ক্রমশ অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। অনেক যুদ্ধ লড়াই করে সেই দেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক মহলে জায়গা পেয়েছিল। এবং শুধু তাই নয় বাংলাদেশ জন্ম দিয়েছিল তাবোড় তাবোড় ক্রিকেটারকেও। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজত্বে ইউনূসের কোপের মুখে শেষে পড়তে হলো সেই দেশটির ক্রিকেটকেও। আমরা প্রত্যেকে জানি ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা কিন্তু সেই ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে তাদের মাথায় যারা বসে আছে তারা কি ভদ্রলোক? প্রশ্নটা এখানেই জন্ম নেয়। ভারতের প্রতি চরমবিদ্বেষ প্রকাশ করতে গিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে অংশগ্রহণ করবে না বাংলাদেশ এবং ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর ইস্যুতে ইউনূসের স্পোর্টস উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যা, মন্তব্য করেছিল ইতিমধ্যেই তা মিথ্যে বলে প্রমাণ করে দিয়েছে আইসিসি। এরই মধ্যে আরও এক ঘটনায় উত্তাল হয়ে পড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ক্রিকেটাররা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। বিসিবি অর্থাৎ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালকের পদ থেকে সরতেই হবে এম নাজমুল ইসলামকে। সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা একত্রিতভাবে ৫টি কারণ জানিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, ক্রিকেটাররা খেলতে প্রস্তুত কিন্তু তারজন্য বিসিবি পরিচালকের পদ থেকে সরতে হবে নাজমুলকে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকার প্রথম ক্রিকেটের সঙ্কট, মহিলা ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি অভিযোগে বিসিবির অবস্থানের বিষয়ে বলা হয়েছে।পাশাপাশি নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ ও মহিলা ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, খেলোয়াড়রা তখনই খেলতে যাবে, যখন বিসিবি নিশ্চিত করে জানাবে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নাজমুল ইসলাম আর পরিচালক পদে থাকবেন না। বোর্ডের পক্ষ থেকে এই শর্ত মেনে নেওয়া হলেই বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা আবার ময়দানে ফিরবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মধ্যে খেলা ছিল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খেলা স্থান ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু ক্রিকেটাররা মাঠে খেলতে যাননি। বিসিবির কয়েকজন পরিচালক তাঁদের সঙ্গে কথা বলেও লাভ হয়নি। বোর্ডের পক্ষ থেকে নাজমূল ইসলামকে অর্থ বিভাগের পদ থেকে সরানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের নিয়ে করা মন্তব্যের জেরেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসবে না বাংলাদেশ। তারফলে ক্রিকেটাররা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে সেটা কীভাবে মেটানো হবে প্রশ্ন করা হলে, নাজমূল জানান, ক্রিকেটাররা গিয়ে কিছু করতে না পারলে, তার পিছনে হওয়া খরচ চাওয়া হয় কি? কোথাও তেমনভাবে দাগ কাটতে পারেনি দল। তারপরেও তাঁদের পিছনে খরচ হচ্ছে। সেই টাকা তো চাওয়া হয় না। তাহলে এই ক্ষেত্রে কেন হবে? এই সবের পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। আলোচ্য ঘটনায় বাংলাদেশ যে ক্রিকেটে জায়গা পেয়েছিল ইউনুসের আমলের পর উপদেষ্টাদের ভুলভাল পদক্ষেপ নিজেদের আখের গোছানোর জন্য এমনকি নিজেদের অন্য দেশের প্রতি আক্রোশ মেটানোর জন্য হঠকারিতার সিদ্ধান্ত যে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিপদে ফেলছে তা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post