ভারত বিরোধী নানা ধরনের বয়ান তৈরি করা হচ্ছে বাংলাদেশে। সেটা কখনও সরকার থেকে আবার কখনও বেসরকারি পর্যায় থেকেও তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু ভারত বিরোধী জিগির তুলে আদেও কতটা লাভ হচ্ছে বাংলাদেশের, সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। এরমধ্যে নতুন করে একটি বার্তা দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। এদিকে যখন ভারত বিরোধী জিগির তোলা হচ্ছে বাংলাদেশে, তখন তথ্য বলছে, ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্যের পরিমাণ বেড়েছে বাংলাদেশের। অর্থাৎ ভারত নির্ভরতা বাদ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। যদিও যুদ্ধের জিগির তুলেও ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ ইউনূসের!
একদিকে বাংলাদেশের একাধিক উপদেষ্টা, উঠতি নেতা যখন বলছেন, ভারতের গোলামী আমরা করবো না। আর একদিকে দেখা যাচ্ছে, ভারতের উপর নির্ভরশীলতা দিনে দিনে বাড়ছে বাংলাদশের। যদি ভারত রফতানি বন্ধ করে দেয়, তখন কি অবস্থা হবে? ভারতই বা এই বিষয়গুলি নিয়ে কি ভাবছে? জানা যাচ্ছে, নির্ভরতা কমানোর ডাক দিয়ে ভারত থেকে আমদানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশ যত দেশ থেকে যত কিছু আমদানি করে, তারমধ্যে ভারত থেকে আমদানি প্রবৃদ্ধি সবথেকে বেশি। ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস একটি সাক্ষাৎকারে সেই সময় বলেছিলেন, ভারতে হাসিনার অবস্থানের কারণে কেউ স্বচ্ছন্দ্যবোধ করছে না। এরপর বিভিন্ন কারণে সরকার সংশ্লিষ্ট অনেকেই অনেক ক্ষেত্রে ভারত নির্ভরতা কমিয়ে আনার কথা বলেছেন। এদিকে ডিসেম্বরে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারতের পাশাপাশি সরকার টু সরকারের মাধ্যমে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান সহ এমন বহু দেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে। কিন্তু সেগুলি বক্তব্যের মধ্যেই রয়ে গিয়েছে। বাস্তবে পূরণ হয়নি। মে মাসে আলু পেঁয়াজ আমদানিতে ভারত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প রাস্তার কথা ভাবা হবে বলে জানিয়েছিল ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু সেটারও কার্যকারিতা অধরা। এদিকে ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতো আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গত এপ্রিলে। এছাড়া নিউজপ্রিন্ট, সাইকেল, মতির সাইকেল পার্টস, গুড়ো দুধ সহ বিভিন্ন পণ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হচ্ছে নানা মহল থেকে। তবে গত অর্থ বছরে এসবের কোনও প্রভাব ভারত থেকে আমদানি ক্ষেত্রে পড়তে দেখা যায়নি। ২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য আমদানির প্রধান উৎসগুলির মধ্যে ভারত থেকেই গত বছরে আমদানি সবথেকে বেশি হয়েছে। সেটি ৭.৮৩ শতাংশ। এদিকে ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করেছিল। এমনকি কয়েকদিন পর ১৫ ই এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তথা এনবিআর ঘোষণা করে, ভারত থেকে সুতো ও কাঁচামাল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ করা হবে। এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হয়েছিল। অনেকে বলছেন, এখনও পর্যন্ত দেড় বছর কেটে যাওয়ার পরও বাংলাদেশে ভারতের বিরুদ্ধে জিগির তুলেও ভারতের বিকল্প খুঁজে পায়নি। তাহলে কেন বাংলাদেশের উঠতি নেতারা বড় বড় বাণী দিচ্ছেন? প্রশ্ন উঠছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার যা যা করছে, তাতে হয়তো বিপদে পড়তে পারে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। যদিও ভারত এখনও পর্যন্ত সংযমের বার্তা দিয়ে এসেছে। এমনকি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচিত যে সরকারই আসুক না কেন, ভারত তাদের সঙ্গে কাজ করবে এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।












Discussion about this post