বাংলাদেশ শুধু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে তাই নয়, গৃহযুদ্ধ প্রকট হয়ে উঠছে। এটা বোঝেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ থেকে শীর্ষ কর্তারা। কিন্তু এর থেকে উত্তরণের পথ কোথায়? কিভাবে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে?
গত বছর জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে যখন উত্তাল হয়েছিল বাংলাদেশ, তখন স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগ সরকার বাধা দানের চেষ্টা করেছিল। একটি সরকারকে ফেলার জন্য আন্দোলন তৈরি হলে, তাকে ঠেকাবে সেই সরকার, সেটাই তো বলাই বাহুল্য। কিন্তু তৎকালীন সরকারের এই একশনকে ছাত্রনেতারা বলছে, মানবতা বিরোধী কাজ। 2024 এর জুলাইতে যুক্তরাজ্যে একটি দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। তখন পুলিস নামানো হয় এবং কঠোর হাতে সেটা দমানোর চেষ্টা করা হয়। এরকম ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘটতেও দেখা গিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যে কোনও দেশে দাঙ্গা বা সন্ত্রাস দমনের জন্য পুলিশ নামানো হলে, তাতে আহত এবং নিহতের সংখ্যা জানা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। আহত নিহতের সংখ্যা সামনে তো এসেছেই, পাশাপাশি কে কাকে মেরেছে, সেটা উল্টে দেওয়া হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন, এই পরিকল্পনা ছিল জামাত শিবির এবং হিজবুতদের। বাংলাদেশকে একটি ধর্মাশ্রয়ী উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই আয়োজন। এই 5 আগস্টের পর থেকে একটি মূল উদ্দেশ্য নিয়ে কমিশন গঠন করা হয়। তাদের আবার ঐক্যমত কমিটিকে বাবা বানিয়ে ইউনুস সরকার এবং তার সন্ত্রাসী সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাতিল করার উদ্দেশ্যেই কাজ করে চলেছে। কিন্তু সেটা অত সহজ নয়। এই নিয়ে লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্যা ইকোনোমিস্ট পত্রিকা। এই পত্রিকাটি বলছে, ৯ মাস ধরে চেষ্টা করেও মোহাম্মদ ইউনুস এবং তার দলবল এগোতে পারছে না। তারা চাইছে, সংস্কার শেষ করে নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে ইউনূসের সঙ্গে জনগণ রয়েছে। কিন্তু এই পত্রিকাটি জোর দিয়ে বলছে, বাংলাদেশের বড় কোন পরিবর্তন আনা ইউনুসের কর্ম নয়। এই বিষয়ে বলতে গিয়ে পত্রিকাটি শেষে বলে, আওয়ামীলীগ দেশের বাইরে থাকলেও দেশের ভিতর কাঁপন ধরিয়ে দিতে পারে। এই কথাটি কি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। এই পত্রিকাটি বাংলাদেশের কোন পত্রিকা নয়। একটি বাইরের দেশের। ফলে আওয়ামী লীগের হয়ে কথা বলার দায় তাদের নেই। কিন্তু যখন তারা এই ধরনের কথা লিখছে, তারমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সেই জায়গাতেই রয়েছে।
বাংলাদেশের গৃহযুদ্ধের কথা কেন বারবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন সেটা আলোচনা করা যাক। কারণ বাংলাদেশের সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, দেশের মধ্যে চরম উগ্রবাদ মাথাচারা দিচ্ছে। দেশের নারীরা এখন চরম অসহায় রয়েছে। বহু শ্রমিক কাজহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি একেবারেই নাজেহাল। দেশে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি থাকলেও দেশের কোনও রাজনীতির পরিস্থিতি নেই। লুটপাটের দিক থেকে ইউনুস সরকার একেবারে টেক্কা দিয়ে দিয়েছে বহুদিন ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলির থেকেও। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি দিয়ে ইউনূসের অপকর্মের সঙ্গী করে তোলা হয়েছে। এবং সেনাবাহিনীর ঘরে বন্দুক রেখে আরাকান আর্মিকে অস্ত্র সাপ্লাইয়ের করিডোর দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর মধ্যে অস্থিরতা লক্ষ্য করা। দেশের প্রশাসনের ভেতরেও অস্থিরতা দৃশ্যমান। সূত্রের খবর, এই মহাজনের সরকার আগামী ১০ জুনের মধ্যে একটি নতুন শাসনব্যবস্থার রূপরেখা হিসাবে একটি জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যমান সংবিধান বিলুপ্ত করা হবে এবং দেশকে নতুন ঘোষণাপত্রে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী দেশকে চালনা করবে। সংবিধান বিলুপ্তের পর রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। এই ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি। যেখানে কোনওভাবে আয়ত্তে রাখা যাচ্ছে না, সেই দেশ গৃহযুদ্ধের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে, যেটা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে, চচাকরিচ্যুত সেনা সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্দরে। এছাড়াও দেশের কোনায় কোনায় নানা বিষয় নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যে বেশি দিন স্থির থাকবে না, সেটা বুঝতে পারছেন অনেকেই। এখন দেখার শেষমেষ কি হয় বাংলাদেশের পরিণতি।












Discussion about this post