বেগমপুত্র তারেকের সপরিবারে ঘরওয়াপসি। সেই সঙ্গে ইতি ঘটল জিয়া-পুত্রের ১৭ বছরের বন্দিদশা। এই জীবনকে বন্দিদশা ছাড়া আর কিই বা বলা যেতে পারে। দেশ ছেড়ে চলে যান ২০০৮ সালে। বলা ভালো পালিয়ে যান। তাঁর বিবৃতি তাকে পালাতে বাধ্য করেছিল। সেনার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছিলেন তারেক। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে জিয়া-পুত্রকে গ্রেফতার করে। তার আগে ক্ষমতার মসনদে ছিল বিএনপি। তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে সে ঢাকার হাওয়া ভবনে সমান্তরাল প্রশাসন খুলে বসেছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁকে গ্রেফতার করে। রাখা হয় সেনা হেফাজতে। দেশ ছাড়া পর তারেক সেনবাহিনীর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। বলেন, সেনা হেফাজতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে সে এক অন্ধকারময় পর্ব। খালেদা জিয়া, তাঁর দুই পুত্র তারেক ও আরাফত রহমান ওরফে কোকো দুর্নীতি মামলায় জেলে ছিলেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অনুনয় বিনয় করে প্রথমে ছোটো ছেলে কোকোর জামিনের ব্যবস্থা করেন। কোকো প্রথমে তাইল্যান্ড, পরে মালয়েশিয়ায় থিতু হন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন। জেলবন্দি খালেদা ২০০৮ –য়ের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলে সেনাবাহিনী তাঁর ওপর প্রবল চাপ তৈরি করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার শর্তে খালেদার দাবি মতো বড়ো ছেলে তারেককে জামিনে মুক্তি দেয়। সেনাবাহিনীকে খালেদা কথা দিয়েছিলেন তারেক আর রাজনীতিতে ফিরবে না। সেই সময় জিয়া-পুত্র ছিলেন বিএনপি সিনিয়র সচিব। জামিন পাওয়ার অলিখিত শর্ত হিসেবে তিনি দলীয় পদ থেকে সরে দাড়ান। ২০০৮ সালে তারেক লন্ডনে চিকিৎসার জন্য চলে যান। ফিরলেন ১৭ বছর বাদে।
কিন্তু যার ফেরা নিয়ে বাংলাদেশ অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে, সেই হাসিনা কবে ফিরবেন? কবে দিল্লি তাঁকে ঢাকার হাতে তুলে দেবে? এই নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে যেমন পদ্মার ওপারে আলোচনা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে এপাড়েও। সাউথব্লক থেকে বলা হয়েছে, হাসিনা যতদিন চাইবেন, ততদিন থাকতে পারেন। কবে যাবেন, সেটা তাঁর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম একটি বিস্ফোরক বয়ান দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে তাঁদের দলের তরফে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে তাঁর কাছে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি পদ্মাপারের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মোদি সরকারের সমালোচনাও করেন।
প্রবীণ এই বাম নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা যাবেন কি থাকবেন, তা সিদ্ধান্ত নেবে মোদি সরকার। আগে তারা বাংলাদেশকে নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতেন। কিন্তু এখন কেন চুপ, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসলে ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিগন্যালের অপেক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ ও শর্তের কারণে ভারত সরকারের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। ’ সেলিমের ওই মন্তব্যে রাজনৈতিকমহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর কারণ মূলত সেলিমের ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিগন্যালের অপেক্ষায়’ রয়েছে বলে মন্তব্য করায়। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ভারত এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবস্থান বিবেচনা করছে।












Discussion about this post