ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের তেমন কোনও সম্পর্ক না থাকলেও বাংলাদেশের তিন বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এই সম্পর্কগুলো স্বাভাবিক রয়েছে। এই বক্তব্য ভারত বাংলাদেশ উত্তেজনার মধ্যে নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে। এমনকি তিনি বলেছিলেন, এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অর্থাৎ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সেটা চার থেকে পাঁচ মাসের সিদ্ধান্ত। যে কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে ভারত মাথা ঘামাচ্ছে না। এরমধ্যে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপুর্ণ তথ্য। বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা অন্তত পাঁচটা পুরোনো পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি আবার সচল করছে ভারত। সেটার উদ্দেশ্য যে বাংলাদেশ, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কেউ কেউ বলছেন, ভারতের সেনাপ্রধানের নির্দেশে আতঙ্কে ঢাকা। তারমধ্যে ভারতের রণসজ্জা দেখে আরও আতঙ্কিত তারা।
জানা যাচ্ছে, যে পাঁচটি বিমান ঘাঁটি সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত, সেগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সেভাবে আর ব্যবহার করা হয়নি। এই পাঁচ বিমান ঘাঁটি পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে অবস্থিত। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগাওয়া সেনাঘাটীগুলিও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি লাগোয়া চিকেন নেকের নিরাপত্তা জোরদার করতে পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি গুলির সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। এই বিমান ঘাঁটিগুলি হল জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদার ঝালিহালিয়া, অসমের ধুবড়ি। এরমধ্যে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া পশ্চিমবঙ্গে বিমান ঘাতিগরি রাজ্য সরকারকে হস্তান্তর করেছিল অসামরিক বিমান এবং হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করার জন্য। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে ভারত সরকার এগুলিকে ফের বিমানবাহিনী হাতে তুলে দিতে চাইছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯৭১ এর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই বিমান ঘাঁটি গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল। মূলত যুদ্ধের সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে কর্ণ বাহিনী বিমান ওঠানামা করত এই বন্দর গুলিতে। আপাতত পাঁচটি বিমান ঘাটের সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। কিন্তু প্রশ্ন হল হঠাৎ করে কেন এই তৎপরতা? কি এমন দরকার পরল, যেখানেই পরিতক্ত বিমান ঘাঁটি সচল করার উদ্যোগ নিতে হল ভারত সরকারকে? এর কারণ হিসেবে উঠে আসছে, ভারত বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্কের টানা পড়েন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আচমকা অবনতি হওয়ার কারণে ভারত সরকার উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে। এদিকে বাংলাদেশ সরকার ও দুটি পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে লালমনিরহাট এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় অবস্থিত দুটি সামরিক বিমান ঘাঁটি। এরমধ্যে লালমনিরহাটের বিমান ঘাঁটিটি আয়তনে এশিয়ার বৃহত্তম। সেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এরমধ্যে সামনে এল, ভারতও উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ভারতের উদ্যোগ গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। কারণ সেখানকার বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এই খবরটি ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক যেভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে, তাতে এখনও পর্যন্ত পদ্মাপাড়ের উঠতি নেতাদের না থামানো হলে, ভারত বড়সড় কোনও পদক্ষেপ করলে, কিভাবে সামলাবেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা! প্রশ্ন তুলছেন সেদেশরই বহু মানুষ।












Discussion about this post