সব কিছু সহ্যসীমার বাইরে চলে গিয়েছে। শুরু গত জুলাই-অগাস্টে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গি নেতাকে মুক্তি দিচ্ছে ইউনুস সরকার। আর তাতেই উচ্ছ্বসিত মৌলবাদীরা। বাংলাদেশে যে সংখ্যালঘুরা যে একেবারেই নিরাপদে নেই, সেটা আন্তর্জাতিকস্তরের বিভিন্ন সংস্থার তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদারকি সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সরকারের কোনও হেলদোল নেই। সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, এই সব ঘটনায় সরকারের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। সরকার চাইছে, আগামীদিনে এই ধরনের ঘটনা আরও বেশি বেশি করে ঘটুক। বাংলাদেশজুড়ে তৈরি হোক নৈরাজ্য।
নিত্যদিন চোরাগোপ্তা হামলার হচ্ছে হিন্দুদের উপরে। সরকারের রোষে পড়ার ভয়ে সেদেশের সংবাদমাধ্যম সেই সব ঘটনা ‘সেন্সর’ করলেও ফাঁস হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পটুয়াখালি, যশোর সহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত পাঁচজন হিন্দু ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছে। ঝালকাঠি থেকে উদ্ধার হয় এক হিন্দু ব্যবসায়ীর দেহ। চট্টগ্রামের চৌধুরীহাটে মন্দিরে মৌলবাদীরা তাণ্ডব চালায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বেশ্বরী কালীবাড়ি, জগবন্ধু আশ্রম মন্দির, সত্যনারায়ণ সেবাশ্রম মন্দির ও মগধেশ্বরী কালীবাড়িতে লুটপাটের ছবি। বাগেরহাটের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুলিয়াধর গ্রামে মৌলবাদীরা হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।
মন্দিরে হামলা, লুঠের পাশাপাশি মৌলবাদীদের রোষাণলে সেখানকার বেশ কয়েকটি মাজার। মাজার ভাঙার ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের থানাঘাট এলাকায়। শহরের কোতোয়ালি মডেল থানার উল্টোদিকে হজরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহর। ১৭৯তম বার্ষিক উরস উপলক্ষ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পারে বুধবার কাওয়ালি গানের আয়োজন করেন ভক্তরা। স্থানীয় সময় রাত ১১টা নাগাদ গান শুরু হওয়ার আধঘণ্টার মধ্যে সেখানে হামলা চালায় মৌলবাদীরা। ভেঙে ফেলা হয় মঞ্চ ও চেয়ার। হেনস্তার শিকার হন শিল্পীরা। হামলাকারীদের সাফ কথা, গান-বাজনা চলবে না। তাদের হুমকির জেরে পুলিস এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। সাময়িকভাবে উত্তেজনা প্রশমিত হলেও রাত তিনটে নাগাদ হামলাকারীরা ফের ফিরে আসে। এবার তাদের রোষে পড়ে মাজার। হাতুড়ি, শাবলের আঘাতে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই হামলার জন্য পাশের মসজিদের পড়ুয়াদের দিকে আঙুল তুলেছেন মাজারটির অর্থ সম্পাদক মহম্মদ খলিলুর রহমান। যা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন মসজিদের প্রধান মুয়াজ্জিন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যু সংবাদ দেশে পৌঁছাতেই তেতে ওঠে বাংলাদেশ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা-সহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে শয়ে শয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ভাঙচুর করা হয় ছায়ানট। হামলাকারীদের সাফ কথা, গান-বাজনা চলবে না। তাদের হুমকির জেরে পুলিশ এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। সাময়িকভাবে উত্তেজনা প্রশমিত হলেও রাত তিনটে নাগাদ হামলাকারীরা আবার সেখানে ফিরে আসে। এবার তাদের রোষে পড়ে মাজার। হাতুড়ি, শাবলে আঘাতে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই হামলার জন্য মাজারের পাশে মসজিদের পড়ুয়াদের দিকে আঙুল তুলেছেন মাজারে বিশেষ একটি দফতরের দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমান।
আর দীপু চন্দ্র দাসের সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা বোধহয় সব পাশবিকতাকে হার মানায়। ১৮ ডিসেম্বর রাতে কয়েকশো মানুষের একদল উগ্রবাদী তাকে প্রথমে একটি কারখানা থেকে বের করে মারধর করা হয়। তারপর অর্ধমৃত অবস্থায় একটি গাছে ঝুলিয়ে আরও একদফা মারধর দেওয়া হয়। পরে দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তারা আবার সেই ঘটনা মোবাইলে বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা দেখে সুশীল সমাজ আঁতকে উঠছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post