অনেকেই হয়তো ভাবেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যুদ্ধ কোনদিনই হতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশ কি এখন আর বাংলাদেশ আছে, সেটি তো এখন আবার পূর্ব পাকিস্তান হয়ে গেছে। তাই অদুর ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের যুদ্ধটা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। যে কোন সময় এই যুদ্ধ হতে পারে। কারণ বাংলাদেশে এখন পাকিস্তানের আইএসআই ঘাঁটি গেড়ে বসেছে, ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালানোর জন্য। ফলে ভারত বাংলাদেশের এই ইউনূস সরকারকে এক বিন্দুও বিশ্বাস করতে পারে না। তাছাড়া আমেরিকা ভারতের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ফলে পাকিস্তান লাফাচ্ছে আমেরিকার ইন্ধন পেয়ে। তারা ভাবছে এখন জঙ্গীদের দিয়ে ভারতের সঙ্গে একটা যুদ্ধ করে নেওয়া যায়। কারণ আমেরিকার মোসাহেবি করলে জঙ্গীরা আর জঙ্গী থাকে না, তারা যোদ্ধা হয়ে যায়। তাই পাকিস্তানের আসিফ মুনির র্নিলজ্বের মত ট্রাম্পের তোষামদি করে চলেছে। তারা ট্রাম্পকে শান্তির জন্য নোবেল দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে। আর ট্রাম্প পাকিস্তানে তার ক্রিফটো কারেন্সির বিজনেস বাড়িয়ে চলেছে। ফলত মনে হচ্ছে ট্রাম্প দেশ চালাচ্ছেন না, চালাচ্ছেন তার ব্যবসা। যার ফলে আমেরিকাতও হাজার সমালোচনার মুখে ট্রাম্প। তাকে যতই বোঝানো হচ্ছে ভারত বিরোধীতায় যাবেন না, ততই তিনি নিজে এবং আসিফ মুনিরের মত ভক্তদের দিয়ে ভারত বিরোধীতার সুর চড়াচ্ছেন। ট্রাম্পের আশকারা পেয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ভারতেক পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে।সেটা আবার আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে। যদিও এই মহুর্তে চীন পাকিস্তানের সঙ্গে নেই বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে, তবে তাদের খুব একটা বিশ্বাস করাও যায় না। তারা ভিতরে ভিতরে ভারত বিরোধী চাল চালতেই পারে। কারণ বাংলাদেশ থেকে বিএনপি এবং জামাত বার বার চিন সফরে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ লাগলে কার লাভ? হয়তো কারোরই না। কিন্তু ক্ষতি? গোটা বিশ্বের। যে পরিমাণ মানুষ ও সম্পত্তির বিনাশ হবে, সেটা মানবকল্যাণে ব্যয় হলে মানবজাতি কয়েক শতাব্দী সামনে এগিয়ে যাবে নিশ্চিত।
আগেও বহুবার বলে এসেছি, ভবিষ্যতেও বলব, আধুনিক বিশ্বে একটা যুদ্ধ লাগা যতটা সহজ, বন্ধ করা তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন বা রীতিমতো অসম্ভব।
সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধটাই ধরা যাক। সবাই ধরেই নিয়েছিলেন, ইউক্রেন দুই সপ্তাহও টিকতে পারবে না। সেই লড়াই দুই–আড়াই বছর পেরিয়ে গেছে, এখনো কোনো সমাধান নেই।
এর আগে আমেরিকার আফগানিস্তান-ইরাক আক্রমনের ঘটনা দেখে নেওয়া যাক। অতি সহজে আমেরিকা সেসব দেশের সরকার পতন ঘটিয়ে দিয়েছে, কিন্তু এরপরই শুরু হয়েছিল আসল যুদ্ধ। গেরিলা যুদ্ধে মানুষ মরতে আর মারতে মারতে একপর্যায়ে আমেরিকা ওসব দেশ থেকে সেনা ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়। এর মধ্য দিয়ে আমেরিকার সাত ট্রিলিয়ন ডলার খতম। এই বিপুল পরিমান টাকা চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ইত্যাদিতে ব্যবহার করলে দুনিয়া কোথায় চলে যেত!
আর লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণনাশের হিসাব কীভাবে করবেন? মৃত সন্তানের শরীরের টুকরো হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একেকটি মাকে কত টাকার ক্ষতিপূরণ দেবেন? জীবনের মূল্য কি ডলারের হিসাবে হয়?
এখন ভারত–পাকিস্তানের মধ্যেও যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে। অন্তত মিডিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। দুই দেশেরই মিডিয়ায় কার্টুনের অভাব নেই, ওরা লাফালাফি করছে যুদ্ধ শুরু হলে হ্যান করেঙ্গা, ত্যান করেঙ্গা, বাস্তবে যুদ্ধ লাগলে এরাই সবার আগে পালাবে। হাতি দিয়ে টেনেও এদেরকে ময়দানে আনতে পারবেন না। মাঝখান দিয়ে দুই দেশের সেনাবাহিনীর কিছু সৈনিক এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক মৃত্যু ঘটবে।
আমরা এমন এক ধরণের জীব যারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ক্ষতি হলে খুব আনন্দ পাই। শুধু আমাদের কথা বলছি না, আমি বাংলাদেশ-পাকিস্তান সবার কথাই বলছি। গদি মিডিয়া পাকিস্তানেও আছে। দেশের অর্থনীতি রীতিমতো থালা হাতে ভিক্ষা করার অবস্থানে চলে এসেছে, কিন্তু ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে হুমকি–ধমকি দিতেই ওদের জনতা সব ভুলে গলা মেলাচ্ছেন। পাকিস্তান সুপার লিগ টুর্নামেন্টে ভালো পারফরমারকে একটা হেয়ার ড্রায়ার পুরস্কার দিচ্ছে, এদিকে এরা সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধ জিতে ফেলছে।
একবারও প্রশ্ন করছে না, ইন্ডিয়ার সঙ্গে লড়বি ভালো কথা, তা আমার পাতে খাবার জুটবে তো?
আসলে এসব ফালতু যুদ্ধে নেতাদের কিছুই যাবে–আসবে না। ওরা আরও দুর্নীতি করার সুযোগ পাবে। নির্দোষের রক্তে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে। সাম্প্রতিক যেকোনো যুদ্ধের উদাহরণ নেন, নির্দোষ মানুষের হতাহতের সংখ্যা কত, সেটা শুধু দেখেন। নেতাদের কিছুই হয় না।
হ্যাঁ, কাশ্মীরে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, সেটার তদন্ত ও বিচার সবই হওয়া উচিত। যারা হামলা করেছে, ওদেরকে একেবারে কোমর ভেঙে দেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যেন এমন হামলা না হতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাদের ব্যর্থতায় এই হামলা হয়েছে, তাদেরকেও জবাবদিহি করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনকে রক্ষার জন্যই সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই দায়িত্বপালনে ব্যর্থতার দায় কেন সরকার নেবে না? পাকিস্তান আর কত দিন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে থাকবে? কেন দুনিয়ার সব ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী ওদেরই দেশে পাওয়া যায়? এর জবাব দিতেই হবে।
কিন্তু ‘যুদ্ধ’ কখনই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।কারণ একটি যুদ্ধ শেষ হলে সেই শেষে আবার একটি যুদ্ধের ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে।












Discussion about this post