বাংলাদেশের আকাশজুড়ে এক চাপা উত্তেজনা। ঢাকায় কান পাতলে শোনা যাবে ধানমন্ডিতে লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটাতে চলেছে আওয়ামী লীগ। শীর্ষনেতাদের দাবি, এটা নিছক মহাসমাবেশ নয়। এটা একটি মাস্টারপ্ল্যান যা পাল্টে দিতে পারে আগামী নির্বাচনের সমীকরণ। দলীয় সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, সমাবেশ হবে ধানমণ্ডী ৩২ নম্বর, বঙ্গবন্ধু মূর্তির পাদদেশে নেওয়া হবে শপথবাক্য পাঠ। বিশ্লেষকদের মতে, এর ভিতরে লুকিয়ে আছে বিএনপি জামাতের সক্রিয় তৎপরতার জবাব এবং শক্তি প্রদর্শনের বার্তা।
গত ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন। ঢাকার উত্তরপাড়ার সঙ্গে যমুনার সম্পর্কের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। সাউথব্লকের প্রত্যাশা, তিনি বিজয়ীর বেশে বাংলাদেশে ফিরবেন। সেই প্রেক্ষাপটেই ধানমন্ডীর সমাবেশকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন রহস্য।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গোটা পরিকল্পনা করছে দিল্লিতে আওয়ামী লীগের একটি কোর গ্রুপ। তাদের মিশন সার্থক করে তুলতে আওয়ামী লীগ, ছাত্র লীগ, যুব লীগের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক প্রস্তুত। এরা রয়েছেন গোপন আস্তানায়। সেখানে থেকে তারা আন্দোলনের নীল নকশা তৈরি করছে। তাদের মূল লক্ষ্য যে কোনও মূল্যে অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তদারকি সরকারের তরফ থেকে পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়। ইতিমধ্যে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাসিনা যাতে ভোটে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তার জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ঝটিকা মিছিল বের করেছে। আয়োজন করেছে ছোটাখাটো সমাবেশের। আওয়ামী লীগ অক্টোবর মাস ঘিরে একটা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছিল। কিন্তু সেটা তারা কার্যকর করতে পুরোপুরি ব্যর্থ। অনেক মনে করছে, দলের একাংশ এই গোপন পরিকল্পনার কথা পুলিশের কাছে ফাঁস করে দেয়। এবার সেটা যাতে হতে না পারে তার জন্য দল বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।
এবার অন্তর্বর্তী সরকারকে হটাতে দলের পলাতক নেতারা দেশি ও বিদেশি সহকারীদের সহায়তায় রাজধানী ঢাকায় বড় কিছু করার পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ বিষয়ে ধারণাপত্র ও সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। পুলিশের একটি সূত্রে জানিয়েছে, যে ধরনের মাস্টারপ্ল্যান আওয়ামী লীগ নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সমাজের হেভিওয়েট নেতাদের টার্গেট করা, চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং ডাকাতদের সংগঠিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটানো, ঝটিকা মিছিলে বাধা দিলে পালটা হামলা চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া, মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে লাখো আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের হাজির করা।
পুলিশ জানিয়েছেন, অক্টোবরজুড়ে দলটির মাস্টারপ্ল্যান সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের হাতে এসেছে। সেই সব তথ্যের মধ্যে রয়েছে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল,
তাদের এই পরিকল্পনার ব্যাপারে অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল আলমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “পরাজিত শক্তি নানাভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা করছে। দুর্গাপূজার মধ্যে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চক্রান্ত করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, এই কাজে দেশের বাইরে থেকে নানাভাবে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।












Discussion about this post