এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কাকতালীয়ভাবে সেখানেই কোনও এক গোপন আস্তানায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুজনের বিরুদ্ধেই আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আছে। কিন্তু দুজনেই অবাধে ভারতে রয়েছেন। যদিও শেষ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন সবচেয়ে তলানিতে। এই আবহে বাংলাদেশ চাইছে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি করে ভারতকে বাধ্য করতে, যাতে হাসিনাকে ফেরত পাওয়া যায়। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের কি সেই কূটনৈতিক দূরদর্শিতা আছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, মুহাম্মদ ইউনূস নোবেলজয়ী একজন স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আঙিনায় একটা পরিচিতি রয়েছে। আবার একটি অংশের মতে, ইউনূস আসদে মার্কিন ডিপ স্টেটের একটি ডিপ অ্যাসেট। তাঁকে মার্কিন ডিপ স্টেট তৈরি করেছে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ায় একটা অচলাবস্থা তৈরি করতে। তাই সাজানো গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই তাঁকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর কাজটা ঠিকঠাক করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ভারতও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। বিশেষ করে ভারতে এথন নরেন্দ্র মোদির সরকার রয়েছে। তাঁর নবরত্ন সভায় এস জয়শঙ্কর, রাজনাথ সিং, অজিত ডোভালের মতো রত্নরাও রয়েছেন। ফলে কূটনৈতিক ও গোপন চালে ভারত অনেকটাই চাপে ফেলেছে মুহাম্মদ ইউনূসকে।
প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ইউনূস কি করতে পারেন। মুহাম্মদ ইউনূসের প্রধান হাতিয়ার জাতিসংঘ। তাঁর সাথে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিয় গুতারেসের সম্পর্ক অতি ভালো। এর আগে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ঘুরে যান। এমনকি ইউনূসের আহ্বানে তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার দল পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এবং একটি রিপোর্টও প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘ। যদিও ওই রিপোর্ট নিয়ে বিস্তর বিতর্ক ও অভিযোগ। যাই হোক, এবারও জানা যাচ্ছে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসতে চলেছে। হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর এটাই প্রথম কোনও জাতিসংঘের সফর হতে চলেছে। ফলে তাঁদের সামনে রেখে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠিয়ে দিতে পারেন মুহাম্মদ ইউনূস। অন্যদিকে ইউনূসের আরেকটি সহায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এই মুহূর্তে ডিপ স্টেট কিছুটা কোনঠাসা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ওয়াশিংটন তাঁদের পররাষ্ট্র নীতি পরিবর্তন করেছে। এর ইঙ্গিত ট্রাম্পও দিয়েছিলেন। ফলে ওয়াশিংটন আবারও ভারতের সাথে মিলিতভাবেই দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাঁদের কৌশলগত অবস্থান নিতে শুরু করেছে। তা এখন দৃশ্যমান রয়েছে। একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফর নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেনি ওয়াশিংটন। ফলে এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ইউনূসের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। ফলে ইউরোপের কয়েকটি দেশ এবং জাতিসংঘই ভরসা ইউনূসের। অনেকেই দাবি করছেন, জাতিসংঘ এবার ইউনূসের হয়ে ময়দানে নামতে পারে। ভারতের সাথে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকায় ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য এই জাতীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারে তাঁরা। কিন্তু তারপরও কি ভারত হাসিনাকে ফেরত দেবে?
যেটা জানা যাচ্ছে, তা হল সাজা ঘোষণার পর দিল্লিতে হাসিনার ঠিকানা বদল হলেও হতে পারে। অর্থাৎ, তাঁকে আরও কোনও সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ, হাসিনার সাথে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বৈঠকের অনুমতি দিয়েছিল নয়া দিল্লি। তাই আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ভারতীয় গোয়েন্দা কর্তারা। অন্যদিকে, ভারত এবার বাংলাদেশকে আরও চাপ সৃষ্টির কৌশল নিতে পারে। রাশিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি তারই একটা ইঙ্গিত। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে নেওয়ায় জাতিসংঘও খুব একটা ট্যা-ফোঁ করবে না। ফলে ইউনূস কূটনৈতিক মহলে আরও একঘরে হবেন।












Discussion about this post