মাস চারেক আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্রাজেডি দিবসে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের করা এই মন্তব্য কতজনের মনে আছে? সেদিন তিনি বলেছিলেন, আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, আমরা যদি নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়া ছুঁড়ি বন্ধ না করেন তাহলে এই দেশ ও জাতির স্বাধিনতা ও সার্বভৌমত্ব বিনিষ্ট হতে পারে।
মাস চারেক আগে বলা বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের প্রকাশ্য সমাবেশে বলা এই কথাগুলিই কেমন যেন সত্যি হতে চলেছে। কিন্তু সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানও সেদিন ভাষণ দিয়ে চুপ করে গিয়েছেন কোনও এক অজ্ঞাত কারণে। আজকের গোপালগঞ্জের ঘটনা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
আওয়ামী লীগ এমনিতেই মাইনাস হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশে। এর পরের লক্ষ্য কি তবে বিএনপি? বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই মুহূর্তে বিএনপিকে মাইনাস করার বৃহৎ প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। সেই ষড়যন্ত্র চলছে। তবে বাংলাদেশের বৃহত্তর দুই রাজনৈতিক শক্তিকে মাইনাস করে কে বা কারা বাংলাদেশে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে, এটা এখন দিনের আলোর মতো পরিস্কার। তাঁরা হল মুহাম্মদ ইউনূসের স্নেহধন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি বা পূর্বতন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুধবার গোপালগঞ্জ অর্থাৎ শেখ হাসিনার খাস তালুকে তাঁরাই জনতার তাড়া খেলেন। শুধু তাই নয়, ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হল গোপালগঞ্জে। সেনাবাহিনী গুলি চালাল, কাঁদানে গ্যাসের সেল ছুঁড়লো। সরকারি হিসেবে মারা গেলেন অন্তত চারজন। বেসরকারি হিসেবে আরও বেশি। তাহলে সেনাপ্রধানের বক্তব্যই কি এবার সত্যি হতে চলেছে? বাংলাদেশে কি এবার সত্যিই গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে? চারমাস আগে সেনাপ্রধানের বক্তব্য ভবিষ্যতবাণী এখন ঘটতে চললেও কেন সেনাবাহিনী গুলি চালালো? প্রশ্ন অনেক হলেও, উত্তর খুঁজতে অনেক মাথা ঘামাতে হবে।
গোপালগঞ্জ কিলিংয়ের ঘটনার প্রতিবাদে দেশে জনযুদ্ধের ডাক দিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এমনটাই আশা করা হয়েছিল। বুধবার গভীর রাতে এক অডিও বার্তায় তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, যার যা আছে, তাই নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।
হাসিনা মাঝরাতে অডিও বার্তায় ডাক দিয়েছেন মহম্মদ ইউনুস সরকারকে উৎখাত করতে। তিনি বিশ্ববাসীর উদ্দেশেও আর্জি জানিয়েছেন বাংলাদেশের দিকে নজর দিতে। তিনি বলেছেন, কীভাবে ইউনুস সরকার মানুষের রাজনৈতির অধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার হরণ করছে বিশ্ববাসীর তাতে প্রতিবাদ করা উচিত। প্রসঙ্গত, বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা গোপালগঞ্জে সভা করতে যাওয়ার আগে টুঙ্গিপাড়ায় মুজিবের মাজার ভাঙতে যাবে বলে গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল। সেই কারণে তৈরি ছিল আওয়ামী লিগও। দলের তরফে ময়দানে ছিল মূলত ছাত্র সংগঠন ছাত্র লিগ। যে সংগঠনকে গত বছর অক্টোবরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইউনুস সরকার। সেই নিষিদ্ধ ওই সংগঠনের দাপটের মুখেই এনসিপি নেতারা যেভাবে সেনা ট্যাঙ্কের ভিতরে ঢুকে গোপালগঞ্জ ছাড়লেন তাতেই বোঝা যায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের জনপ্রিয়তা। এরপর হাসিনা স্বয়ং ডাক দিলেন জনযুদ্ধের। ফলে আগামীদিনে যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে চলেছে, সেটা এখন পরিস্কার।












Discussion about this post