চট্টগ্রাম বন্দর নৌবাহিনীর মাধ্যমে কি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হল? চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে এবার ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে মাতলেন মহম্মদ ইউনূস। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থা নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নৌবাহিনী এনসিটির বর্তমান জনবল দিয়েই টার্মিনাল পরিচালনা করবে। এই লক্ষ্যে নৌবাহিনী ও বন্দরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে এবং একজন নৌবাহিনী কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি কমিটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। প্রয়োজনে আগের অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের সহযোগিতাও নেওয়া হতে পারে। এদিকে জানা যায়, এনসিটি পরিচালনায় তাদের নিয়োগে প্রায় ৩,৮০০ শ্রমিক বহাল থাকবে এবং তারাই নাকি নৌবাহিনীকে সহযোগিতা করবে।এখন এই বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কি হতে চলেছে, সেটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন।
এদিকে বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছিল। সমস্ত আলোচনা, সমালোচনা পর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস কি বিদেশিদের হাতেই তুলে দিচ্ছেন? অনেকে বলছেন, ইউনূস সরকারের পতন হবে ঠিকই। তবে দেশের ভয়ঙ্কর ক্ষতি করে দিয়ে যাবে। সরাসরি বিদেশিদের হাতে তুলে না দিয়ে কি সরকার কোনও কৌশল অবলম্বন করছে? সূত্র মারফত খবর, আগামী নভেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে সবচেয়ে ভালো এনসিটি টার্মিনালে আমেরিকার বাছাই করে দেওয়া স্বস্তা ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তার আগে নৌ বাহিনীর হাতে টার্মিনালটি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এখন টার্মিনালটি বাংলাদেশের যে সংস্থাটি পরিচালনা করে, সেটার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ৬ই জুলাই।
অনেকে বলছেন, মহম্মদ ইউনূসের সরকার যে কোনও মূল্যে বন্দরটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেবেন। জানা যায়, এনসিটি টার্মিনালটির বার্ষিক হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১১ লক্ষ টিইইউ হলেও বর্তমানে বছরে প্রায় ১৩ লক্ষ টিইইউ কনটেইনার পরিচালিত হয়। চারটি জেটি রয়েছে, যাতে একসঙ্গে চারটি জাহাজ ভেড়াতে পারে। টার্মিনালটি প্রতিবছর প্রায় ১০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে বলে জানা গিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে বলে খবর। আগামী নভেম্বর মাসে এই চুক্তি হবে বলে সূত্রের খবর।
অনেকে বলছেন, নিজেদের স্বার্থে, অস্ত্রশস্ত্র পাচারের জন্য এই টার্মিনালটি আমেরিকা নিজেদের হেফাজতে রাখতে চায়। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মিদের সাহায্য করার জন্য আমেরিকা যে প্রস্তাবটি দিয়েছিল, সেই প্রস্তাবের বাস্তবায়নের একটি অংশ হলেও এই টার্মিনালটাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর সেটা হলে বাংলাদেশে বিপদে পড়বে সেটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post