আসন্ন ২০২৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে ততই জটিল আকার নিচ্ছে আইসিসি বনাম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সংঘাত। ভারতে ম্যাচ খেলবে না-এই অবস্থানে অনড় বাংলাদেশ। সেই জেদেরই পরিণতিতে এবার বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল পাকিস্তানের নাম?একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে না সরালে পাকিস্তানও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারে।গত শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা ICC-র কাছে গ্রুপ পরিবর্তনের আবেদন জানায়। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু আইসিসি সেই দাবি স্পষ্টভাবে খারিজ করে দেয়। এরপরই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে কার্যত আইসিসির উপর চাপ বাড়ানোর পথে হাঁটল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।গত কয়েক মাসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য ভাবে উষ্ণ হয়েছে। ২০২৫ এশিয়া কাপ আয়োজনের সময় দুই বোর্ড ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে। সেই সময় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভিকে সমর্থন করেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম। পাল্টা হিসেবে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠক ডাকার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নকভি। ক্রিকেট কূটনীতির সেই সমীকরণই এবার বিশ্বকাপ বিতর্কে প্রকাশ্যে এল।একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে,বাংলাদেশ সরকারের তরফে সরাসরি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিশ্বকাপ ইস্যুতে কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। পাকিস্তান নাকি আশ্বাসও দিয়েছে-বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানো না হলে তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে নতুন করে ভাববে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পরে পাকিস্তানও যদি বিশ্বকাপ বয়কটের পথে হাঁটে, তা হলে আইসিসির উপর প্রবল চাপ তৈরি হবে। কারণ, পূর্ণ সদস্য দুই দেশ যদি টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তা হলে বিশ্বকাপ আয়োজনের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।
অনেকের ধারণা, ভারতের বিরোধিতাই এই অবস্থানের অন্যতম কারণ। যদিও এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বয়কটের ঘোষণা করেনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই হুঁশিয়ারিই ক্রিকেট মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা। হাতে সময় খুব কম। ফলে এই জট দ্রুত কীভাবে মেটায় আইসিসি, সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেটবিশ্বের।শনিবার জট কাটাতে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। সেই বৈঠকে আইসিসিকে বাংলাদেশ বোর্ডের কর্তারা আইসিসি কর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘শত্রু ভারতের মাটিতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলার আয়োজন করলে অংশ নেবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের গ্রুপ বদল করা হোক। তা না হলে বয়কট করা হবে বিশ্বকাপ। এমনকি আইসিসির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটা হবে।’ বাংলাদেশ বোর্ডের কর্তাদের ওই অনমনীয় মনোভাবের ফলে বিশ্বকাপ নিয়ে জটিলতা এক ইঞ্চিও কাটেনি।পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি যুক্তি সঙ্গত। ভারতে দল না পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসি যদি সন্তোষজনক কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পাকিস্তানও ভারতে হতে চলা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। এমনকি সঠিক নির্দেশ না পেলে বিশ্বকাপে না খেলার সম্ভাবনা কথাও বিবেচনায় রেখে টিম ম্যানেজমেন্টকে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। এই ঘটনায় ফের একবার সামনে এসেছে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সখ্যতার ছবি।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার বদলা নিতে ভারতের মাটিতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে নির্দেশ দেয় মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। তার পরেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কথা ঘোষণা করে বিসিবি। এ নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসির সঙ্গে মেল চালাচালি হয় বিসিবির। তাতে কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। অবশেষে শনিবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত জানানোর সময় বেঁধে দিল আইসিসি।












Discussion about this post