গত বছর জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছিল। ক্ষমতায় এসেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এক অন্যতম মুখ, নোবেলজয়ী ও বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, এবার বাংলাদেশের প্রভুত উন্নতি হবে, বাংলাদেশ এবার সোনার বাংলা হবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে হয়েছে ঠিক উল্টোটা। মুহাম্মদ ইউনূস নিজের নামে থাকা যাবতীয় মামলা মোকদ্দমা থেকে মুক্ত হয়েছেন, তাঁর এবং তাঁর সংস্থাগুলির নামে থাকা বকেয়া কর মুকুব করিয়েছেন। আর নিজের নামে আরও বেশ কয়েকটি লাভজনক সংস্থা খুলে নিয়েছেন আর বাকি সংস্থাগুলিতে বিদেশি সংস্থার বিনিয়োগ নিয়ে এসেছেন। এতে বাংলাদেশের প্রকৃত কতটা লাভ হল সেটা আর কেউ প্রশ্ন তুলতে পারছেন না। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হয় এমন কিছু চুক্তি তিনি করে বসে আছেন। চট্টগ্রাম-সহ আরও দুটি বন্দরকে বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা পাকা করে ফেলেছেন। সবমিলিয়ে বাংলাদেশকে কার্যত বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ততই যেন বিপাকে পড়ছেন মুহাম্মদ ইউনূস। এর কারণগুলি নিয়েই আমরা এখন একটু আলোচনা করি।
এ ক্ষেত্রে প্রথমেই বলা যেতে পারে মাইনাস টু ফর্মুলার বিষয়টি। শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে মাইনাস করতে চেয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। তাঁদের পরের টার্গেট বিএনপি নেতা তারেক রহমান। আর এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই কার্যত বিপাকে পড়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। আওয়ামী লীগকে অবৈধ উপায়ে মাইনাস করেছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ হাসিনা এবং তাঁর আমলের একাধিক মন্ত্রী, আমলা, পুলিশকর্তা এমনকি সেনাকর্তাদের জন্য কার্যত ফাঁসিকাঠ তৈরি করতে চেয়েছিলেন ইউনূস ও তাঁর সহযোগীরা। সেই কাজে তাঁরা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলেন। এই কাজ করার কারণ কি সেটা নিয়ে বলতে গিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চাইছিল। মার্কিন ডিপ স্টেটের মাধ্যমে পূর্বতন জো বাইডেন প্র্শাসন শেখ হাসিনার পতন ঘটনোর জন্য পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ইসলামিক দলগুলিকে কাজে লাগিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করেছিল। তাঁদের ওই পরিকল্পনায় মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন মূল কুশীলব। কারণ নোবেলজয়ী ইউনূসের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা ও ক্ষমতার লোভ এ ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে।
কিন্তু আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাও একজন পোড়খাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি জানেন ক্ষমতালোভী মানুষদের অভিসন্ধি খুব বেশিদিন টিকে থাকে না। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি খুব দ্রুতই পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারত এখানে একটা উল্লেথযোগ্য ভূমিকা পালন করা শুরু করেছে। মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে যে ভারত ফেরত দেবে না সেটা একশো ভাগ নিশ্চিত। আবার এটাও নিশ্চিত যে বাংলাদেশে যে ভাবে জঙ্গিবাদ বাড়ছে সেটাও ভারত এত সহজে মেনে নেবে না। একদিকে হাসিনার বিচার এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতি খেকে দুরে সরিয়ে রাখার যে চেষ্টা করছেন মুহাম্মদ ইউনূস সেটাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা মুহাম্মদ ইউনূসকে কার্যত ভারত ও শেখ হাসিনার পা ধরতে হচ্ছে এখন। আর নোবেলজয়ীকে তা করতে হচ্ছে নিজের জীবন ও সেফ এক্সিট নিশ্চিত করার জন্য।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post