বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি লকার থেকে নাকি ৯ কেজি সোনার গহনা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার দিলকুশায় অগ্রণী ব্যাঙ্কের প্রধান শাখায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর হাসিনার দুটি লকার ছিল। যা আগেই বাজেয়াপ্ত করেছিল দুদক। এবার আদালতের অনুমকি নিয়ে লকারগুলি খোলা হল। আর তাতেই নাকি পাওয়া গিয়েছে এই বিপুল পরিমান স্বর্ণালঙ্কার। বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, ওই দুটি লকার থেকে ৮৩২ ভরি সোনা পাওয়া গিয়েছে। দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে একটি লকার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের নামে। অন্যটি শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার নামে ছিল। অর্থাৎ উদ্ধার হওয়া সোনাদানা সবই যে শেখ হাসিনার তা বলা যাবে না। যদিও দুদক থেকে জানানো হয়েছে, অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদের নামে থাকা একটি লকারে ৪২২ ভরির কিছু বেশি সোনা পাওয়া যায়। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নামে থাকা আরেকটি লকারে পাওয়া গেছে ৪১০ ভরি সোনা।
দুদক মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ভল্টে থাকা নথি এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে কিছু অংশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত। আবার কিছু অংশ তাঁর বোন এবং মেয়ের ব্যক্তিগত সম্পদ। তিনি আরও জানান, আলাদা আলাদাভাবে মার্কিং করা ছিল। অনুসন্ধানকারী দল সেগুলি আলাদা আলাদা করে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। পরবর্তী সময় বোঝা যাবে কোনটা কার সম্পদ ছিল। বাংলাদেশে প্রশ্ন উঠছে, এই সোনা কি শেখ হাসিনার হলফনামায় দেখানো হয়েছিল? উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা নির্বাচনী হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন গোপালগঞ্জ–৩ আসন থেকে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে শেখ হাসিনার হলফনামাটি এখনও আছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজের নামে ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন। সোনা ও মূল্যবান ধাতুর অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছিলেন ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। যদিও ওই হলফনামায় আলাদা করে সোনার পরিমাণ উল্লেখ উল্লেখ করেননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেথ হাসিনা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরেকটি বিষয় উল্লেখ করছেন, ২০০৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় শেখ হাসিনার সম্পদের মধ্যে সোনা ও মূল্যবান ধাতুর মূল্যে কোনো হেরফের নেই। যদিও লকার থেকে এই বিপুল পরিমান সোনার গহনা উদ্ধারের পর শেখ হাসিনার পুরোনো একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করছেন চা শ্রমিকদের উপহার দেওয়া দুটি হাতের বালা তিনি পড়েছেন।
ভাইরাল ভিডিও
গত বছরের অগস্টে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর বিবিধ অভিযোগ আনা হয় হাসিনার বিরুদ্ধে। এমনকি তথ্য গোপন করে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। সূত্রের দাবি, লকার খুলে যে পরিমাণ সোনার গয়না পাওয়া গিয়েছে, তার সঙ্গে হাসিনার আয়কর রিটার্নের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। হাসিনার নামে থাকা আরও একটি লকার বাজেয়াপ্ত করেছেন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ। সেটি রয়েছে বাংলাদেশের পূবালী ব্যাঙ্কে। সেটি এখনও খোলা হয়নি। এ ছাড়া হাসিনার নামে থাকা বেশ কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করেছেন সে দেশের কর্তৃপক্ষ। এই সম্পদ নিয়ে কি করা হবে, সেটাই এখন কৌতুহলের বিষয়।












Discussion about this post