বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ঠেলায় না পড়লে বেড়াল গাছে ওঠে না। এখন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার মনে হয় সেই পরিস্থিতি মধ্যে পড়েছে। একে তো ১৫ সেনা কর্মকর্তার ট্রাইবুনাল কোর্টে বিচার সাথে অস্থির ক্যান্টনমেন্ট। ঘরে বাইরে যে ওয়াকার বিপদ বাড়ছে তা তিনি নিজেও হাড়ে হাড়ে টের পেতে শুরু করেছেন। আর তাতেই কি তিনি ইউনূসের হ্যাঁ তে হ্যাঁ না মিলিয়ে থাকতে পারলেন না। তাই কি এখন সেনাপ্রধান নিজের গদি বাঁচাতে পাকিস্তানকে বাপ বলা শুরু করেছে? কারণ সোমবার থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হচ্ছে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সেনার অফিসার পর্যায়ের আলোচনা। চারদিন দিন ধরে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদমর্যাদার অফিসারেরা বৈঠকে অংশ নেবেন। আর তাতেই সেনাপ্রধান ওয়াকার পাকিস্তানের মঞ্চ ভালো করে উপস্থিতি যা ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক মহলের একাংশের।এই প্রথম দু’দেশের মধ্যে ‘আর্মি টু আর্মি স্টাফ টকস’ বলে পরিচিত আলোচনার এই মঞ্চ উন্মুক্ত হচ্ছে। এই সুবাদে দুই দেশই নতুন একটি দেশের সঙ্গে ‘আর্মি টু আর্মি স্টাফ টকস’ পর্যায়ের সম্পর্ক তৈরি করতে চলেছে। এতে করে ভারত বিরোধী পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশও যে ইউনূসের নেতৃত্বে এগোচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।এই আলোচনায় বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেজর জেনারেল মহম্মদ মাসাদুর রহমান। তাঁর সঙ্গী হয়েছেন দু’জন মেজর ও একজন লেফ্ট্যান্যান্ট কর্নেল। বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের অফিসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সোমবার এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে, চার অফিসারের চার দিনের সফরে যাতায়াত বাদে বাকি খরচ বহন করছে পাকিস্তান সেনা বাহিনী। তাহলেই বোঝা যাচ্ছে যে দুইয়ে দুইয়ে চার হতে আর বেশি দেরি রইল না।
গত ২৪ অক্টোবর থেকে পাঁচদিন বাংলাদেশ সফর করে গিয়েছেন পাকিস্তান সেনা বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল শাহির শামশাদ মির্জা। বাংলাদেশ সফরে তিনি মুহাম্মদ ইউনূস, সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ এবং নৌ বাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মহম্মদ নাজমূল হাসান-সহ তিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন। যা যমুনার বদ্ধ ঘেরা টোপের মধ্যে সেই বৈঠক হয়েছিল যা কাক পক্ষীরও টের পাওয়ার সাধ্য ছিল না। তবে এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে গোপনে কি ভারতবিদ্বেষী দুই দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশ পাকিস্তান একত্রিত হয়ে কোন বড় চক্রান্ত করতে চলেছে? তার সাথেই জানা যাচ্ছে সফর করেছেন সিলেট-সহ বাংলাদেশ সেনার একাধিক ক্যান্টনমেন্টে। সিলেটে রয়েছে বাংলাদেশ সেনার প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাওয়ালপিন্ডি থেকে বাংলাদেশ সেনার অফিসারেরা ঢাকা ফেরার পরদিন অর্থাৎ ৮ নভেম্বর, শনিবার পাকিস্তানের নৌসেনা প্রধান নাভিদ আশরাফ চারদিনের সফরে বাংলাদেশ যাচ্ছেন। তিনিও প্রধান উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সেনার তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর মহড়া ও প্রশিক্ষণ পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বুলেটের গতিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সেনার সম্পর্ক। বাংলাদেশে গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিরাট পালাবদল ঘটে সেই দেশে ক্ষমতায় আছেন মৌলবাদপন্থী মোহাম্মদ ইউনূস। এবং তিনি এসে প্রথম থেকেই যা যা পদক্ষেপ ভেঙেছে তা সবেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দূত অবনতি ঘটে। অন্যদিকে, ইউনূসের মতলবে নতুন করে সম্পর্ক গড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উপপ্রধান মন্ত্রী তথা বিদেশ মন্ত্রী ঢাকা সফর করে গিয়েছেন। আলাদা করে ঢাকা সফর করেন পাকিস্তানের বিদেশ সচিবও। প্রায় এক যুগ পর পাকিস্তানের বিদেশ সচিব বাংলাদেশ সফরে যান। বিদেশমন্ত্রীর সফরও তাই। যা দুই দেশের সম্পর্কের বিশেষ তাৎপর্য বহন করে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।দুই দেশের সেনার যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর লেফ্ট্যান্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান সেনার সদর ক্যান্টনমেন্ট সফর করে আসে। বাংলাদেশে আলাদা করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নেই। প্রতিরক্ষার বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। বর্তমানে ইউনূস সরকারের তরফে সেনার বিষয়ে শেষ কথা বলে থাকেন। তবে কি এখানেই প্রশ্ন উঠছে সেনাপ্রধান শুধুমাত্রই ইউনূসের হাতের পুতুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রসঙ্গত লেফ্ট্যান্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান প্রধান উপদেষ্টার অফিসে প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার। তিনি প্রধান উপদেষ্টার অধীনে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এমন একজন অফিসারকে পাক সেনার সদরে সফরে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইউনূসের বিশেষ আগ্রহ হিসাবেই দেখছে কূটনৈতিক ও সামরিক শিবির।রাওয়ালপিন্ডি সফর শেষে দেশে ফেরার অল্পদিনের ব্যবধানে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে। বাংলাদেশ পাকিস্তান দুই দেশের কর্মকর্তাদের সাথে সেনাকর্তাদের সফর গোপনে অনেক না জানা কথার উত্তর দিচ্ছে বলে মদ বিশেষজ্ঞদের। ভারতের অপারেশন সিঁদুর-এর যুদ্ধ বিরতির পর পরই পাক সেনা মুখপাত্র মন্তব্য করেন, পরবর্তী যুদ্ধে তারা হিন্দুস্থানকে পূর্ব প্রান্ত দিয়েও আক্রমণ করবেন। ওই সেনাকর্তার কথায় স্পষ্ট ভারতের বিরুদ্ধে পরবর্তী যুদ্ধে তারা বাংলাদেশ থেকে আক্রমণ শানাতে আগ্রহী। তবে যে হাসিনার আমলে বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু ছিল ইউনুসের রাজত্বে সেই বাংলাদেশ ভারতের শত্রু তা তবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে মোহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশ পাকিস্তান দুই দেশের সেনার সম্পর্ক সেই অঙ্ক মেনে এগচ্ছে যা ভারতের যুদ্ধের পরিস্থিতি বলে মনে করছে সামরিক বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সম্প্রতি চিনের কাছ থেকে বেশ কিছু যুদ্ধ বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই একই মডেলের বিমান অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে পাকিস্তান। মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশ চিনা বিমান কেনার পর তাদের পাইলটদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে পাক বিমান বাহিনী। তবে যে ভারত এক ইঞ্চিও যুদ্ধের মাটি ছেড়ে দেবে না তা বায়ুসেনা প্রধানের বক্তৃতাতে স্পষ্ট। ভারত ও অপারেশন ত্রিশূল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। সম্প্রতি ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে বলে খবর। যদিও সরকারিভাবে দুই দেশের সেনা বাহিনীর তরফে এই সফর নিয়ে কিছু বলা হয়নি। ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা বাংলাদেশের লালমনিরহাট এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যাক্ত সেনা বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন করেন বলে খবর পাওয়া যায়। বাংলাদেশ চিনের সহায়তায় ওই বিমানঘাঁটিগুলি ফের সচল করতে উদ্যোগী হয়েছে। এর পিছনেও ইসলামাবাদের ইন্ধন রয়েছে বলে খবর। তবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে ইউনুসের ভারত বিদ্বেষী লালসা যে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার কে বলির পাঠা করতে চলেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post