বাংলাদেশে তিনি ক্ষমতাচ্যুত, দেশছাড়া হয়ে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। কিন্তু ভুলতে পারেননি বাংলাদেশের কথা। তিনি শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের সবচেয়ে পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। বিগত কয়েক মাস ধরে ভারতের রাজধানী দিল্লির কোনও এক গুপ্ত স্থান থেকে ঘনঘন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তোপ দেগে চলেছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম এখন একটাই, সেটা হল সোশ্যাল মিডিয়া। তাই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অডিও বার্তা দেন। শনিবারও সেই অডিও বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন শেখ হাসিনা। মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আগে থেকেই থাকা একাধিক দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি রীতিমতো তোপ দাগলেন নতুন অডিও বার্তায়।
শেখ হাসিনার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নানা মামলায় ফাঁসিয়েছেন ইউনূস। এটাই ছিল তাঁর গেম প্ল্যান। এদিন হাসিনা বলেন, যারা ভেবেছিলেন, ইউনূস আসলে দেশে শান্তি ফিরবে, অর্থের স্রোত বয়ে যাবে, বিদেশি বিনিয়োগ হবে। তাঁরা মুহাম্মদ ইউনূসের আসল রূপ দেখে ফেলেছেন। সে একটা সন্ত্রাসী। তিনি অবৈধ ভাবে ক্ষমতার দখল নিয়েছেন।
পাশাপাশি তাঁর আরও অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে ইউনূস আগেই তাঁর বিরুদ্ধে চলা আর্থিক কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলা থেকে নাম প্রত্যাহার করিয়ে নিয়েছেন। সেই সঙ্গে ব্যাঙের ছাতার মতো নিজের নামে আরও ব্যবসা চালু করে চলেছেন।
উল্লেখ্য, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশছাড়া শেখ হাসিনা। প্রথম ছয় মাস তিনি একেবারেই প্রকাশ্যে আসেননি। যদিও এখনও তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে তাঁর অডিও বার্তা কার্যত কাঁপিয়ে দিচ্ছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শেখ হাসিনার বার্তা যাতে বাংলাদেশের মানুষ শুনতে না পান, তার জন্য ইউনূসের সরকার আওয়ামী লীগের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও তা প্রচার করা মানা। তবুও নানাভাবে হাসিনার প্রতিটি বার্তা পৌঁছে যায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে। আর তাতেই তাঁরা তেতে ওঠেন। বিগত ১৯ দিনে বাংলাদেশে ৬৮টি মিছিল করেছে আওয়ামী কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি সেই মিছিল দিন দিন বাড়ছে। এই মুহূর্তে ঢাকার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী মামলা চলছে। তাতে তাঁর দোষী সাব্যস্থ হওয়া কার্যত পাকা। হাসিনা বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশ-প্রশাসন ইউনূসের কথায় চলে। বিচারব্যবস্থাও ইউনূসের লোকজনে ভর্তি। কোনও আইনজীবীকেই আওয়ামী লীগের হয়ে লড়তে দেওয়া হচ্ছে না। একটা সন্ত্রাসীর হাতে চলছে দেশ।












Discussion about this post