গত দেড় বছরে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে কয়েক দশক। মৃতপ্রায় বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এনসিপি, জামাত, হিজবুত, আলকায়দা সহ বাকি সন্ত্রাসী সংগঠন গুলিও খাঁড়ার ঘা দেবে। গত ২০ শে অক্টোবর ইউনূসের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তা হল – দেশের ২৫ – ৩৫ বছর বয়সী যুবক ও যুবতীদের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ৭ টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৮ হাজার ৮৫০ জন করে ব্যক্তির রিকুর্টমেন্ট ও প্রশিক্ষণ পর্ব চলবে যার প্রথম পর্ব ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এই প্রশিক্ষণে মার্শাল আর্টস, তায়কোয়ানডো, জুডো এবং আগ্নেয়াস্ত্র নির্দেশনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এটি আত্মরক্ষার জন্য গণ প্রতিরক্ষার উদ্যোগ। প্রশ্ন উঠছে, কার বিরুদ্ধে এই প্রস্তুতি ? কিসের প্রতিরক্ষা ? হটাৎ কেন নাগরিকদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার প্রয়োজন হলো ?
সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি একটি বক্তব্যতে বলেছেন, এই প্রশিক্ষণ কেবল আত্মরক্ষা বা ক্রীড়ার জন্য নয়, এটি রিজার্ভ ফোর্স তৈরীর অংশ হিসেবে ভাবা হচ্ছে। ভারতের সাথে সম্ভাব্য সংঘাত মাথায় রেখে এই বাহিনী সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশে দাঁড়াবে। সরকারের উপদেষ্টার এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ, এখনও পর্যন্ত ভারতের সাথে বাংলাদেশ কোনও যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে নেই। সীমান্তে উত্তেজনা থেকে থাকলেও তা যুদ্ধ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাহলে কী কারণে এই প্রস্তুতি ?
অন্যদিকে, প্রশিক্ষণের রূপরেখা দেখলে মনে হবে এটি শুধুই শারীরিক কসরত বা প্রশিক্ষণ নয়। প্রথম ধাপে সাড়ে ৬ হাজার যুবক – যুবতীদের প্রথম ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১৫ দিনের আবাসিক কোর্সে তাদের খাওয়া – দাওয়া ও পোশাক সহ ভাতা দেওয়া হবে। বছরে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের সংখ্যা লাখ ছাড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এ দেখে মনে হচ্ছে সরকার একটি আধা সামরিক বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করেছে। দেশে ইতিমধ্যে পুলিশ, RAB, বিজিবি, আনসার মিলিয়ে প্রায় ১৪০০ লাখ স্ব-সস্ত্র সদস্য রয়েছে। তাহলে এর বাইরে আরও একটি বাহিনী গঠনের কী প্রয়োজন ? বিশেষত, জুলাই – আগস্ট সহিংস আন্দোলনে পুলিশের কাছ থেকে লুঠ হওয়া ১৪০০ অস্ত্র লুঠ হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদ এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। অনুমান করে যায়, সেই অস্ত্র যদি প্রশিক্ষা নেওয়া যুবক – যুবতীদের হাতে পরে তাহলে তা শুধু বিশৃঙ্খলাই নয় বরং রক্তপাত ডেকে আনবে।
ডিসি সম্মেলনে এই প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর অনেকের ধারণা, বিষয়টি এখন শুধু একজন উপদেষ্টার ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আব্দুল হাফিজ জানিয়েছেন, স্ব-সস্ত্র বাহিনী চাইলে এই কাজ করতে প্রস্তুত। প্রশ্ন হল, একটি দেউলিয়ার দেশে যেখানে মুদ্দাস্ফীতি আর বেকারত্বে তরুণদের অবস্থা নাজেহাল সেখানে সরকার কেন তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে ? ইতিহাস বলে, যখন কোনও সরকার নিজেদের বিরুদ্ধে জনরোষ, আন্দোলন বা প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে ভয় পায় তখন তারা নিজেদের পক্ষে একটি বাহিনী গঠন করে। উদহারণ স্বরূপ, ইউক্রেনের আজাদ ব্যাটেলিয়ান, মুসোলিনির ফ্যাসি বাহিনী। এধরণের বাহিনী গুলি প্রথমে দেশ রক্ষার নামে তৈরী হলেও পরে তা রাজনৈতিক দমন যন্ত্রে পরিণত হয়। বাংলাদেশে টাউন ডিফেন্স পার্টি নামে যে নতুন সংগঠন চলছে তা এই আশঙ্কার প্রতিধ্বনি।












Discussion about this post