গত ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় একজন নতুন রাজনৈতিক দলের নেতার উপর হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মাথায় গুলিবিদ্ধ ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির উপর সম্ভাব্য হামলাকারী হিসেবে একজনকে চিহ্নিত করেছে। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। এমনকি তাঁর পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তাঁর আইটি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’, সেখানেও হানা দেয় গোয়েন্দারা, সেখানে থাকা কম্পিউটারও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। কিন্তু এখনও ওই অভিযুক্তকে ধরতে পারেনি বাংলাদেশের পুলিশ এবং গোয়েন্দারা। কিন্তু ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতকে দায়ী করতে শুরু করেছে। তারপরই বিদেশে থাকা দুই বাংলাদেশী অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস এবং পিনাকীরা শুরু করে দিয়েছে ঘোলা জলে মাছ ধরতে।
প্রথমত আসা যাক ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান প্রসঙ্গে। দাবি করা হচ্ছে, তিনি নাকি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। দাবি করা হচ্ছে, বিগত হাসিনা সরকারের আমলে বেশ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ছিলেন এই দাউদ খান। তাঁর ঠিকাদারি সংস্থা ছিল, এবং সে সময় বেশ টাকাকড়ি কামিয়েছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে ওসমান হাদির সঙ্গে বহুবার দেখা গিয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান ইনকিলাম মঞ্চেও তাঁকে বহুবার দেখা গিয়েছে। এমনকি কেউ কেউ দাবি করছেন, হাদির নির্বাচনী প্রচারের খরচও নাকি অনেকাংশে বহন করছিলেন অভিযুক্ত ফয়সাল। এখন প্রশ্ন হল, এটা কি করে সম্ভব? যিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁকে ইউনূসের আমলেই বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেফতার করেছিল অস্ত্র-সহ। তাঁর কাছে একটি পিস্তল ও কয়েকটি ম্যাগাজিন পাওয়া গিয়েছিল। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়, তবে কোনও এক অজ্ঞাত কারণে জামিনও পেয়ে যায় ফয়সাল করিম মাসুদ। এখন তাঁর বিরুদ্ধেই গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠছে। তাহলে এটাকে গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলা হবে, নাকি অন্য কিছু, সেটাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অনেক প্রশ্ন উঠছে, যে ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের পতনে বড় ভুমিকা নিয়েছিলেন, যে ওসমান হাদি লাগাতার ভারত বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে যাচ্ছিলেন তাঁর সঙ্গেই কিনা সখ্যতা ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতার। আর সেই কিনা তাঁকে চলন্ত বাইক থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে মারার চেষ্টা করল?
ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলা হলেও তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উড়িয়ে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হল। তাঁকে নিয়ে সোমবার বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি উড়ে যায় সিঙ্গাপুরের দিকে। জানা গিয়েছে, ওসমান হাদির সঙ্গে গিয়েছেন তাঁর বড় দুই ভাই ওমর ফারুক এবং আবু বকর সিদ্দিক। এটাও একটি গুরুতর প্রশ্ন উদ্রেক করছে। ওই একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁকে লন্ডন উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ, মাথায় গুরুতর গুলির আঘাত থাকা ওসমান হাদি, যার মস্তিস্কতে চোট থাকায় কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না বলেই জানা গিয়েছিল, তাঁকে কিভাবে সিঙ্গাপুর উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হল? এই প্রশ্নও উঠছে। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, হাদিকে গুলি করায় মুল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে জেল থেকে ছাড়াতে যে আইনজীবীরা মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাঁরা প্রত্যেকেই বিএনপি সমর্থিত। আবার দেখুন, বিদেশে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশি সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে বসেই একের পর এক ফেসবুক পোস্টে বিএনপিকে দায়ী করছেন। তাঁর নিশানায় ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস। ইলিয়াস ঘুরিয়ে মির্জা আব্বাসকেই এক নম্বর আসামী করতে বলছেন।
অপরদিকে ফ্রান্সে থাকা আরেক স্বঘোষিত বাংলাদেশী অ্যাক্টিভিস্ট ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, আমাদের সহযোদ্ধাদের এভাবেই গুলি করে মারবে আর আনিস আলমগীর, আবদুন নুর তুষার, কথা কামালেরা দাঁত ক্যালায় ক্যালায় টকশোতে লীগের পক্ষে বয়ান তৈরি করবে। মজার বিষয়, এরপরই সাংবাদিক রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রোববার রাতে আনিস আলমগীরকে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। তিনি প্রথম আলোকে জানাতে পেরেছিলেন, তাঁকে জিম থেকে তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ বা ডিবি পুলিশ। এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যত দিক নির্দেশ করছে বিদেশে থাকা এই ইলিয়াস, পিনাকীর মতো স্বঘোষিত বাংলাদেশী অ্যাক্টিভিস্টরাই। একই দিকে উল্লেথ করা যায় আরেক সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের নাম। তিনিও দবি করেছিলেন, হাদির হত্যাকারী নাকি এই মুহূর্তে ভারতে পালিয়ে রয়েছেন। এরপরই আমরা দেখলাম, ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post