ভারত সফরে আফগানিস্তানের তালিবান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। যেটা আন্তজার্তিক ক্ষেত্রে একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ অন্যান্য দেশের মতোই ভারতও এখনও তালিবানকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, তালিবান সরকারের এক মন্ত্রী যখন সরকারি সফরে আসেন, তখন তালিবান সরকারকে ঘুরিয়ে স্বীকৃতি দিয়েই দিল নয়া দিল্লি। এদিকে পাকিস্তানের জাফর এক্সপ্রেস গুড়িয়ে দিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। আর সবথেকে গুরুত্বপুর্ণ খবর, চিন থেকে ২০ টি জে১০সি যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে ঢাকা। ৪.৫ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান এটি। যেটি অত্যাধুনিক। অনেকেই বলছেন, রাফালের সঙ্গে টক্কর দিতে ঢাকার এই উদ্যোগ। সূত্রের খবর, এক একটি জে ১০ সি যুদ্ধবিমানের মূল্য প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে ২০টি জঙ্গিবিমানের মূল্য ১২০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪,৭৬০ কোটি টাকা।
তবে এই প্রশ্ন উঠছে, যে মুহাম্মুদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি আদেও এই যুদ্ধবিমান কিনতে পারবে? কারণ বাংলাদেশে এই মূহুর্তে নেই নির্বাচিত সরকার। ফলে আদেও কেনা সম্ভব হবে কিনা, প্রশ্ন উঠছে। আরও একটি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ?
জানা যায়, ২০২৭ সাল নাগাদ ৪.৫ প্রজন্মের এই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য খরচসহ মোট ব্যয় হবে ২২০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭,০৬০ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই চুক্তিটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে, সরাসরি ক্রয় অথবা জিটুজি পদ্ধতিতে চীন সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে। এই যুদ্ধবিমানের মূল্য ২০৩৫-২০৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। জে-১০ সিই জঙ্গিবিমান মূলত চীনের বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত জে-১০সি- এর রফতানি সংস্করণ।
এদিকে তালিবান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফরে এসেছেন। জানা যাচ্ছে, তিনি ১৬ই অক্টোবর পর্যন্ত নয়া দিল্লিতে থাকবেন। এখানেই অনেকে মনে করছেন, ভারত সরকার তালিবান সরকারকে মেনে নিচ্ছে। কারণ এখনও আফগানিস্তানে তালিবান সরকারকে অন্যান্য দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারত সফরে তালিবান বিদেশমন্ত্রী। তবে অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক নিবিড় হবে। যেটা পাকিস্তানের জন্য চিন্তার। অনেকে বলছেন, মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বাংলাদেশেরও। তার কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই মুহূর্তে মাখোমাখো সম্পর্ক।
অন্যদিকে পাকিস্তানের জাফর এক্সপ্রেসের উপর বালোচ লিবারেশন আর্মি হামলা চালিয়েছে বলে খবর। এর আগে পন বন্দি করে রেখেছিল। ১৪০ জন পাকিস্তান সেনার মৃত্যু হয়েছিল। কফিনের হিসেব তাই বলছে। এছাড়া কয়েকদিন আগে বোমা বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ৩০ থেকে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এইবার জানা যাচ্ছে, এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে ওই ট্রেনের ৬টি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছিল। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, কোয়েটাগামী জাফর এক্সপ্রেসে সফর করছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ফলে ওই ট্রেনকেই টার্গেট করেছিল বালুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীরা। বালুচ লিবারেশন আর্মির বালুচ রিপাবলিক গার্ডস এই হামলার দায়ভার নিলেও পাকিস্তান এই ঘটনার জন্য ভারতকেই দায়ী করছে। যদিও ভারত এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দেয়।












Discussion about this post