অনেক হয়েছে আর নয়।
ভারতের যাবতীয় সহ্যসীমার বাইরে চলে গিয়েছে বাংলাদেশ। গত জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর থেকে পদ্মাপার থেকে এসেছে একের পর এক উস্কানিমূলক বার্তা। সে দেশের মাটি ব্যবহার করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা দিল্লিতে চালিয়েছে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। এখানে শেষ নয়, সেভেন সিস্টার্স দখল করার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। একবার নয় একাধিকবার। ভারতের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালাবে বলে বাংলাদেশ সেনা সে দেশের পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি সংস্কারে হাত দিয়েছে। আর পাকিস্তান সেনার সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার মাখামাখি তো রয়েছে। এত কিছুর পরেও দিল্লি কিন্তু সংযত মনোভাব দেখিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে ভারত-বিদ্বেষী কথাবার্তা থেকে শুরু করে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়ার পরেও কিন্তু দিল্লি একবারের জন্য অসংযমী মনোভাব দেখায়নি। উলটে গুটি কয়েক কথা বলেছে।
প্রথম কথা, ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। দক্ষিণ এশিয়া ভারতের পাশে যে কটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র আছে, প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। কিন্তু দিল্লিকে যদি নানাভাবে তাতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, দিল্লি তার সমুচিত জবাব দেবে। যেটা পাকিস্তানের ক্ষেত্রে করছে। কারণ, পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ভারতকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়েছে। তারা প্রত্যক্ষভাবে সন্ত্রাসে মদত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক অতীতে ভারতের বুকে যে কটি সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে, সেই সব হামলার নীল নকশা তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। নতুন করে সাউথব্লকের উদ্বেগ বাড়িয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের মাখামাখি। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের চিন ঘনিষ্ঠতা। এত চাপের পরেও দিল্লি কিন্তু এতোদিন পর্যন্ত মাথা ঠাণ্ডা রেখেছে। বাংলাদেশ, তাদের দোসর পাকিস্তান এবং চিনের মনে হয়েছে, যে এই তিন শক্তির চাপের কাছে দিল্লি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। দিল্লির নতুন উদ্বেগ হয়ে উঠেছে তুরস্ক। অনেকের মতে সাউথব্লক এখন ঢাকার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা চিন্তা ভাবনা করছে।
বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত আরও একটি কথা খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে। সেটা হল অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দল যাতে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য তদারকি সরকারকে সাউথব্লক জানিয়ে দিয়েছে। দিনকয়েক আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁদের থেকে আমরা শুনেছি যে আগে যেমন ভাবে নির্বাচন হত, তা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। তাহলে সেটাই যদি হয়, তাহলে সর্বপ্রথম তাঁদের স্বচ্ছ নির্বাচন করতে হবে।’
এটা তো শুধু জয়শঙ্কর বা ভারতের কথা নয়। একই বক্তব্য আন্তর্জাতিকমহলেরও। সকলেই চাইছে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে সব রাজনৈতিকদলের অংশগ্রহণ জরুরি। তদারকি সরকার যে সে পথে হাঁটবে না তা বলাই বাহুল্য। আর সেটা হলে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল যে স্বীকৃতি পাবে না, তা বলাই বাহুল্য। অনেকে আবার বলতে শুরু করেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হয় কিনা সেটাই দেখার। এটাও শোনা যাচ্ছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনের যা হাল হয়েছিল, এবার সেটাও হতে চলেছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে।
এই অবস্থায় রাশিয়ার সঙ্গে ভারত তাঁর সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও মজবুত করতে বদ্ধপরিকর। তার বড়ো কারণ, রাশিয়া কিন্তু অন্যের দেশের বিষয়ে নাক গলায় না। যেটা আমেরিকা বরবার করে এসেছে। তবে সেই নাক গলানোয় আপাতত তারা ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এখন দিল্লির দিকে ঝুঁকে রয়েছে। আর পুতিন আসার পর সেই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post