বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ উন্নতি হয়েছে। এ বছরের ৫ মার্চ সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস দাবি করেছিল, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক বা জিটিআই সূচকে সাতটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। অথচ, এমনকি একবার বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেছেন, “জঙ্গি নেই – এ কথা বলা যাবে না”। আবার ৩৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রচার পেয়েছে৷ কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সরকারের মুখপাত্ররা বারবার দাবি করে আসছেন বাংলাদেশে কোনও জঙ্গি নেই। যেখানে নয়া দিল্লিতে যখন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বাংলাদেশের জাতায় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের হাতে একটা সুনির্দিষ্ট তথ্য সম্বলিত ডসিয়র তুলে দিয়েছেন। তাতে বাংলাদেশে সক্রিয় জঙ্গিদের তালিকা সেই সঙ্গে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যাবতীয় তথ্য ও প্রমান-সহ তালিকাও রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্তমান কমিশনার শেখ মোহম্মদ সাজ্জাত আলী বলেছিলেন, ‘‘জঙ্গি নাই, এখন ঠেকাতে হবে ছিনতাই। জঙ্গি থাকলে না জঙ্গি নিয়ে ভাববো? আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারছে …. কিসের জঙ্গি?” অর্থাৎ, একদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্তা, অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালকের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। ভারতের দাবি, বাংলাদেশের দাবি, সবকিছুকে কার্যত ছাপিয়ে গেল পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের একটি প্রতিবেদন। সেখানে তাঁদের দাবি, বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক অত্যন্ত সক্রিয়। দ্য জন ডেললাইন করেছে, “সামরিক বাহিনী: পাকিস্তানে বাংলাদেশের জঙ্গি পাইপলাইন”। মুলত পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নিয়েই এই প্রতিবেদন। বাংলাদেশ থেকে যুবকরা কিভাবে পাকিস্তানের এই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিচ্ছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই যারা ক্ষয়ক্ষতি করছে সবটাই তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। অথচ, এই মুহূর্তে পাকিস্তান হল বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের নয়নের মণি। পাক সংবাদমাধ্যম দ্য ডন লিখেছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে মাদারীপুরের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী এই যুবক ফয়সাল হোসেন কিভাবে দুবাইয়ে কাজে যাওয়ার নাম করে পাকিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি-র হয়ে লড়াই করছিলেন। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় একটি অভিযানের সময় ফয়সাল হোসেনকে অন্যান্য টিটিপি জঙ্গিদের সাথেই হত্যা করে। পাক সংবাদপত্র দাবি করেছে, টিটিপি-র হয়ে লড়াই করার সময় নিহত অন্তত চার বাংলাদেশির মধ্যে হোসেন একজন। অর্থাৎ আরও বাংলাদেশি রয়েছে টিটিপি-তে।
বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট দাবি করেছে যে আরও দুই ডজনেরও বেশি বাংলাদেশি যুবক বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছে। তাঁরা টিটিপি এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের হয়ে লড়াই করছে। পাকিস্তানের দ্য ডনের দাবি, ২৯ বছর বয়সী রতন ঢালি নামে চট্টগ্রামের এক যুবক নভেম্বরের গোড়ার দিকে ২৬ সেপ্টেম্বরের অভিযানে নিহত হয়েছে। যদিও চট্টগ্রামের পুলিশ এই দাবি নস্যাৎ করে জানিয়েছিল, চিহ্নিত ওই যুবক বাংলাদেশেই বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে। দ্য ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে পাকিস্তান সরকারও সেটা মেনে নেয়। পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি, যারা টিটিপি বা অন্য কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নাকি ভারত ও নেপাল হয়ে প্রথমে দুবাই ও পরে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানে পৌছেছিল। তাঁরা প্রত্যেকেই দুবাইয়ে কাজ পেয়েছে বলে বাড়িতে জানিয়ে গিয়েছিল। দ্য ডন দাবি করেছে, এই বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানে ২২ বছর বয়সী জুবায়ের আহমেদকে হত্যা করা হয়েছিল | তিনিও বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে চলে এসেছিলেন জঙ্গি দলে নাম লিখিয়ে। তিনজন নিয়োগপ্রাপ্তের মধ্যে কিছু মিল আছে, তিনজনই তিনজনই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছে। এবং বেশি টাকা রোজগারের জন্য তাঁদের টোপ দিয়ে দুবাই হয়ে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানে চালান করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন যে জঙ্গি নিয়োগকারীরা প্রায়শই গ্রামীণ জেলার তরুণদের লক্ষ্য করে, যারা বিদেশে চাকরি খুঁজছেন অথবা আর্থিকভাবে সঙ্কটে আছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, পাকিস্তান টিটিপি নিয়ে চিন্তিত হলেও তাঁরা বাংলাদেশে একই কায়দায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য। যা পাকিস্তানের দ্বিচারিতার অন্যতম প্রমান।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post