যদি ইউনূস সাহেবের সত্যিই নির্বাচন করানোর ইচ্ছা থাকে, তবে ঐ নির্বাচনকে বৈধ করার জন্য আওয়ামীলীগের অংশগ্রহণ জরুরি। প্রথম দিকে এই দাবী আকার ইঙ্গিতে করে আসছিল ভারত।এবং সব দেশের সঙ্গে কমনওয়েলথের মহাসচিবও বলে গেছেন সব দলের অংশগ্রহনে নির্বাচন করতে হবে। কারণ এখন সব দেশই বুঝতে পারছে, আওয়ামীলীগ না থাকা মানে বিরোধী শূণ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া। জাতীয় পার্টিকে বাদ দিলে, বাকী যে সব দলগুলি আছে তারা সবাই তো মিলিভকত, মানে যাহা বিএনপি তাহাই জামাত আবার তাহাই এনসিপি। এদের মধ্যে লোক দেখানো বিরোধ থাকলেও, নীতিগত বিরোধ নেই, মানে সবাই মুক্তি যুদ্ধের বিরোধী সবাই অথবা রাজাকারের সঙ্গী। এখন অনেকেই বলতে পারে হাসিনার দল স্বৈরাচারী, অনেক গুম খুনে যুক্ত। কিন্তু যারা তাদের আয়না ঘরে কি করুন দুর্দশায় দিন কেটেছে সেই বর্ণনা দিয়েছেন,দেখা গেছে তারা তাদের পোশাক এর সঙ্গে যে গামছাটি দেখিয়েছেন, সেটি দেখে কেউ বলবে না ঐ গামছাটি মাত্র দু দিনও ব্যবহার করা হয়েছে কিনা। তাই গুম খুনের অভিযোগ কতটা সত্যি, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আর আন্দোলোন চলা কালীন যা ঘটেছে, যে ভাবে পুলিশ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, তা মানবিক নয়, তাকে কোন সুস্থ মানুষ মেনে নিতে পারবে না। কিন্তু এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে? সবাই হাসিনাকে দায়ী করলে, ট্রাম্পেরকথায় ডিপস্ট্রেটের ঐ ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ কেন? আর মাহফুজের ঐ যে বক্তব্য এখানে রিজিম চেঞ্জের জন্য আন্দোলোন হয়েছে, কোন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়নি। অথবা ইউনূস সাহেবের মাহফুজকে মাস্টার মাইন্ড বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া । একটি আন্দোলোনকে বিদেশী অর্থে জবর দখল করে, সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল কারা? তার বিচার তো একদিন ঠিকই হবে। আর যারা বলেছিল যে মেট্রোয় আগুন না দিলে, মৃত্যু না হলে, আন্দোলোন তীব্র হত না। তাহলে প্রশ্ন তো থেকে যাবেই, যারা চাইছিল আন্দোলোন তীব্র হোক, তারাই ম্যটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে এই মৃত্যু ঘটিয়েছে কিনা? আর কিছুদিন আগে যে জুলাই যোদ্ধারা যমুনা ভবন অভিযান করেছিল, পুলিশ তাদের কুকুর বেড়ালের মত মারল, সেটি কেন? তারা তো আহত জুলাই যোদ্ধা, দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের তো ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা উচিৎ ছিল। তারা তো সরকার ফেলতে যায়নি। অথচ যারা নির্বাচিত সরকারকে ফেলতে আক্রমন চালালো, তাদের পুলিশ কি মালা দিয়ে বরণ করবে? নাকি সরকারের নির্দেশ মেনে আন্দোলোন প্রতিরোধ করবে। তবে আন্দোলোনের চরম মহুর্তে যত মৃত্যু হয়েছে এবং যে নির্মমতার সঙ্গে হয়েছে, কোন যুক্তি দিয়ে তাকে মানবিকতার পক্ষ্যে আনা যায় না, কিন্তু তার জন্য হাসিনাই দায়ী এটি আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় প্রমান করা যাবে না। তাই ইউনূস বাহীনির ক্যাঙ্গারু কোর্টের নির্মান। আওয়ামীলীগ ছাড়া নির্বাচন হলে হয়তো অর্ধেকের বেশী মানুষ ভোট দিতেই আসবে না। আর বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে একই মতাদর্শের মানে, মুক্তি যুদ্ধ বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে বহু অর্থ ব্যয় করে ভোট করিয়ে লাভ কি। এখন অনেকেই বলবেন হাসিনার আমলে গত দুটি ভোটে তো বিএনপি অংশ নেয় নি। কিন্তু সেটি ছিল সেই দলের ইচ্ছা, সরকার তো ঐ দলকে ভোট অংশ নিতে বাধা দেয়নি। তাই এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কোন লাভ না হলেও, সরকারের উচিৎ ভোটকে স্বচ্ছ করার জন্য তাদের নির্দোষ নেতা কার্মীদের জেল থেকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া। আর তা না হলে ভারত সহ বহু দেশ এই নির্বাচনকে মান্যতা দেবে না।












Discussion about this post