জটিল পরিস্থিতিতে দল নয়, পুলিশ-সেনাবাহিনীর উপর নির্ভর করে অত্যন্ত ভুল করেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই সেনা ও পুলিশের গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্যই শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। এমন অভিমত দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছিলো। এবার তাতে শীলমোহর দিলেন সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের বিদেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। কলকাতায় বসে এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাদিনা ঘনিষ্ট এই আওয়ামী লীগ নেতা আক্ষেপ করেছেন।
বাংলাদেশের সাবেক বিদেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদের রাজনৈতিক পরিচয় তিনি আওয়ামি লিগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। যে আওয়ামি লীগকে কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে বাংলাদেশে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা কিভাবে ভোটে লড়বেন? কিভাবেই বা আওয়ামী লীগ পুনরায় বাংলাদেশের মাটিতে তাঁদের হারানো জমি উদ্ধার করবে? এই প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী দলের প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁর নির্দেশমতোই সংগঠনের কাজ চলছে। সংগঠন মজবুত করার কাজ চলছে। আমি আশাবাদী সঠিক সময়ই আমরা আবার নিজেদের স্বমহিমায় তুলে ধরতে পারব, বক্তব্য হাছানের। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের দ্রুত পুনরুত্থান কঠিন। কারণ মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার আওয়ামীলীগের বহু নেতা-কর্মীকে একাধিক মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পুরে রেখেছে।পাশাপাশি আওয়ামি লীগের অনেক কর্মী-নেতারা দেশের বাইরে আছেন আত্মরক্ষার জন্য। তবুও পরিস্থিতি বদলাবে বলেই আশাবাদী বাংলাদেশের সাবেক বিদেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদের।
আওয়ামি লিগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, “এখন দেশে ভয়ংকর অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনের শাসন একেবারেই নেই। তাঁর প্রশ্ন, কোথাও শুনেছেন দেশের মানুষ ও পুলিশকর্মীকে খুন করে প্রকাশ্য রাস্তায় ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে? এটা একমাত্র প্রথম তালিবানি আমলেই হয়েছিল আফগানিস্তানে। বাংলাদেশে এখন সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, একটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছে। তাঁর অনুযোগ, এটা করা হচ্ছে দেশকে কট্টরপন্থী ইসলামিকদের হাতে তুলে দিতে। আওয়ামী লীগ নেতার অভিযোগ, “বাংলাদেশে এখন ভয়ংকর অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনের শাসন একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছে। জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে। আসলে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার তৈরি করার কোনও সদিচ্ছাই নেই এই অন্তর্বর্তী সরকারের। তাই তাঁরা দেশের সংবিধানটাই পাল্টে দিতে চাইছে।
বর্তমান বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মুহাম্মদ ইউনূসের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারটাই অবৈধ। কারণ এটা কোন নির্বাচিত সরকার নয়। তাঁরা কীভাবে সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলে? প্রশ্ন বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রীর। তাঁর দাবি, আসলে মুহাম্মদ ইউনূস যে করেই হোক ক্ষমতা ধরে রাখতে চান। সে জন্যই জুলাই সনদের নাম করে একটা জোরজুলুম পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এটা বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবেন না বলেই প্রত্যয়ী হাছান মাহমুদ।
গোটা বাংলাদেশেই এই মুহূর্তে চর্চার একমাত্র বিষয় গোপালগঞ্জ। যেখানে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধে পিছু হটতে হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের স্নেহধন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের। রীতিমতো তারা আর্মির সাঁজোয়া গাড়ির ভিতর ঢুকে গোপালগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে আসেন। যদিও বুধবার গোপালগঞ্জের অনভিপ্রেত ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে শেষ পর্যন্ত খবর। এই চারজনই আওয়ামী লীগ সমর্থক বলেই জানা যাচ্ছে, যারা শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার বা কবর রক্ষা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। শেখ হাসিনার প্রাক্তন মন্ত্রী জানালেন, আগেও একাধিকবার দলের তরফ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছিল। আজ আমিও বলছি। সে দিন যদি শেখ হাসিনা চাইতেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে পারতেন। তাতে হয়তো রক্তপাত হত। তিনি সেটা চাননি বলেই ক্ষমতা ছেড়ে, দেশ ছেড়ে চলে এসেছেন। হাসিনা জমানার বিদেশমন্ত্রীর কথায়, বিদেশি শক্তির হাত ধরে তো আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছিল। এটা আজ গোটা বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, কীভাবে বিদেশি শক্তি এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের মদতে কিছু ছাত্রকে সামনে রেখে লুঠপাট চালানো হয়েছিল। কিন্তু আমরা নিজেদের ক্ষমতায় দেশে ফিরবো, কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের হাত ধরে নয়, স্পষ্ট দাবি হাছান মাহমুদের। তাঁর সতর্কতা, “আমাদের ভদ্রতাকে অনেকে দুর্বলতা মনে করতে শুরু করেছেন। মনে রাখবেন, আজও গোপালগঞ্জে মানুষ আওয়ামি লিগের সমর্থনে পথে নেমেছেন। শুধু গোপালগঞ্জ নয়। একে একে মানুষ মুখ খুলছেন। এটা দেওয়াল লিখন, যদি মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দোসররা বুঝতে পারেন ভালো, নাহলে আরও ভালো। ভয়ানক এক পরিণতি তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে। আওয়ামী লীগ নেতার দাবি, যে ভয়ের বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, সেটা আস্তে আস্তে মানুষের মন থেকে মুছে যাচ্ছে। দেশের মানুষ আজও শেখ হাসিনাকেই ক্ষমতায় চান।











Discussion about this post