“I would rather be ashes than dust. I would rather that my spark should burn out in a brilliant blaze than it should be stifled by dry rot.”
‘আমি ছাই হতে রাজি আছি, ধুলো হতে নয়। ’কথাটা বলেছিলেন জ্যাক লন্ডন। কে এই জ্যাক লন্ডন,সেটা তুলে ধরার জন্য এই প্রতিবেদন নয়। বিখ্যাত এই ঔপন্যাসিকের জীবনোপলব্ধির সঙ্গে মিলে যায় বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনার জীবনলিপি। জ্যাকের মতো তিনিও ছাই হতে রাজি। কিন্তু ধুলো হতে চাইছেন না। রাজনীতির আগুনে তিনি একাধিকবার পুড়ে ছাই হয়েছেন। নিজকে অগ্নিস্নানে সিক্ত করেছেন। আর প্রতিবার সেই অগ্নিশিখা থেকে জন্ম নিয়েছে নতুন এক হাসিনার। বাংলাদেশ তার সাক্ষী। সাক্ষী এই দুনিয়া। হাসিনার শয়নে স্বপনে জাগরণে বাংলাদেশ। সোনার বাংলার ধ্বংসযজ্ঞ তিনি সহ্য করতে পারছেন না। বঙ্গবন্ধু কন্যা তাই আরও একবার নিজেকে আগুনে শুদ্ধ করে নিতে চাইছেন। চাইছেন আগুনের পরশমণির স্পর্শ। নিজেকে দহন করতে চাইছেন। এই দহন বাংলাদেশের স্বার্থে। আপামোর বাংলাদেশবাসীর স্বার্থে।
নির্বাসনে থাকাকালীন বিভিন্ন গণমাধ্যমে হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি সাক্ষাৎকার যেন একেকটি প্রজ্জ্বলিত অগ্নিশিখা। সেই অগ্নিশিখা থেকে তিনি নিজেও ওম নিয়েছেন, সেই সঙ্গে ভয়ংকর আগুনে বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধানকে দগ্ধ করেছেন। দিল্লিতে তাঁর একটি সাংবাদিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। বিশেষ কোনও কারণে সেই সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল করতে হয়। পরিবর্তে হাসিনা দিয়েছেন অডিও বার্তা। আর সেই অডিও বার্তার অভিঘাত এতটাই গভীর যে বাংলাদেশ সরকার প্রধানের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য থেকে এটা আরও একবার প্রমাণিত হল যে তার জীবনে রাজনৈতিক শক্তি অনিশেষ।
দিল্লি থেকে হাসিনা কী বলেছেন, সে দিকে একবার তাকিয়ে দেখা যাক?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে কখনও ‘খুনি ফ্যাসিবাদী’, কখনও ‘সুদখোর’, কখনও ‘টাকা পাচারকারী’, আবার কখনও ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আক্রমণ শানান হাসিনা।বক্তৃতার শুরুতেই হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক গভীর খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। ” কথা বলেছেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা নিয়েও। তাঁর প্রশ্ন, একটি অবৈধ সরকার কী করে আওয়ামী লীগের মতো বাংলাদেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিকদলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে কখনও ‘ফ্যাসিবাদী’, কখনও ‘সুদখোর’, কখনও টাকা ‘পাচারকারী’, কখনও ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাত বলেছেন। ইউনূস সরকারেক ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল’ বলে আক্রমণ করতে দ্বিধা করেননি। ডাক দিয়েছেন এই পুতুল সরকারকে উৎখাতের। হাসিনা মূলত তাঁর দিল্লির অডিও বার্তায় মূলত পাঁচটি দাবির কথা তোলেন। প্রথম দাবি বাংলাদেশের নির্বাচন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। অর্থাৎ, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠা করতে হবে আইনের শাসন। নারী ও শিশু নিপীড়ন বন্ধ করা। ইউনূসের সময়ে সংঘটিত হিংসা এবং অগণতান্ত্রিক উপায়ে সংঘটিত কার্যকলাপের তদন্তে জাতিসঙ্ঘ থেকে তদন্ত দল পাঠানো। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা যে কতটা বিতর্কিত, সেটা হাসিনার এই বক্তব্যে হীরের দ্যূতির মতো স্বচ্ছ ও স্পষ্ট।
হাসিনার এই বক্তব্য রীতিমতো চটে গিয়েছে তদারকি সরকার প্রধান। তাই, তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ কড়া। ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে। অথচ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচনে থাকছে না আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। হাসিনা যখন বলেন প্রতিষ্ঠানগুলি অবৈধ, তখন তিনি তদারকি সরকারের বৈধতাকেও প্রশ্নচিহ্নের মধ্যে ফেলে দিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তদারকি সরকার প্রধান যে সব সংস্কার করেছেন, সেই সব সংস্কারের যে কোনও বৈধতা নেই, সেটা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এই ধারণা জনমণে গভীরভাবে প্রোথিত হলে আসন্ন ভোট যে তদারকি সরকারের বিদায়কে আরও প্রশস্ত করবে।
হাসিনার এই ভাষণ নিয়ে দিল্লির তীব্র প্রতিক্রিয়া গভীর এক রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার অডিও বার্তার প্রেক্ষিতে দিল্লির প্রতিক্রিয়া হল ‘ভারত তাঁকে (হাসিনা) নিজেদের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এরকম উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটা পরিষ্কার ভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’’ কেন আওয়ামী লীগকে তারা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, তারও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তদারকি সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ‘‘আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া এ রকম উস্কানিমূলক বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে যে, কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত হিংসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের দায়ী করা হবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতেযথাযথব্যবস্থানেওয়াহবে।’’












Discussion about this post