ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্নর পদ থেকে লিজা কুককে অপসারণ গড়াল আদালতে। এই কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। দায়ের হওয়া মামলায় কুক জানিয়েছেন, তাঁকে বরখাস্ত করার কোনও অধিকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেই। পৃথক আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন লিজা। সেই মামলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিকা স্থগিতের আর্জি জানিয়েছেন। আইনজ্ঞ এবং ইতিহাসবিদদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালঞ্জ হলে নানা জটিল প্রশ্ন উঠবে। যেমন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা, ফেডের বিশেষ কাঠামো, ইতিহাস। কুক আইন ভেঙেছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি লিজা কুক নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাকে ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্নর পদ থেকে অপসারণ করেছেন। ঘটনার পরের দিন হোয়াইট হাউসের তরফে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে দেখা গিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সব সদস্য ‘থাম্বস আপ’ দেখাচ্ছেন। যার অর্থ, তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। সেখানে ২৪ জনের মধ্যে একজন কৃষ্ণাঙ্গ। এই সিদ্ধান্তের জেরে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের জোরাল অভিযোগ উঠছে।
অপসারণের কড়া নিন্দা করেছেন ‘ব্ল্যাক ভোটার্স ম্যাটার’-য়ের সহ প্রতিষ্ঠাতা লাটোসা ব্রাউন। তিনি বলেন, ‘এটি পারমাণবিক বোমার মতো মারাত্মক। ফেডারেল রিজার্ভকে নিজের মুঠোয় আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেটা হলে এই সংস্থা আর স্বশাসিত থাকবে না।’
ট্রাম্পের দাবি, কুককে বরখাস্ত করার কারণ, তিনি বন্ধক নিয়ে জালিয়াতি করেছেন। তাঁকে লেখা একটি চিঠিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বরখাস্ত করা সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত। কুককে ২০২২ সালে ফেড বোর্ডে নিয়োগ করেছিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক উইলিয়াম পুলটে লিজা কুকের বিষয়টি তুলে তদন্তের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির কাছে পাঠান। এর পর থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নরদের পদ দীর্ঘ হয়। যা কোনও প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হলেও ওই পদের মেয়াদ শেষ হয় না। কুকের মেয়াদ ২০৩৮ পর্যন্ত চলার কথা। তবে গুরুতর কারণে একজন গভর্নরকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিটার কন্টি ব্রাউন বলেছেন, ‘কুকের মর্টগেজ সংক্রান্ত লেনদেন ছিল ফেডে যোগদানের আগে। তাঁর নিয়োগ সেনেটের অনুমোদন প্রক্রিয়া থাকার সময় লেনদেনের বিষয়টি নথিবদ্ধ ছিল।’ গত সপ্তাহে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্প লিজা কুককে ইস্তফা দিতে বলেন। যদিও কুক ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেন। লিজা বলেন, ‘শুধু একটি টুইটের কারণে আমি ইস্তফা দেব না। তবে আমার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠলে সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব। এবং যথাযথ তথ্য দিয়ে তাঁর উত্তর দেব। ’
তবে বিষয়টি কোন দিকে গড়াবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগে স্বাধীন সংস্থাগুলির যে সব কর্মকর্তাকে ট্রাম্প বরখাস্ত করেছিলেন, তারা আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার খরচ নিজেরাই বহন করেন। তবে প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত। এসজিএইচ ম্যাক্রো অ্যাডভাইজার্সের টিম ডুই বলেন, ‘এটা প্রমাণ করেন এই প্রশাসন ফেডকে নতুনভাবে সাজাতে চায়। বাইডেনের আমলে যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তাদের জন্য এটা সতর্কবার্তা। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ফেড অক্ষত ছিল। এবার তা আর নাও হতে পারে।’
আমেরিকায় সরকারি কর্মক্ষেত্রে মোট কর্মীর ১২শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গরা বর্ণবিদ্বেষের শিকার। ১৯৬৪ সালে আমেরিকায় নাগরিক অধিকার আইন পাশ হয়। সেই আইন অনুযায়ী, সকলের সমান অধিকার রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের কোনও বৈষম্য থাকবে না। সকলেই সমান বেতন পাবেন। থাকবে পদন্নোতির সুবিধা। যদিও সেই আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে তিন লক্ষ ১৯ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা কর্মচ্যূত হয়েছেন।
’












Discussion about this post