চীনা আধিপত্য এইবার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। বাংলাদেশ বাজারে চীনা পণ্য। যতদিন এগোচ্ছে, চীনা পণ্যের দাপট বাড়ছে বাংলাদেশের বাজারে। সামনে এল এইবার চীনের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের বাজারে চীনা পণ্যের বিরাজ। তবে এর ফল ভুগতে হবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস প্রথম থেকেই চীনকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। এমনকি চীন সফরে গিয়ে বাণিজ্যিক করার প্রস্তাবও দিয়ে এসেছেন। সম্প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে, চীনা পণ্যের আধিপত্য বাংলাদেশের বাজারে।
বাজারের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের আমদানির এক-চতুর্থাংশেরও বেশি পণ্য চীন থেকে আসছে।
২০২৩-২৪ সালে বাংলাদেশে মোট আমদানির ২৫ শতাংশেরও বেশি চীন থেকে এসেছে। যা ছয় বছর আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমানে মোহম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশের বাজার দখল করেছে চীন।
তবে চীনে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে। ২০১৮-১৯ চীনে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ছিল ২.১ শতাংশ, যেটা ২০২৩-২৪ সালে মাত্র ১.৬ শতাংশ। অর্থাৎ, বাংলদেশে পণ্য একেবারেই চীনের বাজার দখল করতে পারেনি। এতে সাময়িকভাবে না হলেও, পরবর্তীকালের ফল বুঝতে পারবে বাংলাদেশের সরকার।
এদিকে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮-১৯ এটি ছিল ৩.১ শতাংশ যা এখন ৩.৫ শতাংশে উন্নত হয়েছে। এর অর্থ হল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে বেশ কিছু পণ্য আমদানি রফতানিতে কড়া করা হয়েছে। যার ফলে খানিকটা হার কমেছে দুই দেশের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে সবথেকে বড় বস্ত্র শিল্প । বস্ত্র শিল্পের জন্য তুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। সেই চাহিদা পূরণ করে ভারত। ২০২৩-২৪ সালে ভারত বাংলাদেশে মোট ৯ বিলিয়ন ডলার রফতানি করেছিল, যার মধ্যে ২৬ শতাংশ ছিল তুলো। ২০২২-২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২০.২ শতাংশ। ভারত এখন বাংলাদেশের মোট তুলো আমদানির ৩০ শতাংশ সরবরাহ করে, যা ২০১৮-১৯ সালে ২৩ শতাংশ ছিল। ভারত বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র আমদানি করে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতের আমদানির ৫৬ শতাংশ আসে, যা ২০১৮-১৯ সালে প্রায় ৫৭ শতাংশ ছিল। তবে পদ্মা পাড়ি দেশ থেকে আমদানি কৃত পণ্যের উপর বিধি আরোপ করেছে ভারত সরকার। মাত্র দুটি বন্দর দিয়েই বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য ঢুকবে। আর এতেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে এসে পৌঁছেছে। এর জেরে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রভাবিত হচ্ছে। তবে যেভাবে চীনকে প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশ, তাতে বিপদে পড়তে পারে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Discussion about this post