বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যম দিয়ে পরিবর্তন হয়েছে এক বছর আগেই। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতের আশ্রয়ে উঠেছে। এবং সেই মুহূর্তে হাসিনাকে দেশ ত্যাগ করাতে যার মূল আন্দোলন ছিল তিনি হলেন ছাত্রনেতা সার্ভিস আলম এবার ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ কাণ্ডে তিনি কি সরাসরি টার্গেট করলেন ভারতকে? বাংলাদেশের ‘জুলাই বিপ্লবী’ থেকে নেতা হয়ে ওঠা ওসমান হাদিকে গত ১২ ডিসেম্বর গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এখন তিনি কোমায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানেন না আদৌ তিনি প্রাণে বাঁচবেন কিনা। এই অবস্থায় সারজিসের এই বক্তব্য রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্য রাখে বলে মত রাজনৈতিক বক্তাদের। ওসমান হাদি বরাবরই ভারতবিদ্বেষী নেতা এমনকি তিনি ভারতের মানচিত্র বিদ্রুপ করেও বিভিন্ন সময় ছবি পোস্ট করেছেন এবং বাংলাদেশে যাই ঘটুক না কেন তিনি ভারতকে সরাসরি আক্রমণ করেন এই ওসমান হাদি কি ভারতের আক্রমণের শিকার হলেন? বাংলাদেশে এমনটাই সুড়সুড়ি তুলে দিলেন সারজিস।তাঁর অভিযোগ, কিছু অনুপ্রবেশকারী নাকি বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইছে।সারজিস বলেন, শরিফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থানের আগে থেকেই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধের বুক চিতিয়ে কথা বলে এসেছে। বিগত কয়েক মাসে এই বাংলাদেশে বিভিন্ন পরিচয়ে সীমান্ত দিয়ে এমন অনেক মানুষকে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে। যাদেরকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পাঠানো হয়েছে। কারণ তারা জানে যারা জুলাইয়ে রক্ত দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে আবার বাংলাদেশে সংকট আসলে তারা এক হয়ে যাবে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে ভারত কেন হাদীর মতন নেতার পিছনে লাগতে যাবে তাহলে কি করছেন সেই দেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস! অনেকেই তো আবার এই প্রসঙ্গে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সরাসরি ইউনুস সরকারের দিকেই আঙ্গুল তুলছেন। অর্থাৎ ইউনুসের চক্রান্তেই কি ভারতকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে হাদিকাণ্ডে জড়িয়ে দেওয়া।
সারজিস এককদম এগিয়ে আরো বলেন এই বুলেট শুধু শরিফ ওসমান হাদির মাথায় নয় এই বুলেট বাংলাদেশের ফ্যাসিস্ট এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া যে অভ্যুত্থান- সেই অভ্যুত্থানের বুকে করা হয়েছে। অর্থাৎ কোথাও গিয়ে আওয়ামী লীগকে ভারতের সাথে জুড়ে দেয়া হচ্ছে কারণ হাসিনাকে দেশ ত্যাগ করা এবং ভারতবিদ্বেষী হিসাবেই পরিচিত পান ওসমান হাদি। ছাত্রদল এমসিপির এই নেতা আরো বলেন-এই ঘটনা দিয়ে যারা বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, যারা আগামীর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে চাচ্ছে, যারা নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতিকে বানচাল করতে চাচ্ছে দেশে ও দেশের বাইরে ওই এজেন্টদের এটা একটা খেলা। আর হাদিকে গুলি করার মধ্য দিয়ে এই খেলা তারা শুরু করলো। তবে কি সরাসরি ভারতকে ইঙ্গিত করতে চাইছেন। যদিও এই বিষয়ে তিনি কোন কিছুই সুস্পষ্ট ভাবে জানাননি। অপরদিকে আরও একটি মত জানাচ্ছে নির্বাচনের আগেই এই ঘটনায় কোথাও ইউনুস জড়িত কিনা সেই দিকেও আঙ্গুল তুলছেন কারণ কোনমতেই ইউনুস এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হোক তা তিনি চাইছিলেন না তাই নির্বাচনের দিনক্ষণ গড়িমসি করে হলেও বিভিন্ন চাপে যখন প্রকৃতই নির্বাচন হচ্ছে তার আগে কি নোংরা খেলায় মাতলো ইউনুস প্রশাসন? এমসিপি নেতার এই বক্তব্য যথারীতি চাপে পড়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও এখনো পর্যন্ত ইউনুস উপদেষ্টা মহল থেকে হাদি ঘটনার কোন প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়নি আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এনসিপি নেতা জানায়-এই মুহূর্তে আগামীতে আমরা ঐক্যবদ্ধ না থাকলে আমরা যে পথে চলছি সেই পথ থেকে বিপথে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। সারজিস আলম আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে শুধু নির্বাচনী লড়াই নয়, আমাদের সামনে বাংলাদেশকে রক্ষা করার লড়াই। আমাদের সামনে শুধু ভোটের লড়াই নয়, যারা বাংলাদেশকে ধ্বংসের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই। আওয়ামী সন্ত্রাসী যারা ছিলো তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। তাদের সঙ্গে ইন্টারনাল আপোষ করে, ইন্টারনাল প্রটেকশন দিয়ে এই বাংলাদেশে আগামীতে কোনো কিছু সুষ্ঠুভাবে হতে পারে না। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুরোধ করছি, সারা দেশে সাড়াশি অভিযান চালাতে হবে। খুনি সন্ত্রাসী তাদের দোসর এবং বাইরে থেকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, যারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়, অগ্রযাত্রা থামাতে চায়, যাদের স্বার্থ বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে মিলছে না তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সবাইকে বলি লুতুপুতু করে আগামীর বাংলাদেশে খুনিদের আশ্রয় দিয়ে কখনোই শান্তি ফেরানো সম্ভব নয়। দিনে এক কথা, রাতে এক কথা, এই যদি হয় অবস্থা তাহলে আগামীতে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবেন না। অর্থাৎ হাদী কাণ্ডে যে বাংলাদেশে নির্বাচনের আগেই খেলা শুরু হয়ে গেছে তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে এখন আগামীতে কি পদক্ষেপ নেয় প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস অথবা তার অন্তর্বর্তী উপদেষ্টারা কি পদক্ষেপ নেয় এনসিপি বা হাদি কান্ড কোন দিকে মোর নেয় সেটি দেখার বিষয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post