বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সচিবের অনেকদিন থেকেই জানার ইচ্ছা ভারত কবে হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে এই নিয়ে বাংলাদেশের ভারতকে দু’বার চিঠিও ইতিমধ্যে দিয়ে ফেলা হয়েছে। কারণ ইউনূসও ভালোভাবেই জানে হাসিনার প্রকৃত বন্ধু ভারত।কাজেই ইউনূসের মাথাব্যাথার মূল কারণ ভারত কেন হাসিনাকে এখনো আশ্রয় দিয়ে রেখেছে! এমনকি ইউনূসের আরো একটি বড় প্রশ্ন আর তা হল পাকাপাকিভাবেই কি ভারতে থেকে যাবেন শেখ হাসিনা?
ইউনূসকে কাঁপিয়ে এবার সরাসরি সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিল ভারতের জয়শঙ্কর। তিনি সরাসরি স্পষ্ট করে জানালেন,ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, তিনি যদি ভারতে থাকে তাহলে ভারতে তাতে কোন অসুবিধা হবে না।গত সপ্তাহের শনিবার ভারতের একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ছেড়ে বিপদের দিনে ভারতে চলে আসা এবং তাঁর থেকে যাওয়া নিয়ে কথা বলেন।গত বছরের অগস্ট মাসে বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থানের মুখে পড়েই ঢাকা ছাড়তে হয়েছিল হাসিনাকে। এবং আশ্রয় নেন প্রিয় বন্ধু ভারতের কাছে। গত মাসেই মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ফাঁসির সাজা দেয়। আর তারপর থেকেই হাসিনা ভারতে বসে একের পর এক অডিও ভাইরাল করে বিস্ফোরক দাবি গণমাধ্যমে তুলে ধরে এবং সেখানে হাসিনা স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন যতদিন না বাংলাদেশে নির্বাচিত সুষ্ঠ সরকার হচ্ছে ততদিন তিনি ফিরবেন না এবং একধাপ এগিয়ে তিনি আরো কড়া ভাষায় জানিয়েছেন ‘ইউনূস কি আমায় ফাঁসি দেবে আমি ইউনুসকে ফাঁসি দেব’।
জয়শঙ্করকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল যে শেখ হাসিনা কি চাইলে যতদিন ইচ্ছা ভারতে থেকে যেতে পারেন? এর উত্তরে তিনি জানিয়ে দেন এটা একটা আলাদা ইস্যু। বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি এখানে এসেছিলেন এবং আমি মনে করি যে ওই পরিস্থিতি তাঁর এই অবস্থার অন্যতম কারণ। তবে এই বিষয়ে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থাৎ এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় ভারত কখনোই নিজের থেকে হাসিনাকে ইউনূসের হাতে তুলে দেবে না।বাংলাদেশে অতীতে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, আমরা যা শুনেছি যে বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যারা বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছেন, তাদের আগের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা ছিল। এখন যদি নির্বাচনের কথা বলতে হয় তাহলে প্রথমেই প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের। অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টায় থেকে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার যে ভারত চাইছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়।আগামিদিনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের শুভাকাক্ষ্মী। আমরা গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে মনে করি যে কোনও গণতান্ত্রিক দেশই জনগণের ইচ্ছাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হতে দেখতে চাইবে। আমার বিশ্বাস যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যা-ই ফলাফল হোক না কেন, আমাদের সম্পর্ককে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হবে এবং সম্পর্ক উন্নত হবে। তবে বাস্তবে জয়শঙ্কর খুব গুছিয়ে যে ইউনূসের সমালোচনা করলেন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সামনে রেখে বাংলাদেশের শীঘ্রই গণতান্ত্রিক সরকার ভারত চাইছেন তা না বললেও স্পষ্ট করে দিলেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post