ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার ফলে বাংলাদেশ সরকার শুধু তাদের নিজেদের পায়ে কুড়ল মারেনি, নিজেদের পা টাই কেটে ফেলেছে। একসময় যে দেশ দ্রুত উন্নতির দিকে যাচ্ছিল, তারা আজ কোন অন্ধকারে এবং ভবিষ্যতে তাদের জন্য যে আরও গভীর অন্ধকারের পথ খুলে যাচ্ছে, তা তারা এখনও বুঝতে পারছে না হয়তো,অথবা তারা হাসিনাকে সরিয়ে মানসিক সন্তোসেই ডুবে আছে, তাই সব জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া থেকে শুরু করে গ্যাসের জন্য হাহাকার সবকিছুতেই উদাসীন সরকার। আগে আন্দোলন হাসিনার বিরুদ্ধে ছিল, এখন আন্দোলোন ইউনূসের বিরুদ্ধেও। এর কারণ কি? গন্ডোগোল কি জনগনের চাহিদায়, নাকি মানসিকতায়? মানসিকতা এই জন্য বললাম, হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলোন করা ছাত্রনেতারা তখন পেট ভরে খেতে পেত না, আর আজ তারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। সে ছাত্রনেতারা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মত উপদেষ্টা হোক, অথবা সারজিস হাসনাতদের মত উপদেষ্টা না হোক। বাংলাদেশের কোন ঘটনাটি নিয়ে আগে বলব। সব ঘটনাই ভয়ঙ্কর, সব ঘটনারই শেষ পরিনতি হল অন্ধকারে ডুবে যাওয়া। আর তার জন্য আদানীর বিদ্যুৎ সরাবরহ বন্ধ করার প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশ যে চীন আর আমেরিকার যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত কি পাওয়া যাচ্ছে? কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বলা যাক। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলছে ভারত মহাসাগর এবং প্যাসিফিক ওসেনের মাঝামাঝি একটা সাগর আছে, যার নাম বঙ্গোপসাগর। আর আগামী দিনে বিশ্ব তার কন্ট্রোলেই থাকবে, যার কন্ট্রোলে থাকবে এই বঙ্গোপসাগর। যে কারণে ইউনূস সাহেব সব জায়গায় বলে থাকেন আমরাই এই সাগরের একছত্র অধিকারী। সবাই আমাদের কাছে আসবে আগামীদিনে ব্যবসার জন্য। যে কারণে আমেরিকা চাইছে সেন্টমার্টিন, চট্টোগ্রাম বন্দোর, সেই সঙ্গে তাদের ইচ্ছা হল রাখাইনে একটি খ্রিস্টান দেশ তৈরী করার। আর চীনও চাইছে এই অঞ্চলে তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে, যে কারণে তারাও বাংলাদেশকে বলছে আমরা তোমাদের দেশে বিরাট বিরাট হাসপাতাল বানাবো যার আকার হবে এক একটি শহরের মত। মানে সেই হাসপাতাল বানাতে চীন থেকে দশ বিশ হাজার সৈনিক আসবে হাসপাতাল নির্মানের জন্য।আর তারা বানাবে কোথায়? কোনটি ঐ চিকেন নেকের কাছে, কোনটি আবার ফেনীর কাছে, মানে ভারতের উপর যেন তাদের নজরদারী বোজায় রাখা যায়, আর সেই সঙ্গে এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রবেশ বন্ধ করা যায়। এখন বাংলাদেশ কোন দিকে ঝুঁকবে? হাসিনাতো ভারতের সাথে বন্ধুত্ব্য রেখে সব পরাশক্তিকে নিয়ে ব্যালেন্স করে চলছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার একবার আমেরিকা আর একবার চিনের দিকে ঝুঁকছে। যখন চীনের দিকে ঝুঁকছে তখন আমেরিকা দূত পাঠাচ্ছে, নয়তো খলিলুরকে আমেরিকায় ডেকে পাঠাচ্ছে ভোটের জন্য চাপ দিয়ে। খুব সাম্প্রতিক একটা উদাহরণ হল, আমেরিকা দুই জন দূতকে পাঠিয়েছে ইউনূসের কাছে। এই ঘটনা ঘটেছে তখন, যখন ইউনূসের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন আমরা আরাকানকে স্বিকৃতি দিইনি। অথচ কিছুদিন আগে তারা আরাকানকে মানবিক করিডর দিতে চেয়েছিল।এখন চীনের ভয়ে বলছে আরাকানদের স্বিকৃতি দেয়নি আমরা। ফলে বাংলাদেশে ভারতের আক্রমন হওয়ার আগেই, চীন আর আমেরিকার যুদ্ধক্ষেত্র তৈরী হওয়াটা সময়ের অপেক্ষা। ইউনূস সাহেব বুঝতে পারছেন না আগামীদিনে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে? যারা খুশি হচ্ছেন যে তিনি কট্টরবাদীদের জন্য বাংলাদেশকে স্বর্গ রাজ্য বানিয়েছেন। কারণ তারা সংখ্যালঘুদের সব কিছু লুঠপাঠ করতে পারছেন বিনা বাঁধায়। তারাও কতদিন এই সুযোগ পাবেন?বাংলাদেশ অর্থনীতির একমাত্র লাইফ লাইন ছিল গার্মেন্ট শিল্প, এখন সব শেষ,কারণ হল ইউনূসের ভারত বিদ্বেষ। ঐ শিল্পতে যে মহিলারা কাজ করতেন, সেই মহিলারা আজ অন্ধকার রাস্তায় খদ্দেরের জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন।মানে বাংলাদেশে এখন সব থেকে সস্তা হল মহিলাদের শরীর। ভোট নিয়ে চাপ দিতে আসা আমেরিকার দূতেদের সামনে ইউনূস সাহেবের প্রশ্ন হল, তিনি ক্ষমতায় এসেই নিজের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার ট্যাক্স মুকুব করিয়ে নিয়েছেন, নিজের জন্য যত সুযোগ সুবিধায় তিনি সরকারী সিলমোহর দিইয়ে নিয়েছেন, সেগুলির কি হবে? তিনি যে বিদেশ ভ্রমনে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ধ্বংস করেছেন, পরিবর্তে কোন শিল্প তো আসেনি, উল্টে সব দেশ থেকে বাংলাদেশের জন্য ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়েছে। ফলে দেশে সংস্কারের নাম দিয়ে তিনি যে টাকা ধ্বংস করেছেন, তার হিসাব কোথায়? ফলে ইউনূস চাইছেন কোন ভাবে ভোট করিয়ে বিদায় নিতে, আর যদি পারা যায় তো রাষ্ট্রপতির পদটি আদায় করে নিতে। তাহলে তার জীবন দশায় তার দূর্নীতি নিয়ে কাটা ছেঁড়া হবে না। হয়তো নিজেকে বাঁচানোর জন্য আওয়ামীলীগের সঙ্গেও একটা সমঝোতা করতে পারেন, যাতে তারা ভোটে অংশ নেয়, এবং তিনি বলতে পারেন যে তিনি ইনক্লুসিভ নির্বাচন করিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা এখন এতটাই বেড়েছে যে, অন্য দলগুলি হেরে যাওয়ার ভয়ে তাদের অংশগ্রহন করতে দেবে না। কারণ আওয়ামীলীগ ফিরলে বাংলাদেশ হবে রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post