জুলাই অভ্যুত্থানের পর গোটা বাংলাদেশ জুড়ে তদারকি সরকারকে ঘিরে একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হাসিনা আমলে যে সব দুর্নীতি হয়েছে, ইউনূসের আমলে সেই সব দুর্নীতি হবে না। প্রশাসন হবে স্বচ্ছ। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন। কিন্তু এই ১৬ মাসে বাংলাদেশবাসী সাক্ষী ছিল এক অরাজকতার। আইনের শাসন বলতে কিছুই ছিল না। পুলিশ থেকে সেনাবাহিনী, আদালত সব কিছুর মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এই ইউনূস সরকার। কিছুদিন আগে হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে স্পষ্ট তাকে বলতে শোনা যায় ইউনূস সরকারের আমলে একের পর এক কুকীর্তির কথা। সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ও কর্মরতদের বিচারের আওতায় এনে ইউনূস এখন মহা বিপদে পড়েছেন। যে বাহিনী একসময় তাঁর পাশে ছিল, তারাও এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। ইউনূসের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ইতিমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। এমনকী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাহিনীর যে সব সদস্যের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে, তাদের অনেকেই হয় দিল্লি না হয় কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন। এই অবস্থায় হাসিনার দেশে ফেরার পথ খুব প্রশস্ত হচ্ছে। কবে তিনি ফেরেন সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।
গত মার্চেই কিন্তু আওয়ামী লীগের এক নেতা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাদের নেত্রী যে কোনও সময় দেশে ফিরতে পারেন। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং সহসভাপতি (আওয়ামী লীগ শাখা) শেখ হাসিনা ফিরছেন। তরুণ প্রজন্ম ভুল করেছে। কিন্তু তাদের দোষ নেই। তাদের ভুল বোঝানো হয়েছে। তাঁর সাফ দাবি, আমরা চাই, তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস তাঁর পদে ইস্তফা দিন। তিনি যেখান থেকে এসেছিলেন, সেখানে ফিরে যান।
হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পিছনে যে ভারতের যে একটা ভূমিকা রয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশও ক্রমশ বদলে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালেয় আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন জয়ী হয়েছে। ইউনূস বিরোধী হাওয়া প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে। আর এর মধ্যেই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিলে উঠে আসছে যে দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ঠিক করতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন কি হবে। তবে ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে যে বিপর্যয় শুরু হয়েছে তাতে অনেকেই মনে করছেন যে সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত করতে আন্দোলোন করেছিল, তারাই আবার আন্দোলোন করবে শেখ হাসিনাকে তার সিংহাসনটি ফিরিয়ে দিতে। কারণ এই এক বছরে বাংলাদেশের শুধু ব্যবসা বানিজ্যই বন্ধ হয়ে যায়নি, সমস্ত জিনিসের দাম দ্বিগুন হয়ে গেছে। বেড়েছে চাঁদাবাজি জোর জুলুম খুন ধর্ষণ। ফলে এই সরকারের বিরুদ্ধে বেড়েছে জনরোষ। এমনকি যারা হাসিনার পতনে বাইরে থেকে আওয়াজ উঠিয়েছিল তারাও বিরক্ত এই সরকারের উপর। তদারকি সরকার প্রধানও সেটা বুঝতে পেরেছেন। সম্প্রতি তিনি রোম গিয়েছিলেন। ইচ্ছা ছিল পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে বৈঠক করার। কিন্তু পোপ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেন। এমনকী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়ে দেন, তার সঙ্গে দেখা করার কোনও ইচ্ছে নেই। ফলে, হাসিনার ফেরা প্রায় নিশ্চিত। আওয়ামী লীগ একটা একটা করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। আর সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউনূস যা করলেন সেটা তো আগুন নিয়ে খেলার সমান।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post