বাংলাদেশ নিয়ে যে স্বপ্ন আমেরিকা দেখেছিল, তা এখন দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়েছে।ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা আমেরিকার।তাই যে কোন ভাবে দ্রুত ভোট করিয়ে বাংলাদেশ থেকে পাত্তাড়ি গুটোতে চাইছে ট্রাম্প। ভারত আমেরিকাকে যে ধাক্কাটি দিয়েছে সে বিষয়ে আসার আগে বলে নিই, কেন বাংলাদেশে দ্রুত ভোট করিয়ে পালাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।যেখানে প্রধান উপদেষ্টা সিঙ্গুপুর ভিত্তিক একটি চ্যানেলের সাখ্যাতকারে বলেছিলেন যে নির্বাচন যদি আন্তজার্তিক বৈধতা না পায় তাহলে নির্বাচন করিয়ে কি লাভ। অর্থাৎ এই নির্বাচনে জামাত এনসিপি অংশ নিতে চাইছে না। কারণ এনসিপির অনেক নেতাই বলছিল যে, বিচার ছাড়া ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন হবে না কোনভাবেই। কিন্তু আইনি উপদেষ্টা পরিস্কার করে দিয়েছেন নির্বাচন ফেব্রুয়ারীতেই হবে। কারণ এই ঘোষনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববরেন্য নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূস নিজে। কিন্তু কেউ বলছেন না যে যত যাই বাংলাদেশে ঘটে যাক না কেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারীতেই হবে। তাই এত কিছুর পরও আমাদের সন্দেহ নির্বাচন এই সরকারের দ্বারা সম্ভব নয়। কিন্তু আমেরিকা চাইছে দ্রুত নির্বাচন,তাই হতেও পারে। আর আমেরিকার এই চাওয়ার পিছনে ভারতের চাপটি কি,এবার সেই বিষয়ে আসি। বাংলাদেশ গঠনে ভারত সাহায্য করেছে।বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী করে তুলেছে ভারত। বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ভারত।
আর আমেরিকা হাজার হাজার মাইল দুর থেকে ছড়ি ঘুরাবে ভারত কি তা চুপচাপ মেনে নেবে। এমনিতেই ভারতের ঘোষনা দেওয়া হয়ে গেছে সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে হামলা করা হবে। তার আগে আমেরিকার সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক ছাড়া আর সব লেনদেন বন্ধ করে দিল ভারত। ট্রাম্পের এই এত লাফা ঝাপা টেরিফ,ট্রেড ডিল, রোজ ট্যুইটে ধমকি, সব বন্ধ করে দিল ভারত। মোদিজী ট্রাম্পের কফিনে শেষ পেরেক মেরে দিয়ে জানালেন বাতিল করা হল বানিজ্য বৈঠক। এর ফলে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে কি প্রভাব পড়বে। ভারত আমেরিকা থেকে কি নেয়। কি আছে আমেরিকার। আমেরিকাতো অস্ত্র ছাড়া আর কিছু তৈরী করে না। আর কিছু ফল আসে আমেরিকা থেকে। কিন্তু ভারত থেকে আমেরিকাতে যায় খাদ্য শস্য মেডিসিন মশলা এমনকি আমেরিকার যে প্লেনগুলি উড়ে, তাদের ফুয়েলও যায় ভারত থেকে। আর ভারত আমেরিকার বানিজ্য হয় ঐ সর্বোচ্চ ৭৭ থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলারের মত। যা ভারতের জিডিপির ২ শতাংশ। ভারত কেন চীন থেকে এত ব্যবসা করে তাই নিয়ে আমেরিকার কত অভিযোগ। কেন আমেরিকার বেলায় ৭৭ বিলয়ন ডলার আর চিনের বেলায় ২০০ বিলিয়ন ডলার। চীন ভারতের চাহিদার সমস্ত বস্তুগুলিই সাপ্লাই দেয়। যেখানে আমেরিকার অস্ত্র ছাড়া আর কিছু নেই। তাও তো তার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। কেনার ক্ষেত্রেও আবার নানান ধরনের শর্ত।
ফলে ভারত যদি আমেরিকাকে বয়কট করে, তাহলে ভারতের ঐ ৭৭ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা অন্য কোথাও বা অন্য কোন দেশে করে নিতে পারবে।কিন্তু ভারত থেকে খাবার আর মেডিসিন না গেলে কি করবে ট্রাম্প। অনেকেই ভাবতে পারেন যে আমেরিকার মত দেশ ভারতের থেকে মেডিসিন না পেয়ে মারা যাবে। তারা নিশ্চয় করোনার সময় দেখেছেন এই ট্রাম্পই ভারত থেকে তাদের চাহিদা মত মেডিসিন না পাওয়া নিয়ে কত অভিযোগ করেছিলেন। ট্রাম্প তার দেশের কোম্পানি গুলিকে বলেছিলেন যে ভারতীয়দের চাকরি থেকে ছাটাই করতে। কিন্তু আমেরিকানদের মাথায় এত ঘিলু নেই যে তারা সিলিকন ভ্যালি চালিয়ে নেবে। তাই আমেরিকান কোম্পানিগুলি ট্রাম্পকে কোন পাত্তাই দেয় নি। ভারতের পাশে শুধু রাশিয়া নয়, বর্তমানে গোটা ইউরোপ এবং খুব দ্রুত চিনও ভারতের পাশে দাঁড়াবে। কারণ চিনের বিদেশ মন্ত্রী যেমন ভারতে আসছে তেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রীও চিনে যাচ্ছেন। আর আমেরিকার পাশ থেকে সরে যাচ্ছে ইউরোপ সহ বিভিন্ন দেশ।
শুধু পাকিস্তান ছাড়া, তোষামোদ করার আর কেউ নেই ট্রাম্পের পাশে । ফলে যে ধাক্কা আমেরিকা খেতে চলেছে। তা সামাল দেওয়ার জন্য শুধু বাংলাদেশ থেকে পাত্তাড়ি গোটানোই নয়। খুব শিগ্রি ট্রাম্পকে ভারতে ছুটে আসতে হবে।












Discussion about this post