভারত সারা দিয়ে বাংলাদেশকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল দিচ্ছে। যার মধ্যে মঙ্কলাবর ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠানো হয়েছে অসমের নুমালিগড় তেল সংশোধনাগার থেকে। পাইপলাইনের মধ্যে দিয়ে তেল। এবার কী বাংলাদেশ বুঝতে পারল? কে তাদের পরম বন্ধ? কেন বললাম একথা, কারণ ইউনূস পাকিস্তানকে বন্ধু ভাবত। আর ভারতকে শত্রু। ভারত পাশে দাঁড়ালেও ভারতেও কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য়ের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের দাম এক ধাক্কাতেই বেড়েছে ৬০ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম সিলিন্ডার পিছু ১১৫ টাকা বেড়েছে। গ্্যাসের সঙ্কট মেটাতে অন্য পথ দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। কানাডা, অস্ট্রিলিয়ার থেকে অতিরিক্ত সরবরাহকারী নিশ্চিত করছে কেন্দ্র। যুদ্ধ যদি না থামে তাহলে কী হবে। মার্কিন প্রেসডিনেট্ জানিয়েছে, যুদ্ধ তাড়াতাড়ি থামবে। এই যুদ্ধ কবে থামবে এটাই এখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। সমঝোতার রাস্তা একেবারেই নেই। যুদ্ধ বাড়ছে ঠিকই জড়িয়ে পড়ছে বাকি দেশগুলি। সমস্যায় পড়ছে তারা। ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রদূত হুসেন হাসান মির্জার দাবি, এই লড়াই একটি ফোনেই থামিয়ে দিতে পারেন নরেন্দ্র মোদি। এই দাবিতে ভারত মধ্যস্থতা করবে কিনা সেটা সময় বলবে। এখন দেখার পরিস্থিতি আর কত ভয়ানক হতে পারে।












Discussion about this post