গত ১৭ই নভেম্বর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর ফের তাঁর বিরুদ্ধে একটি রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফাঁসির আদেশের পর কারাদণ্ডের আদেশ। এই বিষয়ে কি ভাবছে রাষ্ট্রপক্ষ? এই প্রশ্ন উঠছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তিনটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দেশীয়, বিদেশি গণমাধ্যম এই বিষয়ে খবর করছে। জানা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে খুশি নয়। শাস্তির মেয়াদ তারা বাড়াতে চায়। শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং পুতুলের সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের অসন্তোষ। কিন্তু আদেও কি এই সাজা বাস্তবায়িত হবে? হাসিনাকে সাজা দিতে পারবে ইউনূস সরকার?
কিছুদিন আগে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ফের হাসিনাকে তিনটি মামলায় রায় দিল বাংলাদেশের। এইবার ঢাকায় প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির মামলায় হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ঢাকার আদালত। একই মামলায় হাসিনার সঙ্গে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তার পুত্র সাজিব ওয়াজেদ জয় এবং সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল। জয়কে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকার জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং হাসিনা কন্যা পুতুলকে দেওয়া হয়েছে ৫ বছরের কারাদণ্ড। জানা যায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লস্ট বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুর্নীতির দায়ে তিনটি আলাদা আলাদা মামলা করা হয়। এতে হাসিনা সহ তার পুত্র ও কন্যার বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক করা আলাদা ওই তিন মামলায় প্রত্যেকটিতে শেখ হাসিনা আসামি। ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মহম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। জানা যায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতির মামলায় রায় পড়ার পর বিচারক বলেন, শেখ হাসিনা নিজে প্লট নেওয়ার পরে তার ছেলে এবং মেয়ের নামেও বরাদ্দ নেন। তারপর তার বোন শেখ রেহানা ও বোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকীর নামেও বরাদ্দ নিয়েছেন। জনগণের সম্পত্তির উপর লাভের দৃষ্টি পড়েছে। এর আগে ১৭ই নভেম্বর মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয় শেখ হাসিনাকে। জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত হত্যা কাণ্ড সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ওই রায় ঘোষণার পর দুর্নীতির মামলায় এবার ঢাকার একটি আদালত সাজা দিলেন শেখ হাসিনাকে। জানা যাচ্ছে, এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আরও ১২ জন আসামি। আসামিদের মধ্যে একজনকে খালাস দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার পর আদালতের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও আদালত এলাকায় মোতায়েন ছিল। তবে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হল, শেখ হাসিনা তো ভারতে। এমনকি তাঁর পুত্র ও কন্যাও দেশের বাইরে। সেক্ষেত্র কিভাবে কার্যকর হবে? আদেও কি সাজা দিতে পারবে অন্তবর্তী সরকার? মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ভারতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল ঢাকা। এখন দেখার, এর পরিপ্রেক্ষিতে আর কি পদক্ষেপ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপক্ষ!












Discussion about this post