দলের সর্বোচ্চ নেত্রীকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভের আগুন বাড়ছে আওয়ামী লীগের অন্দরে। এটাই ভাবা স্বাভাবিক, তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মোটেই চিন্তিত নয়। যেটুকু উদ্বেগ রয়েছে তা নিচুতলার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। ফলে এই সাজা শোনার পর বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কী বলবেন, তা শোনার জন্য অধীর ছিলেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগের নেতারা। কিন্তু তাঁরা এখন খুশি এবং উৎসাহিত। কারণ, ফাঁসির সাজা শুনে মোটেই দমে যাননি শেখ হাসিনা। বরং পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূসকে। যা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ।
জানা যাচ্ছে, সোমবার নেত্রীর ফাঁসির আদেশ শুনে কিছুটা মনমরা হয়ে পড়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা। যারা কলকাতায় এক গোপন বৈঠকে জমায়েত হয়েছিলেন গত সোমবার। যদিও এদের মধ্যে অনেকেই হাসির সাজা নিয়ে সন্ধিহান ছিলেন না। তবুও একটা আতঙ্ক যেন গ্রাস করেছিল। যখন সাজা ঘোষণা হল তখন অনেকেই ভয়ে বা আতঙ্কে বা হতাশায় নেত্রীকে ফোন করতে ভয় পাচ্ছিলেন। সেদিন কলকাতার বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতার কথায়, আচমকাই দলনেত্রী শেখ হাসিনার ফোন আসে সেখানে উপস্থিত আরেক নেতার মোবাইলে। আর তা আসে সাজা ঘোষণার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই। সেই নেতার কথায়, ‘‘প্রথমে নেত্রী বলেন, আমার গলায় ফাঁসির রশি আর তোমরা আমাকে একটা ফোনও করলা না?’’ অপ্রস্তুত ওই নেতা তখন ভাবছেন কি জবাব দেবেন, তিনি আমতা আমতা করে বলেছিলেন আমরা ভাবছিলাম আপনাকে ফোন করবো। এরপরই ওই নেতার কথায়, ‘‘নেত্রী বললেন, ইউনূস আমাকে কি ফাঁসি দিবে? আমি অরে ফাঁসি দিব! আল্লা আমারে এমনি এমনি বাঁচিয়ে রাখেননি। গ্রেনেড হামলাতেও আমার প্রাণ যায়নি!’’
এই কথোপকথন যখন সকলকে চমকে দিয়েছিল। তবে শেখ হাসিনার এই কথায় দৃশ্যতই উদ্বুব্ধ হয়ে যান কলকাতাবাসী আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এতটাই যে, তাঁরা মনে করছেন, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, ১৪ দলের জোটকেও ভোটে লড়তে না দেওয়ায় তাঁদের একটা ‘অলিখিত জোট’ হয়ে যাবে। তাঁদের কথায়, নেত্রী হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণা হওয়ার আগে বাংলাদেশে যে ‘জনরোষ’ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে ‘আশাবাদী’ কলকাতাবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব।
মূল গল্প এখান থেকেই শুরু। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যারা কলকাতায় বসে বৈঠক করেছিলেন গত সোমবার তারা ঠিক করেছেন এবার আরও বড় আন্দোলনে ঝাঁপানো হবে। তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনায় রয়েছে, মার্চ টু যমুনা কর্মসূচি। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি এই কর্মসূচিতে রাজি হয় তাহলে তা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেবাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী ঘটনার পর থেকেই আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের একটা বড় অংশ কলকাতায় ‘আশ্রিত’। তাঁরাই ঠিক করছেন পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে। তাঁরাই বলছেন, ‘‘আমরা পিছনের দিকে তাকাতে চাই না। যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। আমরা সামনে তাকাতে চাই। আওয়ামী লীগের এই নেতারা আশাবাদী, পরিস্থিতি বদলাবে। ইউনূসের বিরুদ্ধে জনরোষ শুরু হয়েছে। হাসিনার ফাঁসির আদেশের পরে সেই রোষ আরও বাড়বে। ফলে যেভাবে লকডাউন সফল হয়েছে, সেভাবেই বাকিটা সফল হবে। কারণ ভারত সরকার ও বেশ কয়েকটি বিদেশী সংস্থার সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। যা হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন।












Discussion about this post