বাংলাদেশের বায়ুসেনার F7 যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছ উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের উপর। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৮ জনের। আহত হয়েছেন বহু। যা ঘিরে বাংলাদেশে উত্তাল পরিস্থিতি। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছেন। চলছে বিক্ষোভ। সরকার কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সেই প্রশ্ন সামনে আসছে। গেট ভেঙে সচিবালয়ের ভিতর ঢুকে পড়ে শিক্ষার্থীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করতে শুরু করে। অর্থাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। বরং দিন দিন বাড়ছে। সবথেকে লক্ষ্যনীয়, সেনাবাহিনীকে মানছে না কেউ। তবে কি সেনাবাহিনী নিজেদের গরিমা হারিয়েছে? কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, সেই উত্তর খুঁজে বার করতে হবে সেনাবাহিনীকেই। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যখন আইন উপদেষ্টা এবং শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সেখানে পৌঁছয়, তখন ৫ ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ছাত্ররা ছয় দফা দাবি দিয়েছিল, সেগুলি সব মেনে নেওয়া হবে, এমন আশ্বাসে পরবর্তীতে সেই কর্মসূচি তুলে নেয়। এবং সচিবালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা নানা রকম স্লোগান তুলতে থাকে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতি তৈরি হল কেন? কেন লাগাম টানা যাচ্ছে না? এদিকে অনেকে বলছেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা যে পথ এতদিন দেখিয়েছে, সেই পথেই হাঁটছে এই শিক্ষার্থীরা। অর্থাৎ এতদিন ধরে সরকারের কাছে ছাত্রনেতারা যে যে দাবি রেখেছে, সবটাই পূর্ণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফলে এখন বাংলাদেশের যেখানেই বিক্ষোভ বা আন্দোলন হবে, তাতে মেনে নিতেই হবে সরকারকে। যদিও এই পরিস্থিতি কাম্য নয়। ঠিক একইভাবে কাম্য নয় সেনাবাহিনীকে কটুক্তি করা। কিন্তু বিক্ষোভ বা আন্দোলন থেকে সেটাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দেশ জুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে সরকার নাকি এখনো আহতদের সংখ্যা নাকি জানাতে পারেনি। তা ঘিরে ছাত্রদের পরিবারের তরফে প্রবল বিক্ষোভ চালানো হচ্ছে। অনেকে বলছেন, যে ছাত্রদের জন্য মহম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা হয়ে সিংহাসনে বসলেন, এবার আসল ছাত্রদের বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত হবে তার।
প্রসঙ্গত, সোমবার বাংলাদেশ বায়ুসেনার F7-এর বিমান ভেঙে পড়ে উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের উপর। জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ ওড়ার ১২ মিনিটের মধ্যেই কলেজ ভবনের উপর বিমানটি ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এখনও পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাইলটেরও মৃত্যু হয়েছে। তার নাম, তৌকির ইসলাম। এমনকি প্রশিক্ষণের সমস্ত ধাপ শেষে প্রথমবারের মতো একা বিমান চালাবেন এই খবরে পরিবারের সদস্যরা সোমবার সকাল থেকেই উচ্ছসিত ছিলেন। কিন্তু দুপুরেই সব শেষ হয়ে গেল। আর এই দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। এমনকি এই ঘটনা কেন ঘটল, তেমন নানা প্রশ্নে বিদ্ধ করা হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। দুর্ঘটনার দায়ী সরকার এবং সেনাবাহিনীকে নিতে হবে বলে জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।












Discussion about this post