নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীন দুটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে দুটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য চুক্তি হয়েছে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে। আর ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য চুক্তি হয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগের সঙ্গে। এর মধ্যে বন্দরের পিপিপি মডেলের প্রকল্পের সরকারি শর্তগুলোই পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের ভেতরেও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কেন এবং কীসের ভিত্তিতে চুক্তি করা হল?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে চুক্তির বৈধতা আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সরকার পরিবর্তন বা নীতিগত পরিবর্তনে প্রকল্প নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া অন্য পিপিপি প্রকল্পেও অনিয়মের নজির তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পিপিপি কাঠামোর প্রতি আস্থা নষ্ট করবে। এ ছাড়া বন্দরের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংগঠনগুলোর নেতারা। দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়ার চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
গত ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩৭তম সভায় লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্পকে পিপিপি আইন, ২০১৫-এর ধারা ১৪ এবং পিপিপি ক্রয় বিধিমালা, ২০১৮-এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী ‘নীতিগতভাবে অনুমোদনযোগ্য’ বলা হয়। তবে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং পাওয়া সাপেক্ষে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পায়নি, বরং শর্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে ১৬ নভেম্বর স্বাক্ষরিত ভেটিং রিপোর্টে ছয় দফায় আইনি ও কারিগরি অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল পিপিপি প্রকল্পের বিডার এপিএম টার্মিনালসের দাখিল করা কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন শেষে কনসেশন এগ্রিমেন্টটি ভেটিংয়ের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়। পরে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ সুনির্দিষ্টভাবে যেসব মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরে সেসব বাস্তবায়নের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং এপিএম টার্মিনালসের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার অনুরোধ জানায়।
বন্দর চুক্তি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রতিবাদে সরব জামাত। তারা সরকারের এই চুক্তির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। এদিকে বসে নেই সরকারও। তারা তাদের সমাজমাধ্যমে এই নিয়ে নানা যুক্তি তুলে ধরতে শুরু করেছে। লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সরকারের নির্দেশে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে বিদেশি অপারেটরের কাছে এ দুটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার চুক্তি করায় স্কপ নেতারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। স্কপ নেতারা জানান, স্টেকহোল্ডারদের মতামত উপেক্ষা করে পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই এ দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তি করা হয়েছে। এ ‘গণবিরোধী’ সিদ্ধান্ত থেকে সরকার অবিলম্বে সরে না এলে আগামী ২২ নভেম্বর কনভেনশন করবেন তারা। সেখান থেকে হরতাল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাঙ্ক রোড অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রকাশ্যে গুলি। একবার নয়, একাধিকবার। বলা হচ্ছে গুলি মাথার এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছে। যারা গুলি চালিয়েছে, তারা এসেছিল বাইকের...
Read more












Discussion about this post