জাপান সফরে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের একটি মাত্র রাজনৈতিক দল চাইছে, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হোক। প্রথমত তিনি বিএনপিকে খাটো করে দেখছেন, সেটা স্পষ্ট। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি কোন একটি রাজনৈতিক দল কোনও দাবি জানায়, বিশেষত সেটা নির্বাচন হলে, সেটা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত সরকারের। কারণ এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে চোখ বন্ধ করে কারোর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, সেটা হল বিএনপি। এছাড়াও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধানও চাইছেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হোক। এটার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কারণ এদিকে বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া মানে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ এটি হলে, মারাত্মক ভুল হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে নিয়ে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটি নিয়েও নানা রকম আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি বাংলাদেশে।
এদিকে ফের চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও নির্বাচনের রোড ম্যাপ, সংস্কার এবং অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা ভবিষ্যতে কি ছিল, সেগুলি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে নানা রকম আলোচনা উঠে আসছে। কারণ এই বন্দর বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। দেশের আমদানি রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে হয়। এটি তৈরি করতে নিজস্ব তহবিল থেকে দুই হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই বন্দরটি শুধুমাত্র আর্থিকভাবে নয়, প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবুও ওই টার্মিনালটি সংযুক্ত আমির আরব অর্থাৎ UAE এর একটি কোম্পানি। গভর্নর টু গভর্নর এর হাতে এই কোম্পানিটি তুলে দেওয়ার একটি সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের ভাষায় এটি একটি বিদেশী বিনিয়োগ। যার মাধ্যমে এই বন্দরকে ইকোনমিক হাবে তৈরি করার একটি পরিকল্পনা চলছে। এর ফলে কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বিদেশী কোম্পানির হাতে তড়িঘড়ি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন? শুধুমাত্র কি এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয় রয়েছে? নাকি এর পিছনে কোনও ভু রাজনৈতিক চাপ রয়েছে?
যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এল, তখন মনে করা হয়েছিল, দেশের উন্নতি সাধন ঘটবে। কিন্তু কোথায় কি? বিদেশ নির্ভরতা বাড়ছে এই সরকারের আমলে। যদিও কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিদেশী নির্ভরতা খারাপ নয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার দিকটি ভেবে দেখা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি দেশি প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। এমনটা বলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফের আবারো এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। অনেকে বলছেন, বিচার হওয়া উচিত, কিন্তু সেটি যথাযত প্রক্রিয়ায়। এদিকে হাসিনার আমলের বিভিন্ন বিষয় তুলতে গিয়ে একাধিক জনের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। পর পাচ্ছেন না অভিনেতা, অভিনেত্রীরা। এমনকি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কিভাবে কঠিন শাস্তি দেওয়া যায়, তার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে নির্বাচন কিরাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিএনপি চায় ডিসেম্বরের মধ্যে। এদিকে এনসিপি চাইছে সংস্কারের পরে হোক। এই প্রেক্ষাপটে সুযোগ নিচ্ছে মৌলবাদী সংগঠনগুলি। ফলে বাংলাদেশের জটিল পরিস্থিতি ক্রমশ ভয় ধরাচ্ছে, সেখানকার জনগণকে শুধু নয়, ওয়াকিবহাল মহলকেও।












Discussion about this post